০৩:৪৩ পি.এম
দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর অবশেষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং সফর করেছেন। কিম জং উনের আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তার এই আগমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে শি জিনপিং এবং তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে বহনকারী এয়ার চায়নার বিশেষ বিমানটি পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এবং তার স্ত্রী রি সল জু লাল গালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানান। দুই দেশের পতাকা, ফুল এবং জনতার উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর।
২০১৯ সালের পর শি জিনপিং এই প্রথম উত্তর কোরিয়ায় সফর করছেন। একই সাথে এটি ২০২৬ সালে তার প্রথম বিদেশ সফর, যা কূটনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শির সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা কাই কি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া ৯ দেশের ১৮২ অভিবাসীকে ফেরত পাঠালো
বিশ্লেষকদের ধারণা, শি জিনপিং বছরের শুরুতে এই বিদেশ সফরের মাধ্যমে তার কৌশলগত অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দেন। সে দিক থেকে পিয়ংইয়ংকে বেছে নেওয়া বেইজিংয়ের বার্তা পরিষ্কার। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বেইজিংয়ে আতিথেয়তা দেওয়ার পর এই সফর নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়।
২০২৬ সালটি চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’র ৬৫তম বার্ষিকী। এই চুক্তি এখনো চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং এটি দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরছে।
পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যেই রাশিয়ার পক্ষে প্রায় ১১,০০০ সেনা ও বিপুল গোলাবারুদ পাঠিয়েছে। এর বিনিময়ে তারা জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন, রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা যেন চীনের প্রভাবকে ছাপিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতেই শি জিনপিংয়ের এই সফর। একই সময়ে দুই দেশের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন-উত্তর কোরিয়া বাণিজ্য ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা গণহত্যা: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলার রায় ১৯ নভেম্বর
দুই দিনের এই সফরে শি জিনপিং এবং কিম জং উনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, কোরিয়ান উপদ্বীপের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও সিউলের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে কী ধরনের কৌশল নেওয়া হবে, সেটিও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, পিয়ংইয়ংয়ে শি জিনপিংয়ের এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন এক বার্তার ইঙ্গিত বহন করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন