১১:০৩ এম
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সরাসরি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব টিবেটান স্টাডিজের (আইএটিএস) ১৭তম সেমিনার এখন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে চীনের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক চাপের মধ্যে, যেখানে নেপাল সরকার কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটিকে এই আন্তর্জাতিক একাডেমিক আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
ফায়ুলের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সেমিনারটি আগামী ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৭০০-এর বেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের কাঠমান্ডুতে আসার পরিকল্পনা ছিল। তিব্বত ও হিমালয় নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ছিল। আইএটিএসের বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাঠমান্ডুতে সরাসরি সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ৩ আগস্ট কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
নেপালের প্রধান সচিব গোবিন্দ বাহাদুর কার্কি এবং পররাষ্ট্র সচিব অমৃত বাহাদুর রাই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ঋষিকেশ ওয়াগলে, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. রাজীব শ্রেষ্ঠা এবং হিমালয়া সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজের (হাইকাস) অধ্যাপক ড. সাগর শর্মার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
তবে আইএটিএস বা সেমিনারের আহ্বায়কেরা নেপাল সরকারের কাছ থেকে সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাননি। সংগঠনটি জানিয়েছে, পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মৌখিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুষ্পষ্ট হয়।
সেই আলোচনায় নিশ্চিত হওয়া যায়, কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটিকে সেমিনারের আয়োজন আর এগিয়ে না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইএটিএস বোর্ড সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি একে একটি সম্পূর্ণ একাডেমিক আয়োজনের ওপর ‘অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আইএটিএস আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্মেলনের আয়োজনের জন্য নেপালের গ্রহণযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নেপালের ওপর আস্থা কমে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এই সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছিল প্রায় তিন বছর ধরে। কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির হিমালয়া সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজ এবং সেন্টার ফর বৌদ্ধ স্টাডিজ একসঙ্গে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আইএটিএস জানিয়েছে, ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতিতে কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটিকে সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তখন থেকে প্রস্তুতির পুরো সময়কালীন কোনও আপত্তি জানানো হয়নি। এ কারণে সম্মেলন আয়োজনের শেষ পর্যায়ে এসে সরকারের হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তকে আরো বিস্ময়কর বলে মনে করছে আইএটিএস। সরকারি নির্দেশনার পর কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির হিমালয়া সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজ এবং সেন্টার ফর বৌদ্ধ স্টাডিজ সম্মেলনের দায়িত্ব আইএটিএসের উপদেষ্টা বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করে।
এরপর ৭ আগস্ট আইএটিএস বোর্ড জরুরি অনলাইন বৈঠক করে। সেখানে আলোচনা হয় সম্মেলনটি কীভাবে আয়োজন করা হবে। পরে বোর্ড নিজেই সম্মেলনের আহ্বায়কের দায়িত্ব নেয় এবং ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পুরো আয়োজন অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সম্মেলনের একাডেমিক কর্মসূচিতে কোনও পরিবর্তন আনা হবে না। নির্ধারিত গবেষকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অনলাইনে যুক্ত হতে পারবেন এবং তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করতে পারবেন। তবে অনলাইনে আয়োজনের কারণে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সময়ের পার্থক্য সমন্বয় করা কঠিন হবে বলে স্বীকার করেছে আইএটিএস। বিভিন্ন সময় অঞ্চলের গবেষকদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানসূচি পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে।
আরও পড়ুন: বিএনপি সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার
আইএটিএস বোর্ড কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির আয়োজক দুই কেন্দ্রকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে গত তিন বছরে সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য সাংগঠনিক ও একাডেমিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। তারা আর্থিক সহায়তা ও প্রস্তুতিতে সহযোগিতার জন্যও তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।
যদিও কাঠমান্ডুতে সরাসরি সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না, তথাপি তিব্বত ও হিমালয় নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সেমিনারটি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইএটিএস। ফায়ুলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের দূতাবাসের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটেই এই সম্মেলন অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত এসেছে। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি একাডেমিক সম্মেলন বাতিল বা স্থান পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। চীনের জন্য তিব্বত ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ কারণে নেপালের একাডেমিক কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক গবেষক সমাবেশ এবং তিব্বত বিষয়ক গবেষণার ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব কতটা রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

