০৯:৪৭ এম
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজয়ের পর, ম্যাচ শেষে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ফিফা আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তে সংস্থাটি জানিয়েছে যে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কঠোর শাস্তি হতে পারে।
ফাইনাল শেষে, স্পেন অধিনায়ক রদ্রি যখন সতীর্থদের সাথে শিরোপা উদযাপন করতে যান, তখন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্পেনের এরিক গার্সিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস গার্সিয়ার গলা চেপে ধরার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে, আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মাঠের মধ্যেও নেমে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: গৃহবধূকে ধর্ষণের দায়ে আতিকুল ইসলামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
অভিযোগ রয়েছে যে, এর পর পারেদেস স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ট্যাকল করে মাটিতে ফেলে দেন এবং তার দিকে একটি বুট ছুড়ে মারার চেষ্টা করেন। এই সময় আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা সংঘর্ষে অংশ নিয়ে গাভিকে মাটিতে চেপে ধরতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনডিটিভি জানিয়েছে যে, এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায়ও আর্জেন্টিনা আলাদাভাবে ফিফার তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে।
ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে সব অভিযোগ পর্যালোচনা করছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ করে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষকে কনুই মারা, ঘুষি মারা, লাথি মারা, কামড়ানো, থুতু নিক্ষেপ করা বা আঘাত করার মতো আচরণ গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে অন্তত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিতাদেশের বিধান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েলিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনার জন্য উরুগয়ের লুইস সুয়ারেজকে নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং চার মাসের জন্য সব ধরনের ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন