প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদের একটি বক্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
একটি জনসমাবেশে নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদের প্রশংসা করে তিনি নিজেকে তার ‘গোলাম’ বা সেবক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সময়ে ভারতকে লক্ষ্য করে হুমকি দেন এই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শেখ রশিদ আহমেদ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এবং বর্তমানে আওয়ামি মুসলিম লীগের (এএমএল) নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে তিনি লস্কর-ই-তাইয়েবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চে রয়েছেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ভারতের বিরুদ্ধে তার হুমকি এবং হাফিজ সাঈদের প্রতি আনুগত্যের বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
“আমি হাফিজ সাহেবের গোলাম,” অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় এই সমর্থন জানিয়ে বলেন তিনি। এরপর দাবি করেন, তার মোবাইল ফোনে হাফিজ সাঈদের ফোন নম্বর থাকার কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। হাফিজ সাঈদ পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তাইয়েবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতের কাছে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘও তাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
সাঈদের নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত।
ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি প্রদানের সময় শেখ রশিদ আহমেদ বলেন, “ভারত যদি পাকিস্তানের দিকে তাকায়, তাহলে আল্লাহ দেশটিকে ধ্বংস করে দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতে কোনও পাখি ডাকবে না, কোনও মন্দিরে ঘণ্টা বাজবে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভারতে পাকিস্তানবিরোধী কোনও ধরনের কার্যক্রম ঘটতে দেওয়া হবে না বলেই দাবি করেন।
শেখ রশিদ আহমেদ বলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে, আমরা হাফিজ সাঈদের সঙ্গে।”
তার এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অবস্থান ও দেশে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শেখ রশিদকে লস্কর-ই-তাইয়েবার জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লীগের (পিএমএমএল) সভাপতি খালিদ মাসুদ সান্ধুর সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যায়।
এছাড়াও ক্বারি মুহাম্মদ ইয়াকুব শেখ নামক আরেক ব্যক্তিতে উপস্থিতি সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ওই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। লস্কর-ই-তাইয়েবার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে বহুদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।
শেখ রশিদের মতো একজন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সমালোচকেরা।
শেখ রশিদ আহমেদ পাকিস্তানের রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তিনি ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইমরান খান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যদিও তিনি নিজের রাজনৈতিক দল আওয়ামি মুসলিম লীগের নেতৃত্ব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তার বক্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে শেখ রশিদের বিতর্কিত মন্তব্য নতুন নয়। ২০২২ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি দাবি করেন, আজমল কাসাবের পাকিস্তানের ফারিদকোটের ঠিকানা ভারতকে জানিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ।
এই প্রেক্ষাপটেই তার বক্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে।
ইসলামাবাদ বরাবরই পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়ে রাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানি ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে।
লস্কর-ই-তাইয়েবা এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুর বিষয়।
হাফিজ সাঈদকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো এবং ২৬/১১ মুম্বাই হামলার দায়িত্ব সহ পাকিস্তানের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে।
বিশেষ করে লস্কর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শেখ রশিদের বক্তব্য শুধুমাত্র একজন রাজনীতিকের বিতর্কিত মন্তব্য হিসেবেই নয়, বরং পাকিস্তানের রাজনীতি, উগ্রবাদী গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে চলমান বিতর্কের আরেকটি উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন