১০:০১ এম
ফ্রান্সের পার্লামেন্ট ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার জন্য নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ফলে ইউরোপে এই ধরনের আইন পাস করার ক্ষেত্রে ফ্রান্স প্রথম দেশ হয়েছে।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।
বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ফ্রান্স এই সিদ্ধান্ত নিল। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কম বয়সীদের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে আইনটি অপরিহার্য। ফ্রান্সের পার্লামেন্টের দুই কক্ষ—সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি—এ সপ্তাহের মঙ্গলবার নতুন আইনটি অনুমোদন করেছে।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
আইনটি কার্যকর হলে ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না। এই আইন শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না, বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সীদের যেসব অ্যাকাউন্ট আছে, সেগুলোও বন্ধ করতে হবে। এই কাজের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হবে। নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত করা হবে যে, ১৫ বছরের কম বয়সীরা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।
ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ সিনেটে মন্তব্য করেন, এই আইনের মাধ্যমে ফ্রান্স ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতা নির্ধারণে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এর আগে, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে, যেখানে গত ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চান, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে নতুন আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হোক। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলের প্রতি শিশু-কিশোরদের আসক্তি কমাতে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরে ছিলেন। গত এপ্রিলের একজন অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলে শিশু-কিশোররা এমন একটি পরিবেশে বেড়ে উঠছে, যেখানে তাদের মনোযোগ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের দ্বারা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল পরিবেশ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। ম্যাখোঁ জানান, শিশু-কিশোরদের ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বই পড়া, শেখা এবং ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সেজন্যই ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরনের সবার জন্য একই নিয়মে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য বয়সসীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু যদি সরকার নতুন আইন কার্যকর করে, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো তা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনও শিশু ও কিশোরদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, সে বিষয়েও কমিশন পর্যালোচনা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন