১২:৪২ এম
কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে সরকার কয়েক দিনের উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, এই উৎসবটি শুধুমাত্র জন্মবার্ষিকী উদযাপন নয়, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।
সংস্কৃতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "শুধু জন্মদিন পালন নয়, আমরা আব্বাসউদ্দীন আহমদের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে কয়েক দিনের উৎসব করব। সেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পীরা গাইবেন। আমরা বাউল উৎসব করব, কুষ্টিয়ায় আমরা লালন উৎসব করেছি। আমরা হাসন উৎসব করব। যাত্রা-সার্কাসকে আমরা নতুন ধরনের আনতে চাই, যাতে সবাই পরিবারসহ দেখতে পারে। আমরা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়াচ্ছি। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমগুলো এগিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।"
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহা. হারুন-অর-রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক ও সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল।
সভাপতির বক্তব্যে মোহা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, "গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা আবেগকে তিনি সংগীতের মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের কাছে তুলে ধরেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনধারাকে ভাওয়াইয়া সুরের মাধ্যমে আব্বাসউদ্দীন এমন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। নজরুলের ইসলামি গান জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও আব্বাসউদ্দীনের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।"
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় মঙ্গলবার জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা লোকসংগীতকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তোলার পথিকৃৎ আব্বাসউদ্দীন আহমদের কালজয়ী গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা তাকে স্মরণ করেন।
আরও পড়ুন: জয়ের বাবার সঙ্গে স্পিকারের পুরোনো ছবি, ভক্তদের মন্তব্য ‘এবার জমি নিশ্চিত’
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী রেজাউল করিম লিমন পরিবেশন করেন ‘প্রাণ সখীরে, ঐ শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’ ও ‘পরের অধীনে কইরাছে আমায়’। এরপর শিল্পী রাহাত আরা গীতি নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পী নোশীন লায়লার কণ্ঠে শোনা যায় ‘সে যেন কি করলোরে আমায়’ ও ‘আমায় এত রাত কেন ডাক দিলি প্রাণ কোকিলারে’।
শিল্পী সালাউদ্দিন আহমদ পরিবেশন করেন ‘ভুলে যেও ভুলে যেও’ ও ‘কুঁচবরণ কন্যারে তোর মেঘবরণ কেশ’। এরপর অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল গেয়ে শোনান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’। সবশেষে আব্বাসউদ্দীন সংগীত একাডেমির শিল্পীরা সমবেতভাবে পরিবেশন করেন ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ ও ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন