০২:২৫ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। এটি বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়ও।
ভঙ্গুর অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের সকল কার্যক্রমের সাফল্যের উপর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশেই নির্ভরশীল।
আজ মঙ্গলবার সকালে, রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেয়ার সময় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ এখন এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রত্যাশা করছে। বিশেষভাবে করদাতাগণ এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়।
দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জন আস্থা অর্জন সম্ভব জানিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেটি আপনাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে।” করদাতাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব আপনাদের অবশ্যই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআর তথা রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অভিশাপ থেকে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও মুক্ত থাকতে পারেনি। নীতি নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারো প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা করে এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল। এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্টের অন্যতম কারণ ছিল এ ধরনের বিষয়গুলো। কিন্তু এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।
আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। একের পর এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরণ পরিবর্তন পাচ্ছে। নতুন নতুন ব্যবসায়িক মডেল তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জও আমাদের সামনে রয়েছে। আন্তর্জাতিক কর বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তিত বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা, সম্ভাবনা, সুবিধা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেশন, ট্রেড ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জন এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান দেশে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও এখনো সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক নয়। নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, সারা বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বেশি কর আদায় করা নয়। বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। একজন করদাতা যিনি নিম্ন কর আদায় করছেন রাষ্ট্র অবশ্যই তাকে সম্মানিত করবে, এবং যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন তাকেও কর প্রদানের জন্য উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রথমবার সমুদ্রে সফলভাবে ফ্রি-ফল জাম্প সম্পন্ন
কর ব্যবস্থাপনা বা কর আদায় পদ্ধতি সহজ, দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাতে মানুষ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে কর দেয় এবং কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। একই করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা বৃদ্ধি করা রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য টেকসই পদ্ধতি নয়। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের ঠিকভাবে করের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এজন্য ডিজিটালি আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ভ্যাট আধুনিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস। তবে ভ্যাট ব্যবস্থাপনার সফলতা নির্ভর করে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয় সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট বা ট্যাক্স আদায় কেবল জোর করার বিষয় নয়। বরং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাগুলোর আস্থা এবং বিশ্বাস তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এমনভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে মানুষ এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না করে বরং বিশ্বাস করে।
উপস্থিত রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি দেশের স্বার্থে আপনারা এনবিআরকে জনগণের কাছে আরও বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারবেন। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে প্রতিষ্ঠান তথা দেশের স্বার্থ রক্ষা করা আগে প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: কদমতলীতে ভেজাল আইসক্রিম ও পানি উৎপাদনের ৪ প্রতিষ্ঠান সিলগালা
তিনি আরও বলেন, সরকার চায় সবাইকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। প্রত্যেকের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে দেখতে চায় সরকার। সমস্যা আছে, থাকবে। আমরা আলোচনা করে ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান বের করার প্রচেষ্টা করবো।
তারেক রহমান সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বলেন, আপনারা নিরাপদে ও স্বস্তি নিয়ে দেশ গঠনে কাজ করুন। সরকারের অবস্থান থেকে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কার্যত ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে, আপনারা (রাজস্ব কর্মকর্তারা) পারবেন। অবশ্যই পারবেন ইনশাল্লাহ। আমাদের সকলের প্রয়োজন দেশপ্রেম এবং আন্তরিকতা। আসুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি।
এর আগে সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর রাজস্ব আদায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা চলে। পরে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রম আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস জার্মানির
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রদর্শনীতে ডিজিটাল স্ক্রিনে বিভিন্ন উপস্থাপনা দেখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন