ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিউবায় বড় অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে, খুলছে মুক্তবাজারের দুয়ার


কিউবায় বড় অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে, খুলছে মুক্তবাজারের দুয়ার

দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কিউবা বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে। দেশটির ক্ষমতাসীন কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি একটি নজিরবিহীন অর্থনৈতিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যা কিউবার অর্থনৈতিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রকাশ করছে।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিষদে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) উপস্থাপিত এই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বেসরকারি খাতের পরিসর বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খুব সহজেই পাস হবে।

প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য। একই সঙ্গে প্রবাসী কিউবানদের জন্য বিনিয়োগের পথও সহজ হবে। আবাসন খাতকে বেসরকারি উদ্যোগের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আংশিক বা পূর্ণ বেসরকারিকরণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এমনকি, দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ব্যাংকের প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদির কাছে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে ঢাকা এখনও জবাব পায়নি

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল স্বীকার করেছেন, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য শুধু বাইরের চাপ দায়ী নয়। তিনি জানান, ধীরগতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিউবার ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে সেই চাপ আরও বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে, দিয়াজ-কানেল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও সংকটকে গভীর করেছে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিউবার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়িয়েছে। তারা কিউবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন’-এর অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে এবং গভীর সংস্কারের দাবি তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে কিউবার অর্থনীতি ধীরে ধীরে একটি মিশ্র ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়ে উঠতে পারে। তবে, কমিউনিস্ট পার্টির ভেতর থেকেই এ নিয়ে কিছু বিরোধিতার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও, কিউবার সরকার মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্কারের বিকল্প নেই। প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের ভাষ্যমতে, “সব সিদ্ধান্তে সবাই একমত হবে না, কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন থামিয়ে রাখা যাবে না।”

তথ্য সূত্র- ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট।

আরও পড়ুন: আবারও সাংবাদিকের ওপর খেপলেন ট্রাম্প, নেপথ্যে স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেন: নিউইয়র্ক টাইমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে হেরে গেছেন: নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রায় চার মাসব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তির প্রাথমিক যে রূপরেখা এসেছে, তা স্বাগতম জানানো হলেও এর মধ্য দিয়ে বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতা সামনে এসেছে।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক- তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপে পড়েছে। এর ফলে ওয়াশিংটনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।

সমালোচকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে একটি বড় কৌশলগত ভুল ছিল। তারা বলছেন, আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালিত এই অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ হয়নি। তবে ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী, ট্রাম্প যে কঠোর শর্তগুলো আদায়ের কথা বলেছিলেন, তার বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি আপসের সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করবে এবং ইরানকে ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ করতে হবে। তিনি ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন। পাশাপাশি দাবি করেছিলেন, ইরানকে কোনওভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।

তবে যুদ্ধ শেষে দেখা যাচ্ছে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো এখনও টিকে আছে। পারমাণবিক ইস্যুতে আগামী দুই মাস ধরে আলোচনার কথা থাকলেও বর্তমান চিত্রে এটি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির কাছাকাছি কোন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা ওই চুক্তিকে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ২০১৮ সালে বাতিল করেছিলেন। তিনি এটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, ওই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দিচ্ছে এবং দেশটিকে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতা বন্ধ করতে বাধ্য করছে না। তবে সামরিক সংঘাতের পর এখন প্রায় একই ধরনের সমঝোতার পথে যেতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

হরমুজ প্রণালী: ট্রাম্পের একমাত্র বড় সাফল্য? যুদ্ধবিরতির রূপরেখায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমতে পারে এবং তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া। ইরান বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করেছিল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরান দেখিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাদের এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

চার মাসের যুদ্ধে ইরানও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির সামরিক অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষে ইরান নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের দীর্ঘদিনের সংকটগুলোও এখনও রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থা, মুদ্রার মূল্যহ্রাস এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ দেশটিকে দুর্বল অবস্থায় রেখেছে। তবে যুদ্ধের আগে যে কূটনৈতিক অবস্থান ছিল না, সংঘাতের পর ইরান সেটি ফিরে পেয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইরান দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যেও তারা টিকে থাকতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতাও তারা প্রমাণ করেছে।

এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিপুল সামরিক শক্তি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

এতে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব নিয়ে নতুন হিসাব তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নও জরুরি হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধের আগে দুর্বল ছিল ইরান। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। ইসরায়েলের অভিযানে হামাস ও ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত সরকারও পতনের মুখে পড়ে।

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ এবং অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর ইরান নতুন করে দর-কষাকষির অবস্থানে ফিরেছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- ভবিষ্যতে যদি ইরান আবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি দেয়, তখন যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোহিত সাগর নিয়ন্ত্রণে ইস-রা-য়েলের নতুন উদ্যোগ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


লোহিত সাগর নিয়ন্ত্রণে ইস-রা-য়েলের নতুন উদ্যোগ!

সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ‘সিরো’ ইসরায়েল সফরকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

এটি ইসরায়েলের দ্বারা প্রথমবারের মতো সোমালিল্যান্ডের কোনো নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানো হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মন্তব্য, এই উদ্যোগের পিছনে কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্বও বেশ বড় ভূমিকা পালন করছে।

গত রবিবার সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ জেরুজালেমে পৌঁছান। এটি ছিল কোনও সোমালিল্যান্ড নেতার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর, যা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে আবদুল্লাহ বলেন, “আমি সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছি। ৩৫ বছর ধরে আমরা বিশ্বকে আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছি। ইসরায়েল এবং আপনি নিজে প্রথম আমাদের দেখেছেন ও স্বীকৃতি দিয়েছেন।”

নেতানিয়াহু এই স্বীকৃতিকে ইহুদি ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আমরাও একটি ছোট জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্বের কাছে নিজেদের অধিকারের স্বীকৃতি চেয়েছিলাম। তাই আপনাদের প্রতি আমাদের স্বাভাবিক সহানুভূতি রয়েছে।”

কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্বে

সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উভয় দেশ জানিয়েছে, এই সম্পর্ক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য ও আঞ্চলিক কৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে।

সোমালিল্যান্ড আফ্রিকার হর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনের বিপরীতে এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই দেশটি, লোহিত সাগরের নিকटবর্তী এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে।

নেতানিয়াহুও বৈঠকে উল্লেখ করেছেন যে, সোমালিল্যান্ডের অবস্থান বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে, যা লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য এই জলপথের গুরুত্ব অনেক।

ইসরায়েলের জন্য এই অঞ্চল আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ গত দুই বছর ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত দিক হল নিরাপত্তা সহযোগিতা। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার জানুয়ারিতে সোমালিল্যান্ড সফরের সময় বলেছিলেন, দুই দেশ একটি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সোমালিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েল ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য সোমালিল্যান্ডে সামরিক অবকাঠামো নির্মাণে আগ্রহী। তবে সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানাননি।

সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান আবদুল্লাহ ইসরায়েলি গণমাধ্যম আই২৪-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বর্তমানে সামরিক ঘাঁটির স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছি না।”

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সোমালিল্যান্ডের বৃহত্তম উপকূলীয় শহর বারবেরা। এ শহরের বিমানবন্দরটি আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন নির্মাণ করেছিল এবং পরে নাসা এটি ব্যবহার করেছিল। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এটির সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ‘গোপনে বিভিন্ন কার্যকমে’ সহযোগিতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও উচ্চ পর্যায়ের দিকে যাবে।

সোমালিয়ার উদ্বেগ

সোমালিয়া ইসরায়েল-সোমালিল্যান্ড সম্পর্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমালিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী ওমর বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো- সোমালিল্যান্ড যেন ইসরায়েলের আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে।

তিনি বলেন, “এই ধরনের হস্তক্ষেপ একটি অঞ্চলে নতুন সংঘাত তৈরি করতে পারে, যা ইতোমধ্যে অনেক সমস্যার মধ্যে রয়েছে।”

সোমালিয়া জানায়, তারা সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সংলাপের জন্য সবসময় প্রস্তুত, তবে দেশের অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনও আপস করবে না।

১৯৯১ সালে সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধের পর থেকে সোমালিল্যান্ড নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। তবে বহু দেশ এখনো এটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ইসরায়েলের স্বীকৃতির ফলে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন গুরুত্ব লাভ করেছে।

জেরুজালেমে দূতাবাস খোলা নিয়ে বিতর্ক

সফরের সময় সোমালিল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস খুলেছে। অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার উপস্থিত ছিলেন।

বেশিরভাগ দেশ আন্তর্জাতিক বিরোধের কারণে জেরুজালেমের মর্যাদার ক্ষেত্রে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রাখে। ইসরায়েল জেরুজালেমের পুরো অঞ্চলের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতি পায়নি।

সোমালিল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিন, আরব লীগ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)সহ একাধিক দেশ ও সংগঠনের দেওয়া নিন্দার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েলের লক্ষ্য সম্ভবত লোহিত সাগর?

দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক মোসেস ক্রিসপাস ওকেলো বলেন, “ইসরায়েলের আসল লক্ষ্য শুধু সোমালিল্যান্ড নয়, বরং এটি লোহিত সাগর।”

তার মতে, ইসরায়েল বর্তমানে আঞ্চলিকভাবে আরও বিচ্ছিন্নতার জাতীয়তায় পড়েছে। তাই সোমালিল্যান্ডের মতো একটি কৌশলগত অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।

সোমালিল্যান্ডে বিতর্কের সূচনা

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত সোমালিল্যান্ডে ব্যাপক সমর্থন পেলেও, এতে বিরোধিতাও তৈরি হয়েছে।

সোমালিল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুসে বিহি আবদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করতে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, সোমালিল্যান্ডকে কোনও আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতে ব্যবহার করা হতে পারে।

তিনি বলেন, “আমাদের সংবিধান এমন কোনও পদক্ষেপ অনুমোদন করে না, যা মুসলিম জনগণের ক্ষাতি করে বা ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায়।”

দেশটির ইসলামি আলেমদের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু ব্যক্তি সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানাচ্ছেন, আবার অনেকে কঠোর সমালোচনা করছেন।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া

সোমালিল্যান্ড আশা করেছিল, ইসরায়েলের পর আরও আরও কিছু দেশ তাদের স্বীকৃতি দেবে। কিন্তু এখনও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কোনো দেশ সেরকম পথে হাঁটেনি।

সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি ও আরব লীগ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইয়েমেনের হুথিরা সবচেয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলিরা উপস্থিত হলে সেটিকে তারা ‘সামরিক লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

তবে সোমালিল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে তারা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।

চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ইয়োসী মেকেলবার্গ বলেন, “এই সম্পর্ক দুই পক্ষকেই কিছু সুবিধা দেবে, তবে এটি তাদের মূল সমস্যার সমাধান করবে না। ইসরায়েল ফিলিস্তিন ইস্যু এড়িয়ে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে, আর সোমালিল্যান্ডও এই সম্পর্ক থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করছে।” সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

 দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। গতকাল শুক্রবার শ্রীপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় বক্তারা এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন।

তারা জানিয়েছেন, 'সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনে বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন-প্রবণ অঞ্চলের লোকজন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন।

এই পরিস্থিতিতে, প্রয়োজনভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু-আক্রান্ত কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি গ্রহণ করে তাদের সক্ষমতার উন্নয়ন করার কোনো বিকল্প নেই।'

শুক্রবার বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের হলরুমে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তারা এসব মন্তব্য করেন।

কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সহযোগিতায় এবং দেশব্যাপী কর্মরত এনজিও গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট প্রজেক্টের অধীনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান তুলি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। সরকারি কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এনজিও কর্মীরা কর্মশালায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বিস্তারিত আলোচনা শেষে সুপারিশ প্রদান করেন যে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রবণ অঞ্চলের জনগণের জন্য শিক্ষিত ও অভিযোজনক্ষম করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

তারা জলবায়ু-আক্রান্ত জনগণের জলবায়ু সহনশীলতার সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলায় প্রকল্পের সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইউএনও সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা এবং সহযোগিতা প্রদানের কথাও ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার ২০টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি কার্যকর হচ্ছে। প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবর গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ পি.এম


জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবর গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে বহুল আলোচিত র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবরকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭।

শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১৮ জুন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে র‍্যাব-৭ এর একটি অভিযানিক দল সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমূল ১ নম্বর সমাজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলী আকবর (২৬) সীতাকুণ্ড উপজেলার ছিন্নমূল ৪ নম্বর সমাজ এলাকার বাসিন্দা এবং আলী আহমদের ছেলে।

র‍্যাব-৭ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, সীতাকুণ্ড থানার র‍্যাব হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আলী আকবরকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৫৩, ৩৩২, ২২৪, ২২৫, ৩৩৩, ৩০৭, ৩৮৬, ৩৬৪, ৩৪২, ৪২৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলী আকবরকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%