০৭:০৬ পি.এম
আরও পড়ুন: বরগুনায় হাউজি-লটারির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে চেম্বার অব কমার্স ও জেলা প্রশাসন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আতিকুল ইসলাম নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। আদালত একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছে, অনাদায়ে আরো দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ফারহানা ফেরদৌস এই রায় ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ৭ মে রাতে শ্রীপুর থানার কেওয়া পূর্ব খণ্ড গ্রামের নিজ বাড়িতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান ওই গৃহবধূ (২২)। এ সময় প্রতিবেশী মৃত আবদুল হামিদের ছেলে আতিকুল ইসলাম (২৮) আগে থেকেই ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন। গৃহবধূ ঘরে ফিরে শুয়ে পড়ার পর আতিকুল খাটের নিচ থেকে বের হয়ে এসে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন, যা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা গাজীপুর সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এদিকে, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদক মামলার আসামি ও অন্যান্য মামলার আসামিসহ মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ মাঝিগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকা থেকে মোঃ সিদ্দীক (৪৫) ও মোঃ সোহাগ আহম্মেদকে (২৮) গ্রেপ্তার করে। সিদ্দীক মাঝিগ্রাম মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত আসোব আলীর ছেলে এবং সোহাগ উত্তরপাড়া গ্রামের মোঃ নছিম উদ্দীনের ছেলে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ও পাঁচটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ১ হাজার ৬৭০ টাকা জব্দ করা হয়।
এর আগে, গত ২৬ অক্টোবর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে দামকুড়া থানার জোতরাবন গ্রামে মাদক সেবনের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন মোঃ মানিক (৩২) ও মোঃ নাহিদুল ইসলামকে (৪২) গ্রেপ্তার করেন। পরে দামকুড়া থানা পুলিশ তার কাছ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়।
অন্যদিকে, একই রাত ১১টার দিকে মহানগর ডিবি পুলিশ চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডি উত্তরপাড়া এলাকায় মোঃ শামীম আহমেদ ওরফে শামীমের (৩৭) বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা এবং বিদেশি পিস্তলসদৃশ একটি ফায়ার লাইটার সহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ওই গ্রামের মোঃ মামুন আলীর ছেলে। শামীমের বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি, জুয়ার একটি এবং পেনাল কোডে একটি মামলা রয়েছে।
এছাড়াও শাহমখদুম থানা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে মোঃ মশিউর ইসলামকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চন্দ্রিমা থানার ছোট বনগ্রাম দক্ষিণপাড়া গ্রামের মোঃ মমিনের ছেলে। তাঁর কাছ থেকে ছয়টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেবন ও সংরক্ষণের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
একই রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত ১০ জন, মাদক মামলার সাতজন এবং অন্যান্য মামলার ১১ জন রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ক্যানসার ইউনিটের বর্জ্য শোধনাগার বা এসটিপি স্থাপনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, অনুমোদিত প্রাক্কলনের শর্তাবলী না মেনে এবং সরকারি ক্রয়বিধি উপেক্ষা করে এই প্রকল্পে কাজ করা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদফতরের তথ্যমতে, ক্যানসার ইউনিটের জীবাণুযুক্ত বর্জ্য যাতে সরাসরি ড্রেনে বা পরিবেশে না মেশে, সে কারণে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এসটিপি স্থাপনের প্রাক্কলন অনুমোদিত হয়। এই প্রকল্পের জন্য ট্যাংকটি সংযুক্ত আরব আমিরাত বা থাইল্যান্ড থেকে আনার পরিকল্পনা ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ওই বছরের মার্চে নিয়মের লঙ্ঘন করে দরপত্রের তালিকায় ভারতের নাম যুক্ত করা হয় এবং পরে সেখান থেকেই ট্যাংক আনা হয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে এসটিপি আমদানি ও স্থাপনের কার্যাদেশ পায় ঢাকার ইলিপস ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ও বাবর অ্যাসোসিয়েট। ২০২৫ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি বর্জ্য শোধনের তিনটি ট্যাংক এনে নির্মাণাধীন ক্যানসার ইউনিটের পাশে স্থাপন করে। গণপূর্ত অধিদফতরের রাজশাহী জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী নিশ্চিত করেছেন, সরবরাহ করা ট্যাংকগুলো ভারত থেকে এসেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইলিপস ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির আহমেদ দাবি করেছেন, দরপত্রে উল্লেখ করা দেশ থেকেই ট্যাংক আনা হয়েছে। তবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা থাইল্যান্ড কোন দেশ থেকে ট্যাংক আনা হয়েছে, সেটি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তিনি জানান, সব নিয়ম মেনে কাজ করলেও তাদের বিল আটকে দেয়া হয়েছে। গণপূর্তের কর্মকর্তারা তাকে প্যাডে এসটিপি ভারত থেকে আনা হয়েছে লিখে দিতে বলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়া লিখলে তো আমার কাগজপত্র দিতে হবে। আমার তো ইন্ডিয়ার কাগজ নেই।’
এদিকে, স্থাপিত ট্যাংকের সক্ষমতা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। শর্ত অনুযায়ী তিনটি ট্যাংকের মোট সক্ষমতা দৈনিক ৩০০ কিলোলিটার বা কেএলডি হওয়ার কথা থাকলেও, এগুলো ২৪০ কেএলডি কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ২৪০ কেএলডি হলে তা চাহিদার চেয়ে ২০ শতাংশ কম।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী জানান, সক্ষমতা ২৪০ কেএলডি হলে সেটির তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই শেষে বিল পরিশোধ করা হবে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক এসটিপি সাইট পরিদর্শন করেছে। তারা ট্যাংকে উৎপাদন-সংক্রান্ত কোনো তথ্য না পেয়ে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, শর্ত না মানলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করবে না এবং অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটের লিফট স্থাপনেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। দুই বছর আগে জাপানের ফুজিটেক কোম্পানির লিফটের বদলে সাধারণ লিফট বসানো হলে সেটি গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ