বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১০:৫০ পি.এম
বগুড়ার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ শাহজাহান কবির ঢাকা মহানগর দায়রা জজ হিসেবে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। রবিবার (২১ জুন) রাতে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব মো. মাসুম বিল্লাহ কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার জন্য বলা হয়েছে।
বগুড়ার আদালতের সিনিয়র আইনজীবী ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ জানান, বিচারক শাহজাহান কবির এর বদলীর আদেশ হওয়ার কারণে বগুড়া জেলা এ্যাডভোকেট বার সমিতি এবং সেখানে কর্মরত জজ আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৃথকভাবে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করেন। তিনি যখন বগুড়ায় যোগদান করেছিলেন, তখন ন্যায় বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনিও চেষ্টা করেছেন। তাঁর বিচারিক কার্যক্রমে বগুড়ার আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনিকভাবে বিচারক শাহজাহান কবির বগুড়ায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে জেলার সকল আদালতের বিচারকদের সাথে সমন্বয় সাধন করে কাজ করেছেন।
সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া বিচারক মোঃ শাহজাহান কবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তিনি ১৮তম বিসিএস (বিচার) ক্যাডারের মাধ্যমে বিচার বিভাগে নিয়োগ পান। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ঢাকার বিভিন্ন আদালতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া, বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদানের আগে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক (প্রসিকিউশন) এবং নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুনের শুরু থেকে কার্যকর হওয়া বিদ্যুতের নতুন মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের ২০০ বা তার চেয়েও বেশি ডিজিটের টোকেনের মাধ্যমে মিটার আপডেট করার নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি জানানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে যে নির্দেশনা রয়েছে, সেটি অনুসরণ করে মিটার আপডেট করতে সক্ষম হবেন। যদি এ বিষয়ে কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার হটলাইনে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা নম্বর ১৬৯৯৯ ছাড়াও বিপিডিবি (১৬২০০), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (১৬৮৯৯), ডিপিডিসি (১৬১১৬), ডেসকো (১৬১২০), নেসকো (১৬৬০৩) এবং ওজোপাডিকো (১৬১১৭) কল সেন্টারে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জরিনা খাতুন, তিন সন্তানের জননী অসহায় নারী, চন্ডিগড় গ্রামের বাসিন্দা, তিনি বলেন, "আমার তিনডা পুলাপাইন, স্বামী নাই, আমার প্রতিবন্ধি মাইয়ারে বাঁইন্ধা রাইখা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্টে একটা মাইয়ারে লেখাপড়া করাইছিলাম। কিন্তু ভাঙাচোরা (ঝুপড়ি) ঘরে থাকতাম, বিয়ের কথা আইতো না। এহন ভালো একটা ঘর অইছে, বিয়া দিতে পারবাম আমার মাইয়ারে। কায়সার কামাল স্যার আমারে এই ঘরডা কইরা দিছে, আমি দোয়া করি তার জন্য আপনেরাও দোয়া করবাইন।" বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে নতুন ঘর পেয়ে তিনি খুব খুশি। তার জীবনের দুর্দশার খবর পেয়ে ব্যক্তিগত অর্থায়নে নতুন ঘর করেদেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। জরিনা খাতুন জানিয়েছেন, তার আগের বসতঘরটি ছিল ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলেই ঘরের বাইরে পড়ার আগেই যেন তার ঘরের ভেতরে পানি পড়ত। সেই ঘরেই প্রতিবন্ধি সন্তানসহ অন্যদের নিয়ে ভিজেই দিন-রাত পার করতে হতো তাকে। এমনকি বড় মেয়ের বিয়ের কথাও আসলে ঘরের জন্য বিয়ে হচ্ছিল না। তার কষ্টে জীবনযাপনের একটি ভিডিও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে এলে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেন। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে জরিনা খাতুন বলেন, "আগে ভাঙা ঘর আছিল, মাইয়ার বিয়া দিতে পারি নাই। এখন ঘর পাইছি, আমি অনেক খুশি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি। এহন মেয়ের বিয়ে দিতে পারুম।" নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন জরিনা খাতুন নিজেই। এই সময় গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। জরিনার মতো একজন অসহায় নারীর জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় খুশি স্থানীয়রাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলায় সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি ২৩ শে জুন মঙ্গলবার থেকে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউএক চাষী ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী দুই ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) নেত্রকোনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বারটানের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অঞ্চল প্রধান ড. মোসা. আলতাফ-উন-নাহার। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, উপপরিচালক ও জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, বারটান এর সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণও ছিলেন।
প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ছিল খাদ্য, পুষ্টি, ফলিত পুষ্টি, সুষম খাবার, খাদ্যের উপাদান, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, আঁশ জাতীয় খাদ্য, রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য, স্নেহ জাতীয় খাদ্য, খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা, প্রাণিজ পুষ্টির উৎস ও প্রয়োজনীয়তা, নিরাপদ মৎস্য চাষ এবং পুষ্টি নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে ফলিত পুষ্টির গুরুত্ব। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষক, বাউএকের কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক, ইমাম, এনজিওকর্মী এবং কৃষক-কৃষাণীসহ ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এ কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেছেন, আমি বিশ্বের ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। আমরা মোট ঋণের ৬ শতাংশ খেলাপি হলে অনেকটা আঘাত পেতাম। কিন্তু বাংলাদেশে খেলাপির পরিমাণ ৬১ শতাংশ। ফলে ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণরূপে বেহাল হয়ে পড়েছে।
তিনি যোগ করেন, ব্যাংকের বিষয়ে যদি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি আশা করা ভুল। আমি আশা করি, অর্থমন্ত্রী এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কারণ আমাদের ব্যাংকিং দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি এই সময় বিরোধী দলের সদস্যদের টেবিলে চাপড়াতে দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে আলোচনা করা অবস্থায় এসব কথা বলেন রেজা কিবরিয়া। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের দক্ষতা খুবই কম। কারণ, আমরা জনগণ থেকে টাকা নিয়ে ৫ শতাংশ সুদে, অথচ সৎ ব্যবসায়ীদের ঋণ নিতে গেলে ১৪ বা ১৬ শতাংশ বলে থাকি। এজন্য আমাদের ব্যাংকিং খাত কার্যকর না। ব্যাংকিং সেক্টর যদি দক্ষ হতে পারত, তবে যে রেটে লোক টাকা নিয়ে আসে, সেই কাছাকাছি রেটে, যেন ৪ বা ৬ শতাংশ সুদ থাকে। সৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছেন না। আমাদের ডিফল্ট সিস্টেমে আমরা পরিবর্তন এনেছি। আগে ৯০ দিন সুদ পরিশোধ না করলে ডিফল্ট বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু এখন আমরা ১ বছর সুদ পরিশোধ না করলে ডিফল্ট বলি।
অর্থনীতি খাতে ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রেজা কিবরিয়া মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কম রাখাটা শ্রেয়। প্রতিবছর আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট কমছে। এর কারণ হচ্ছে—আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আমাদের মুদ্রাস্ফীতির পার্থক্যের উপর সবকিছু নির্ভর করে। যদি আমাদের মুদ্রাস্ফীতি ১০ এবং আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতি ৩ হয়, তাহলে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট সাত শতাংশ কমে যাবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান মন্থরতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির অগ্রগতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে যা বিস্ময়ের কিছু নয়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন বিএনপির এই এমপি। ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, দেশের মোট ঋণের পরিমাণ এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং এটি জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। ঋণ পরিশোধে প্রায় ২০ শতাংশ ব্যয় হয়। তবে তিনি বাণিজ্যিক বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরতা বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ