০৫:০৬ এম
ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার।
নিউ জার্সির মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে ১-২ গোলে হেরে গেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে তারা। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে শেষ আটে পা রাখল। তবে পরিসংখ্যান এবং ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বলছে, প্রতিপক্ষের কৃতিত্বের পাশাপাশি ব্রাজিলের নিজেদের ভুলও উল্লেখযোগ্য।
কী সেসব ভুল? চলুন দেখে নেওয়া যাক—
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
১. রক্ষা করণীয় মনোভাব।
প্রায় পুরো ম্যাচ জুড়ে ব্রাজিল রক্ষা কেন্দ্রীয় মনোভাবে খেলেছে। বল দখলে নরওয়েকে চাপে না ফেলে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় থেকেছে, যা কার্যকর হয়নি। দলটি সারাক্ষণ প্রতিক্রিয়া প্রদানের অবস্থায় ছিল। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে যে সাহসী আক্রমণাত্মক ব্রাজিল প্রত্যাশিত ছিল, তা মাঠে দেখা যায়নি।
২. পেনাল্টি নষ্ট করার ফলাফল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারেস। ১৯৮৬ সালের পর এটাই প্রথম ব্রাজিলিয়ান বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিসের ঘটনা। এটি ইঙ্গিত দেয়, চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য তাদের সক্ষমতার ঘাটতি রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ২৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট সাময়িক স্থগিত
৩. তরুণ আক্রমণে ধারহীনতা।
বদলি হিসেবে নেমে এনদ্রিক একটি সহজ সুযোগ পেলেও সে বলটি বাইরে মেরেছে যা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারতো। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মাঝে মাঝে ঝলক থাকলেও, শেষ মুহূর্তগুলোতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।
৪. হালান্ডকে মার্কিংয়ে ব্যর্থতা।
নরওয়ের দুটি গোলই এসেছে হালান্ডের শট ও হেড থেকে। ব্রাজিলের রক্ষণভাগ তাকে ঠিকমতো নজরে রাখতে পারেনি। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে বারবার একা ছেড়ে দেওয়া রক্ষণের আত্মহত্যার শামিল।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
৫. চাপের মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তার অভাব।
শেষদিকে দেরিতে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নেইমারের গোল সমতায় ফেরানোর আশা জাগালেও, অনেক দেরি হয়ে গেছে। ব্রাজিলের শরীরী ভাষায় দ্বিধা ও অস্বস্তি ছিল। বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর জন্য মানসিক দৃঢ়তার ঘাটতি স্পষ্ট।
৬. মাঝমাঠে ব্যর্থতা।
ব্রাজিল এই ম্যাচে বলের দখল পেয়েছিল মাত্র ৩৭ শতাংশ সময়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে ছিল না। কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসরা বল পায়ে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এর ফলে নরওয়ের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে।
আরও পড়ুন: গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা
৭. নেইমারের অনুপস্থিতি।
প্রশ্ন হতে পারে, পাকেতা যখন ছিটকে গেলেন, তখন নেইমারকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে বসিয়ে রেখেছিলেন। তার উপস্থিতিতে প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো না।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের স্কোয়াডের মধ্যে প্রতিভার অভাব ছিল না। তবে তাদের সাহসী পরিকল্পনা, নিখুঁত ফিনিশিং ও চাপের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখার সক্ষমতার ঘাটতি ছিল। প্রতিপক্ষের প্রশংসার আগে, নিজেদের ভুলগুলো নিয়েই এখন আত্মসমালোচনার সময় এসেছে সেলেসাওদের।
আরও পড়ুন: দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: মৎস্যমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন