ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারাগারে অচেতন হয়ে পড়া সেই কয়েদি চিকিৎসক দ্বারা মৃত ঘোষণা


কারাগারে অচেতন হয়ে পড়া সেই কয়েদি চিকিৎসক দ্বারা মৃত ঘোষণা

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) বন্দি তরিকুল ইসলাম (৬৮) নামের একজন কয়েদির মৃত্যু ঘটেছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরের সময়, যখন তাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মৃত্যু হওয়া তরিকুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ধুয়াপাড়া মৌবন লাইনপাড়ায়। তার বাবা deceased ইসমাইল।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তরিকুল ইসলাম কারাগারের ভিতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে দুপুর ১২টার কিছু সময় পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে তরিকুল ইসলাম কোন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বা বন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে তৈরি মাদারবোর্ড যাচ্ছে আমেরিকায়, ওয়ালটন নিয়ে গর্বিত তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


দেশে তৈরি মাদারবোর্ড যাচ্ছে আমেরিকায়, ওয়ালটন নিয়ে গর্বিত তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

বাংলাদেশের নিজস্ব কারখানায় তৈরি উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশ্বমানের মাদারবোর্ড, বা পিসিবিএ (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি), এখন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হচ্ছে। গ্লোবাল টেক জায়ান্ট ওয়ালটনের তৈরি এসব মাদারবোর্ড যুক্তরাষ্ট্রে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামে ব্যবহৃত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গাজীপুরের চন্দ্রায়, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফিতা কেটে যুক্তরাষ্ট্রে এই পিসিবিএ রফতানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে রফতানিকৃত ওয়ালটন পিসিবিএ বা মাদারবোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক গানশট শনাক্তকরণ এবং জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালন সিস্টেমের সিকিউরিটি ডিভাইসে ব্যবহৃত হবে। আমেরিকার উইসকনসিন প্রদেশে অবস্থিত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান সেফপ্রো টেকনোলজিস ইনকরপোরেশন ওয়ালটনের তৈরি এই মাদারবোর্ড আমদানি করছে। আমেরিকার স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সব ধরনের মানুষের জীবন রক্ষা করার জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহে সেফপ্রো টেকনোলজিস ইনকরপোরেশনের ব্যাপক সুনাম রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘ওয়ালটন সত্যিই এক বিস্ময়। ওয়ালটন যে এত সুন্দর এবং সুবিশাল এক দেশীয় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলেছে, তা দেখে আমরা অভিভূত। ওয়ালটন অসংখ্য ধরনের ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন করছে। বাংলাদেশও যে বিশ্বমানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন করতে পারে, তা ওয়ালটন প্রমাণ করেছে। ওয়ালটন বাংলাদেশের গর্ব।’

দেশীয় শিল্পের প্রসারে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দেশীয় শিল্পকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমরা দেশে উৎপাদিত পণ্যকে করমুক্ত করার চেষ্টা করেছি। কীভাবে বাংলাদেশি শিল্প ও পণ্যকে আরও উৎসাহিত করা যায়, সেজন্য আমরা কর কাঠামোতে বিশেষ নজর দিচ্ছি।’

এর আগে, ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে পৌঁছালে অতিথিদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। তারা প্রথমে ওয়ালটনের ওপর নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি উপভোগ করেন এবং সুসজ্জিত প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন। পরে অতিথিরা ওয়ালটনের মাদারবোর্ড (এসএমটি), টেলিভিশন প্যানেল ক্লিন রুম, পিসিবি, মোল্ড অ্যান্ড ডাই ইত্যাদি পণ্যের উৎপাদন ইউনিটগুলো ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, এবং পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী এবং এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি।

নিজস্ব ও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি, বিশ্বের নানান দেশে পিসিবিএসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য রফতানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের ৫৫টিরও বেশি দেশে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত এসব পণ্য রফতানি হচ্ছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্থাপিত কারখানায় ফ্রিজ, কম্প্রেসার, টিভি, এসি, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন উচ্চমানের পণ্য তৈরি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জা ফখরুল মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


মির্জা ফখরুল মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন

স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সরকারি সফরে যান। সফরের সময় তিনি ফুলদি নদীর ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের স্থান পরিদর্শন করেছেন, যা ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে।

মন্ত্রীর সফরকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাফছা নাদিয়া, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সামিউল আরেফিন এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

এছাড়া, এর আগে মন্ত্রী ভবেরচর বাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সংলগ্ন গ্রামীণ বাজার মার্কেট উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। সফর শেষে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর অভিমুখে যাত্রা করেন।

সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টায় ঢাকা শহরের হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে সড়কপথে গজারিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন মন্ত্রী। সকাল ৯টায় গজারিয়া উপজেলা পরিষদে পৌঁছে তিনি পরিষদ পরিদর্শন করেন। বেলা ১১টায় উত্তর ইসলামপুরের মোয়ারচর কাঠেরপুল এলাকায় পরিদর্শন করেন। পরে তিনি সার্কিট হাউজে গিয়ে জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করবেন। দুপুরে সার্কিট হাউজে বিরতির পর পুনরায় গজারিয়ায় গিয়ে উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সভা করবেন এবং বিকেলে ঢাকা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

এই সফরের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিউবায় বড় অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে, খুলছে মুক্তবাজারের দুয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


কিউবায় বড় অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে, খুলছে মুক্তবাজারের দুয়ার

দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কিউবা বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে। দেশটির ক্ষমতাসীন কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি একটি নজিরবিহীন অর্থনৈতিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যা কিউবার অর্থনৈতিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রকাশ করছে।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিষদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) উপস্থাপিত এই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেসরকারি খাতের পরিসর বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খুব সহজেই পাস হবে।

প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য। একই সঙ্গে প্রবাসী কিউবানদের জন্য বিনিয়োগের পথও সহজ হবে। আবাসন খাতকে বেসরকারি উদ্যোগের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আংশিক বা পূর্ণ বেসরকারিকরণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এমনকি, দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ব্যাংকের প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্বীকার করেছেন, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য শুধু বাইরের চাপ দায়ী নয়। তিনি জানান, ধীরগতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিউবার ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে সেই চাপ আরও বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে, দিয়াজ-কানেল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও সংকটকে গভীর করেছে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিউবার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়িয়েছে। তারা কিউবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন’-এর অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে এবং গভীর সংস্কারের দাবি তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে কিউবার অর্থনীতি ধীরে ধীরে একটি মিশ্র ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়ে উঠতে পারে। তবে, কমিউনিস্ট পার্টির ভেতর থেকেই এ নিয়ে কিছু বিরোধিতার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও, কিউবার সরকার মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্কারের বিকল্প নেই। প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের ভাষ্যমতে, “সব সিদ্ধান্তে সবাই একমত হবে না, কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন থামিয়ে রাখা যাবে না।”

তথ্য সূত্র- ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেন: নিউইয়র্ক টাইমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেন: নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রায় চার মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তির প্রাথমিক যে রূপরেখা এসেছে, তা স্বাগতম জানানো হলেও এর মধ্য দিয়ে বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতা সামনে এসেছে।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক- তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপে পড়েছে। এর ফলে ওয়াশিংটনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।

সমালোচকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে একটি বড় কৌশলগত ভুল ছিল। তারা বলছেন, আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালিত এই অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ হয়নি। তবে ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী, ট্রাম্প যে কঠোর শর্তগুলো আদায়ের কথা বলেছিলেন, তার বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি আপসের সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করবে এবং ইরানকে ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ করতে হবে। তিনি ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন। পাশাপাশি দাবি করেছিলেন, ইরানকে কোনওভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।

তবে যুদ্ধ শেষে দেখা যাচ্ছে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এখনও টিকে আছে। পারমাণবিক ইস্যুতে আগামী দুই মাস ধরে আলোচনার কথা থাকলেও বর্তমান চিত্রে এটি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির কাছাকাছি কোন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা ওই চুক্তিকে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ২০১৮ সালে বাতিল করেছিলেন। তিনি এটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, ওই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দিচ্ছে এবং দেশটিকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা বন্ধ করতে বাধ্য করছে না। তবে সামরিক সংঘাতের পর এখন প্রায় একই ধরনের সমঝোতার পথে যেতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্পের একমাত্র বড় সাফল্য? যুদ্ধবিরতির রূপরেখায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমতে পারে এবং তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া। ইরান বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করেছিল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরান দেখিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাদের এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

চার মাসের যুদ্ধে ইরানও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির সামরিক অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষে ইরান নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের দীর্ঘদিনের সংকটগুলোও এখনও রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা, মুদ্রার মূল্যহ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ দেশটিকে দুর্বল অবস্থায় রেখেছে। তবে যুদ্ধের আগে যে কূটনৈতিক অবস্থান ছিল না, সংঘাতের পর ইরান সেটি ফিরে পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইরান দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও তারা টিকে থাকতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতাও তারা প্রমাণ করেছে।

এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিপুল সামরিক শক্তি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

এতে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব নিয়ে নতুন হিসাব তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নও জরুরি হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধের আগে দুর্বল ছিল ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলের অভিযানে হামাস ও ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত সরকারও পতনের মুখে পড়ে।

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ এবং অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর ইরান নতুন করে দর-কষাকষির অবস্থানে ফিরেছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- ভবিষ্যতে যদি ইরান আবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দেয়, তখন যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%