ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারকে বড় শাস্তি দিতে পারে ফিফা


আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারকে বড় শাস্তি দিতে পারে ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর, ম্যাচ শেষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ফিফা আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তে সংস্থাটি জানিয়েছে যে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কঠোর শাস্তি হতে পারে।

ফাইনাল শেষে, স্পেন অধিনায়ক রদ্রি যখন সতীর্থদের সাথে শিরোপা উদযাপন করতে যান, তখন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্পেনের এরিক গার্সিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস গার্সিয়ার গলা চেপে ধরার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে, আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মাঠের মধ্যেও নেমে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

অভিযোগ রয়েছে যে, এর পর পারেদেস স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ট্যাকল করে মাটিতে ফেলে দেন এবং তার দিকে একটি বুট ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন। এই সময় আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা সংঘর্ষে অংশ নিয়ে গাভিকে মাটিতে চেপে ধরতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনডিটিভি জানিয়েছে যে, এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায়ও আর্জেন্টিনা আলাদাভাবে ফিফার তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে।

ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে সব অভিযোগ পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ করে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে কনুই মারা, ঘুষি মারা, লাথি মারা, কামড়ানো, থুতু নিক্ষেপ করা বা আঘাত করার মতো আচরণ গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিতাদেশের বিধান রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনার জন্য উরুগয়ের লুইস সুয়ারেজকে নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং চার মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে সবচেয়ে কঠিন বললেন রাবির সাবেক উপাচার্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ এম


ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে সবচেয়ে কঠিন বললেন রাবির সাবেক উপাচার্য

সবচেয়ে কঠিন ধর্মভিত্তিক রাজনীতি। এতে নৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে হয়। এটি সবার কাজ নয়। যদি না পারা যায়, তবে ধর্ম নষ্ট হয়, দল নষ্ট হয়, দেশ নষ্ট হয়— এই ধরনের মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।

তিনি মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ৮টার সময় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন।

এই পোস্টে অধ্যাপক নকীব উল্লেখ করেন, ডান, বাম, মধ্য— কোনো রাজনীতিতে আমার অ্যালার্জি নেই। আমি সবার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে মিশেছি। আমি কিছু বিষয় শিখে নিয়েছি। ভালো-মন্দ বিচার না করেই বলতে চাই, যদি কারও ভেতরে সত্যনিষ্ঠতা ও প্রকৃত তাকওয়া না থাকে, তাহলে তার ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থেকে শত হাত দূরে থাকাই ভালো। কারণ, দিন শেষে তা টিকবে না।

তিনি আরও লেখেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পর সবচেয়ে কঠিন হলো বাম রাজনীতি। প্রগতিশীলতা মুখের কথা নয়। ছোট মন নিয়ে কোনোভাবে প্রগতিশীল হওয়া যায় না। কুয়ার ব্যাঙ কখনো প্রগতিশীল হয় না, বরং সে হয় প্রতিক্রিয়াশীল।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘মধ্যপন্থী রাজনীতি তুলনামূলক সহজ। তবে সেখানে ভারসাম্য ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা অনেকেই করতে পারেন না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার নতুন কোচের দৌড়ে শীর্ষে যেসব নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ এম


আর্জেন্টিনার নতুন কোচের দৌড়ে শীর্ষে যেসব নাম

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম সফল কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার অধীনে ২০২২ বিশ্বকাপ, টানা দুইবার কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার আলবিসেলেস্তেরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর স্কালোনি তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ফাইনালের পর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত স্কালোনি জানান, তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করবেন। এর পরে তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে কিছুদিন কোচিং থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

স্কালোনি বলেন, "আমি ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে থাকব। এরপর সম্ভবত দায়িত্ব ছেড়ে দেব। এখন আমার নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করা এবং কিছুটা বিরতি নেওয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আর্জেন্টিনা দল ও দেশের মানুষের মধ্যে এই ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখা। এ নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত।"

স্কালোনির সম্ভাব্য বিদায়ের ইঙ্গিত দেওয়ার পর আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে নতুন কোচ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজন কোচকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাবলো আইমার

বর্তমান কোচিং স্টাফে স্কালোনির সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পাবলো আইমার। সাম্প্রতিক সব বড় সাফল্যের পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দলের বর্তমান কাঠামো ও দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

মার্সেলো গালিয়ার্দো

রিভার প্লেটের কিংবদন্তি কোচ মার্সেলো গালিয়ার্দো দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের সম্ভাব্য কোচ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলে তার সাফল্য এবং শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে।

দিয়েগো সিমিওনে

অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের দীর্ঘদিনের কোচ দিয়েগো সিমিওনে একাধিকবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দক্ষতা তাকে অন্যতম আলোচিত প্রার্থী করে তুলেছে।

মাউরিসিও পোচেত্তিনো

বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট থাকা মাউরিসিও পোচেত্তিনোরও নাম রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়। টটেনহ্যাম, পিএসজি ও চেলসির মতো ক্লাব পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তরুণ ফুটবলার গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কাজ করার দক্ষতার কারণে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে তিনি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারেন।

স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যদি তিনি সত্যিই দায়িত্ব ছাড়েন, তাহলে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নতুন কোচ নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড্রেসিংরুম বিতর্ক নিয়ে স্কালোনির মন্তব্য, ‘এসব সম্পর্কে কিছুই জানি না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


ড্রেসিংরুম বিতর্ক নিয়ে স্কালোনির মন্তব্য, ‘এসব সম্পর্কে কিছুই জানি না’

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের হতাশা এখনও আর্জেন্টিনার কাটেনি। কিন্তু নিজ শহর পুজাতোতে ফিরে স্কালোনি জানিয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন ও বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, লিওনেল স্কালোনি ড্রেসিংরুমে লিওনেল মেসির কথিত অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য বা দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে বলেছেন, "আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নেই। আপনারা কী বলছেন, সেটাই আমি জানি না।"

দলের মধ্যে বিভাজন বা অভ্যন্তরীণ সমস্যার গুঞ্জনও তিনি নাকচ করেছেন। স্কালোনি বলেছেন, "আপনারা এমন প্রশ্ন করছেন, বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দিক নিয়ে ভাবছি।"

তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বকাপে তার খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের জার্সির প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন। ভবিষ্যতেও যারা আর্জেন্টিনার হয়ে খেলবেন, তাদের কাছ থেকেও একই মানসিকতা প্রত্যাশা করেন স্কালোনি।

বিশ্বকাপ শেষে বুয়েনস আইরেসে সমর্থকদের অভ্যর্থনায় মুগ্ধ স্কালোনি বলেছেন, "হার মেনে নেওয়া কঠিন হলেও পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।" তার মতে, সম্মানের সঙ্গে হার গ্রহণ করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। আর্জেন্টাইন কোচ জানিয়েছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত তার চুক্তি রয়েছে। এরপর কী হবে, তা সময়ই বলবে। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এবং সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা।

২০২৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে স্কালোনি হাস্যরসের সুরে বলেছেন, "আবারও একই প্রশ্ন!" এরপর যোগ করেন, "প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াটাই ছিল তার জন্য স্বপ্নের মতো এবং এই সময়ে দলের অর্জন কল্পনারও বাইরে।"

এদিকে, ইংল্যান্ডকে হারানোর পর সেমিফাইনালে কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের "The Falklands Are Argentine" লেখা পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় সম্ভাব্য শাস্তির আলোচনা নিয়ে স্কালোনি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, "এ বিষয়ে আগে থেকে তার কোনো ধারণা ছিল না এবং খেলোয়াড়রাও তাকে কিছু জানায়নি। বিষয়টি তিনি সবার মতো পরেই দেখেছেন।"

প্রসঙ্গত, স্কালোনির এসব মন্তব্য প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনার ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, ফ্রান্সে নতুন আইন পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০১ এম


শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, ফ্রান্সে নতুন আইন পাস

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার জন্য নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ফলে ইউরোপে এই ধরনের আইন পাস করার ক্ষেত্রে ফ্রান্স প্রথম দেশ হয়েছে।

নতুন এই আইন অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ফ্রান্স এই সিদ্ধান্ত নিল। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কম বয়সীদের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে আইনটি অপরিহার্য। ফ্রান্সের পার্লামেন্টের দুই কক্ষ—সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি—এ সপ্তাহের মঙ্গলবার নতুন আইনটি অনুমোদন করেছে।

আইনটি কার্যকর হলে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না। এই আইন শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না, বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের যেসব অ্যাকাউন্ট আছে, সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। এই কাজের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে। নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত করা হবে যে, ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।

ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ সিনেটে মন্তব্য করেন, এই আইনের মাধ্যমে ফ্রান্স ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতা নির্ধারণে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এর আগে, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে, যেখানে গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চান, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে নতুন আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হোক। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলের প্রতি শিশু-কিশোরদের আসক্তি কমাতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরে ছিলেন। গত এপ্রিলের একজন অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলে শিশু-কিশোররা এমন একটি পরিবেশে বেড়ে উঠছে, যেখানে তাদের মনোযোগ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের দ্বারা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল পরিবেশ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। ম্যাখোঁ জানান, শিশু-কিশোরদের ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বই পড়া, শেখা এবং ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সেজন্যই ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের সবার জন্য একই নিয়মে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য বয়সসীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু যদি সরকার নতুন আইন কার্যকর করে, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনও শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, সে বিষয়েও কমিশন পর্যালোচনা করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%