১০:৪৩ এম
একটি নারীকে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে শারীরিক জটিলতায় ভোগার অভিযোগে ৬৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের করাচির একটি আদালত। আদালত বলেছেন, করাচির সিভিল হাসপাতালকে ৬০ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিভিল হাসপাতাল করাচির বিরুদ্ধে নাজমা রিজওয়ান নামে ওই নারী ক্ষতিপূরণ মামলা করেছিলেন। মামলার শুনানি শেষে সিনিয়র সিভিল জজ (সাউথ) হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলার নথি ও আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য রিজওয়ান সিভিল হাসপাতালে ভর্তি হন।
আরও পড়ুন: ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের আহ্বান
সেখানে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তিন দিন পর, ৬ নভেম্বর, উনাকে হাসপাতাল থেকে মুক্ত করা হয়। তবে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তার পেটে ব্যথা ও ফোলা দেখা দেয়।
এর সাথে আরো কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রিজওয়ান অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অভিযোগ করেন যে, সিভিল হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সঠিকভাবে করা হয়নি।
আদালতে রিজওয়ানের আইনজীবী দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার শরীরে আরো কয়েকটি জটিলতা তৈরি হয়। এজন্যপরবর্তীতে তাকে অতিরিক্ত চিকিৎসা নিতে হয়েছে এবং শারীরিক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
মামলার শুনানি শেষে আদালত রিজওয়ানের পক্ষে রায় দেন। আদালত সিভিল হাসপাতাল করাচিকে ৬০ দিনের মধ্যে ৬৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেন। এর আগের দিনও করাচির একটি আদালত চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে একটি বেসরকারি হাসপাতালকে এক নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই হাসপাতালকে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং মামলার খরচ হিসেবে আরো ২ লাখ রুপি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত আরো প্রায় ১৮ লাখ পাকিস্তানি রুপির একটি অতিরিক্ত বিল বাতিল করে দেন। ওই নারী হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নিম্নমানের সেবা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের সাংবাদিকতা করার অনুমতি নেই: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান
তবে কোমরের হাড়ের জোড়া বদলের অস্ত্রোপচারের জন্য দেওয়া ২২ লাখ পাকিস্তানি রুপি ফেরত চেয়ে তার দাবি আদালত খারিজ করে দেন। একইভাবে নার্সের সেবা, ফিজিওথেরাপি ও ওষুধের জন্য ৪৫ লাখ ১৬ হাজার পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা একটি দাবি আদালত খারিজ করেন। এআরওয়াই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মামলার শুনানিতে হাসপাতালের নিজস্ব চিকিৎসকও ব্যাখ্যা করতে পারেননি, কীভাবে শুরুতে সঠিক জায়গায় থাকা একটি ক্যাথেটার পরে একটি ধমনির ভেতরে চলে গেল। বিষয়টি আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। করাচির সাম্প্রতিক দুটি মামলায় চিকিৎসা ও হাসপাতালসেবায় অবহেলার অভিযোগ নিয়ে আদালতের এমন সিদ্ধান্ত এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন