বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১০:৫৪ পি.এম
জরিনা খাতুন, তিন সন্তানের জননী অসহায় নারী, চন্ডিগড় গ্রামের বাসিন্দা, তিনি বলেন, "আমার তিনডা পুলাপাইন, স্বামী নাই, আমার প্রতিবন্ধি মাইয়ারে বাঁইন্ধা রাইখা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্টে একটা মাইয়ারে লেখাপড়া করাইছিলাম। কিন্তু ভাঙাচোরা (ঝুপড়ি) ঘরে থাকতাম, বিয়ের কথা আইতো না। এহন ভালো একটা ঘর অইছে, বিয়া দিতে পারবাম আমার মাইয়ারে। কায়সার কামাল স্যার আমারে এই ঘরডা কইরা দিছে, আমি দোয়া করি তার জন্য আপনেরাও দোয়া করবাইন।" বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে নতুন ঘর পেয়ে তিনি খুব খুশি। তার জীবনের দুর্দশার খবর পেয়ে ব্যক্তিগত অর্থায়নে নতুন ঘর করেদেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি। জরিনা খাতুন জানিয়েছেন, তার আগের বসতঘরটি ছিল ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলেই ঘরের বাইরে পড়ার আগেই যেন তার ঘরের ভেতরে পানি পড়ত। সেই ঘরেই প্রতিবন্ধি সন্তানসহ অন্যদের নিয়ে ভিজেই দিন-রাত পার করতে হতো তাকে। এমনকি বড় মেয়ের বিয়ের কথাও আসলে ঘরের জন্য বিয়ে হচ্ছিল না। তার কষ্টে জীবনযাপনের একটি ভিডিও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে এলে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেন। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে জরিনা খাতুন বলেন, "আগে ভাঙা ঘর আছিল, মাইয়ার বিয়া দিতে পারি নাই। এখন ঘর পাইছি, আমি অনেক খুশি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি। এহন মেয়ের বিয়ে দিতে পারুম।" নতুন ঘরের উদ্বোধন করেন জরিনা খাতুন নিজেই। এই সময় গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। জরিনার মতো একজন অসহায় নারীর জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় খুশি স্থানীয়রাও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলায় সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি ২৩ শে জুন মঙ্গলবার থেকে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউএক চাষী ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী দুই ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) নেত্রকোনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পক্ষ থেকে।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বারটানের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অঞ্চল প্রধান ড. মোসা. আলতাফ-উন-নাহার। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, উপপরিচালক ও জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, বারটান এর সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণও ছিলেন।
প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু ছিল খাদ্য, পুষ্টি, ফলিত পুষ্টি, সুষম খাবার, খাদ্যের উপাদান, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, আঁশ জাতীয় খাদ্য, রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য, স্নেহ জাতীয় খাদ্য, খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা, প্রাণিজ পুষ্টির উৎস ও প্রয়োজনীয়তা, নিরাপদ মৎস্য চাষ এবং পুষ্টি নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে ফলিত পুষ্টির গুরুত্ব। তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষক, বাউএকের কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক, ইমাম, এনজিওকর্মী এবং কৃষক-কৃষাণীসহ ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এ কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেছেন, আমি বিশ্বের ৩৫টি দেশে কাজ করেছি। আমরা মোট ঋণের ৬ শতাংশ খেলাপি হলে অনেকটা আঘাত পেতাম। কিন্তু বাংলাদেশে খেলাপির পরিমাণ ৬১ শতাংশ। ফলে ব্যাংকিং খাত সম্পূর্ণরূপে বেহাল হয়ে পড়েছে।
তিনি যোগ করেন, ব্যাংকের বিষয়ে যদি কড়া পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি আশা করা ভুল। আমি আশা করি, অর্থমন্ত্রী এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কারণ আমাদের ব্যাংকিং দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি এই সময় বিরোধী দলের সদস্যদের টেবিলে চাপড়াতে দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে আলোচনা করা অবস্থায় এসব কথা বলেন রেজা কিবরিয়া। এ সময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের দক্ষতা খুবই কম। কারণ, আমরা জনগণ থেকে টাকা নিয়ে ৫ শতাংশ সুদে, অথচ সৎ ব্যবসায়ীদের ঋণ নিতে গেলে ১৪ বা ১৬ শতাংশ বলে থাকি। এজন্য আমাদের ব্যাংকিং খাত কার্যকর না। ব্যাংকিং সেক্টর যদি দক্ষ হতে পারত, তবে যে রেটে লোক টাকা নিয়ে আসে, সেই কাছাকাছি রেটে, যেন ৪ বা ৬ শতাংশ সুদ থাকে। সৎ ব্যবসায়ীরা ঋণ পাচ্ছেন না। আমাদের ডিফল্ট সিস্টেমে আমরা পরিবর্তন এনেছি। আগে ৯০ দিন সুদ পরিশোধ না করলে ডিফল্ট বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু এখন আমরা ১ বছর সুদ পরিশোধ না করলে ডিফল্ট বলি।
অর্থনীতি খাতে ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রেজা কিবরিয়া মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কম রাখাটা শ্রেয়। প্রতিবছর আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট কমছে। এর কারণ হচ্ছে—আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আমাদের মুদ্রাস্ফীতির পার্থক্যের উপর সবকিছু নির্ভর করে। যদি আমাদের মুদ্রাস্ফীতি ১০ এবং আমাদের ট্রেডিং পার্টনারের মুদ্রাস্ফীতি ৩ হয়, তাহলে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেট সাত শতাংশ কমে যাবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান মন্থরতার মধ্যে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে বাজেট প্রণয়ন করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির অগ্রগতির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রতি ছয় মাস অন্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে যা বিস্ময়ের কিছু নয়।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন বিএনপির এই এমপি। ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, দেশের মোট ঋণের পরিমাণ এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং এটি জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। ঋণ পরিশোধে প্রায় ২০ শতাংশ ব্যয় হয়। তবে তিনি বাণিজ্যিক বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরতা বাড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর একটি ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কংগ্রেসটি কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আর্থিক উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব আরোপ করে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই কংগ্রেসের আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এটি বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি ও আইএফএডির সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. আলমগীর কবীর। এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এটিএম ফায়েজুর রাজ্জাক আকন্দ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাজিবুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সোহেল রানা, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রুকুন উজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান, মো. ওয়াহিদ উজ্জামান নূর, সাংবাদিক মো. গোলাম রব্বানী টিটু এবং কৃষক মো. ওসমান গনি। প্রধান অতিথি মো. আলমগীর কবীর তার বক্তব্যে বলেন, ‘পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা। দেশের কৃষিকে খোরপোষভিত্তিক পর্যায় থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন জাতের সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ, খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এ কংগ্রেসের অন্যতম উদ্দেশ্য। কংগ্রেসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং কৃষি খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। এর সাথে উন্নত জাতের ফসল ও কৃষিপণ্যের প্রদর্শনী স্টল দর্শনার্থীদের আগ্রহ আকর্ষণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের শ্রীবরদীতে জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ অবহতিকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিটামিন 'এ' খাওয়ান শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমান এ স্লোগানকে সামনে রেখে। বৃহস্পতিবার (২৫জুন) সকালে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হল রুমে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মোহাম্মাদ মফিদুল ইসলাম। শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমটি-ইপিআই ইনচার্জ মোনতাসির আহমেদ লিয়াজের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রহিম দুলাল, প্রেস ক্লাব শ্রীবরদীর সভাপতি এজেএম আহছানুজ্জামান ফিরোজ এবং শ্রীবরদী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সামান্তা ফেরদৌস।
উপস্থিত অনুষ্ঠানে সেশন পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অমিও জ্যোতি সাইফুল্লাহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ