বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৪:৪০ পি.এম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কৃষ্ণসাগর উপকূলস্থ বিলিয়ন ডলারের অতি বিলাসবহুল প্রাসাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ইউক্রেনের দ্বারা ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হয়েছে।
গত এক সপ্তাহের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্টের অবকাশযাপনকেন্দ্রের ১২ মাইল দূরে জেলেনঝিক এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী দুটি ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলে পুতিনের প্রাসাদ রক্ষাকারী একটি এস-৪০০ বিধ্বংসী বিমানবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও এর লঞ্চ প্যাড ধ্বংস হয়েছে, যা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে, ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফল হামলাটির পর কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত পুতিনের ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের এই সুবিশাল রাজপ্রাসাদটি কার্যত সুরক্ষাহীন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আক্রমণের প্রথম ধাপে গত ৭ আগস্ট ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার 'ভোলনা কুপোল গ্যারান্ট' নামের একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানে। ২০ বর্গমিটার এলাকায় স্টারলিংক যোগাযোগব্যবস্থার কার্যকারিতা নষ্ট করতে এই রুশ প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হত। এরপরের রবিবার পূর্ববর্তী দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ মিটার দূরে থাকা একটি এস-৪০০ বিমানবিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও এর লঞ্চ প্যাডকে লক্ষ্যবস্তু করে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়।
ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার মেজর রবার্ট ব্রোভদি জানান, ধ্বংস হওয়ার আগে রবিবার রাতে এস-৪০০ ব্যবস্থাটি থেকে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এরপরই ইউক্রেনীয় হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হয় এবং তিন ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকে। সামরিক বিশ্লেষক ইয়ান মাতভেয়েভ স্যাটেলাইট চিত্র পর্যবেক্ষণ করে অন্তত একটি লঞ্চার ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ধ্বংসের ফলে প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রাসাদটি এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। কারণ, রাশিয়া যেকোনো আকাশপথের হামলা ঠেকাতে এই এস-৪০০ ব্যবস্থার ওপরেই নির্ভরতা রেখেছিল।
রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের জেলেনঝিক শহরের কাছে কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ইতালীয় স্থাপত্যশৈলীর এই সুবিশাল প্রাসাদের নির্মাণব্যয় আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন ডলার। প্রয়াত রুশ বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির অ্যান্টি-করাপশন ফাউন্ডেশনের অনুসন্ধানে এই প্রাসাদের গোপন তথ্য প্রথম ফাঁস হয়েছিল। প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির জন্য বিস্তৃত এই রাজকীয় কমপ্লেক্সে একটি হকি রিংক, নিজস্ব সিনেমা হল এবং একাধিক বিলাসবহুল রেস্তোরাঁও রয়েছে। পুরো এলাকা নো-ফ্লাই জোনের আওতায় এবং রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি-এর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘেরা থাকে।
এর আগে চলতি মাসের ৩ আগস্ট প্রাসাদের অদূরে আর্খিপো-ওসিপোভকা সৈকত এলাকায় একটি ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারায় এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়, যাকে ইউক্রেনের পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছিল মস্কো।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী রাশিয়ার সীমানার গভীরতর আক্রমণ জোরদার করেছে, যার মধ্যে গত সপ্তাহের ৬০০ মাইলেরও বেশি ভেতরের একটি ড্রোন হামলাও অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে রেডিও স্বোবোদার করা একটি তদন্তে দেখা যায়, পুতিনের আরেক আবাসস্থল ভালদাই হ্রদের প্রাসাদ ঘিরে ২৭টি আকাশ প্রতিরক্ষা টাওয়ার স্থাপনসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে। মে মাসে ফাঁস হওয়া একটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার চেষ্টা এড়াতে রুশ প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানের মধ্যে রয়েছেন এবং ব্যাংকারে লুকিয়ে থাকার মতো চরম পথও বেছে নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ শুরু হবে আগামী ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট সারা দেশে, ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যের সাথে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
মৎস্য উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) প্রদান করা হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।
মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় মৎস্য পদক তুলে দেবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় মৎস্য পদক দেশের মৎস্যখাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার জন্য গৃহীত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পদক অর্জন করবে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, যেমন শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার এবং মৎস্য মেলা। এর মাধ্যমে নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে মৎস্যখাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকার খাতটিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের বালুর ঘাটে, ইজারাদারের এক কর্মীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কর্তৃক চড়-থাপ্পড় ও লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনার পর আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তীব্র প্রতিবাদ এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আসক’র সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত ১২ আগস্ট কালীরবাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযানের সময় ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ইজারাদারের এক ব্যবস্থাপককে পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন এবং লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন। পরে আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন বলেও সংবাদে উল্লেখ রয়েছে।
আসক মনে করে, আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তার হাতে একজন নাগরিকের এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। যদি কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও সন্দেহ থাকে, তবে তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। আইন প্রয়োগের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কারোর নেই।
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর কোনো বিধানেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের চড়-থাপ্পড়, লাঠিপেটা বা শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা নেই। মোবাইল কোর্ট আইনের অধীনে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বিচার এবং আইনে নির্ধারিত শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তবে কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করা বা লাঞ্ছিত করা সেই ক্ষমতার অংশ নয়।
যখন একজন সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার আচরণে আইন প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সংযম প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। তার হাতে অর্পিত ক্ষমতা নাগরিককে অপমান বা শারীরিকভাবে দণ্ডিত করার ক্ষমতা নয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা একটি অনুগ্রহ নয়, এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
এ অবস্থায় আসক প্রশ্ন উঠছে, কোন আইনি এখতিয়ারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও একজন নাগরিককে চড় মারলেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন? মোবাইল কোর্টের কোন বিধান তাকে এ ধরনের শারীরিক শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছে? যদি এমন কোন আইনগত ক্ষমতা না থাকে, তাহলে এ ধরনের আচরণকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অংশ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ঘটনার তদন্ত করা। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যসহ সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে তদন্ত করা উচিত। একই সাথে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পত্রিকা পড়া যেন বিশাল এক গ্রহণযোগ্য অভ্যাস। দীর্ঘ তিন দশক ধরে জাতীয় ও আঞ্চলিক নানা পত্রিকা নিয়মিত পড়ছেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কুমিয়ান গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা খলিলুর রহমান (৭০)। তিনি প্রতিদিন পত্রিকা না পড়লে এক ধরণের অস্বস্তিতে থাকেন। তাই তাঁর কাছে বয়স কিংবা অবসর—কোনোটিই পত্রিকা পড়ার এই অভ্যাসে বন্ধুক হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যেই তিনি নিজের বাড়ি থেকে কাউখালী উপজেলা সদরে চলে আসেন। এরপর তিনি তাকি নিউজ এজেন্সি অফিস থেকে নিজের পছন্দের পত্রিকা কিনে ফেরেন। পত্রিকার প্রথম পাতা থেকে শুরু করে শেষ পাতা পর্যন্ত খুঁটিনাটি পড়া তাঁর রোজকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে তাঁর পছন্দের জাতীয় দৈনিক হলো দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং আঞ্চলিক দৈনিক আজকের পরিবর্তন। তিনি দেশ-বিদেশের খবর, রাজনীতি, সমাজ, শিক্ষা, কৃষি, অর্থনীতি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদসহ প্রতিটি বিষয়ের ওপর মনোযোগ দিয়ে পড়েন।
অবসর প্রাপ্ত এই শিক্ষক জানালেন, পত্রিকা পড়া তাঁর কাছে শুধুই সময় কাটানোর একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি জ্ঞান অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়। প্রতিদিন নতুন খবর জানা ছাড়াও, সমাজ এবং দেশের নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে পত্রিকার দিকে তিনি নির্ভর করেন।
মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, "প্রায় ৩০ বছর ধরে নিয়মিত পত্রিকা পড়ছি। শিক্ষকতা জীবনে যেমন পত্রিকা পড়তাম, অবসরের পরও সেই অভ্যাসটিকে আমি ধরে রেখেছি। পত্রিকা পড়লে দেশের এবং বিশ্বের নানা ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়। নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যায়, জ্ঞান বাড়ে। তাই প্রতিদিন পত্রিকা না পড়লে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। মন-মেজাজও ভালো থাকে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদের একটি বক্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
একটি জনসমাবেশে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদের প্রশংসা করে তিনি নিজেকে তার ‘গোলাম’ বা সেবক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সময়ে ভারতকে লক্ষ্য করে হুমকি দেন এই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শেখ রশিদ আহমেদ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামি মুসলিম লীগের (এএমএল) নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে তিনি লস্কর-ই-তাইয়েবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চে রয়েছেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ভারতের বিরুদ্ধে তার হুমকি এবং হাফিজ সাঈদের প্রতি আনুগত্যের বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
“আমি হাফিজ সাহেবের গোলাম,” অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় এই সমর্থন জানিয়ে বলেন তিনি। এরপর দাবি করেন, তার মোবাইল ফোনে হাফিজ সাঈদের ফোন নম্বর থাকার কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। হাফিজ সাঈদ পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তাইয়েবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের কাছে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘও তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
সাঈদের নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত।
ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি প্রদানের সময় শেখ রশিদ আহমেদ বলেন, “ভারত যদি পাকিস্তানের দিকে তাকায়, তাহলে আল্লাহ দেশটিকে ধ্বংস করে দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতে কোনও পাখি ডাকবে না, কোনও মন্দিরে ঘণ্টা বাজবে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভারতে পাকিস্তানবিরোধী কোনও ধরনের কার্যক্রম ঘটতে দেওয়া হবে না বলেই দাবি করেন।
শেখ রশিদ আহমেদ বলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে, আমরা হাফিজ সাঈদের সঙ্গে।”
তার এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অবস্থান ও দেশে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শেখ রশিদকে লস্কর-ই-তাইয়েবার জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লীগের (পিএমএমএল) সভাপতি খালিদ মাসুদ সান্ধুর সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায়।
এছাড়াও ক্বারি মুহাম্মদ ইয়াকুব শেখ নামক আরেক ব্যক্তিতে উপস্থিতি সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ওই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। লস্কর-ই-তাইয়েবার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে বহুদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।
শেখ রশিদের মতো একজন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সমালোচকেরা।
শেখ রশিদ আহমেদ পাকিস্তানের রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তিনি ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইমরান খান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যদিও তিনি নিজের রাজনৈতিক দল আওয়ামি মুসলিম লীগের নেতৃত্ব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তার বক্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে শেখ রশিদের বিতর্কিত মন্তব্য নতুন নয়। ২০২২ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি দাবি করেন, আজমল কাসাবের পাকিস্তানের ফারিদকোটের ঠিকানা ভারতকে জানিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ।
এই প্রেক্ষাপটেই তার বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে।
ইসলামাবাদ বরাবরই পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়ে রাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানি ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে।
লস্কর-ই-তাইয়েবা এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুর বিষয়।
হাফিজ সাঈদকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো এবং ২৬/১১ মুম্বাই হামলার দায়িত্ব সহ পাকিস্তানের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে।
বিশেষ করে লস্কর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শেখ রশিদের বক্তব্য শুধুমাত্র একজন রাজনীতিকের বিতর্কিত মন্তব্য হিসেবেই নয়, বরং পাকিস্তানের রাজনীতি, উগ্রবাদী গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে চলমান বিতর্কের আরেকটি উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ