ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুনঃ ভর্তির চক্রে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা


পুনঃ ভর্তির চক্রে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের গণ্ডিকে বলা হয় জীবনের প্রাণকেন্দ্র। এর গতিবিধিই নির্ধারণ করে দেয় একজন শিক্ষার্থী কিভাবে তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে, কিভাবে আঁকবে তার ভবিষ্যতের রূপরেখা।

কিন্তু সেই চিত্রপটে সহসাই ধূসর আঁচড় ফেলতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুনঃ ভর্তি। কারো জন্য এই ব্যাঘাত সাময়িক হলেও কিছু ক্ষেত্রে হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘ মেয়াদের দুঃস্বপ্ন। যা পথভ্রষ্ট করতে পারে শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন: জামায়াতের দাবি, আইজিপির বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী

ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত, এই পুনঃ ভর্তির খপ্পরে পড়ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগে সর্বশেষ চার শিক্ষাবর্ষে মোট ২৭৮ জন শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি হয়েছেন। যা গড়ে প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৭০ জন এবং শতকরা হিসেবে এটি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাতজনে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহায়ক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে পুনঃ ভর্তির হার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখা থেকে জানা যায়, সর্বশেষ চার শিক্ষাবর্ষের মধ্যে ২০২২-২৪ শিক্ষাবর্ষের সর্বোচ্চ মোট ৯২ জন।

সবচেয়ে কম হয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৪৭ জন। এছাড়া ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ৫১ জন এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৮৯ জন।

আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারের চিন্তা পুলিশের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ: আমীনের উদ্বেগ

এখানে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই চার শিক্ষাবর্ষের হিসেবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি ছিল ৫১ জন। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ জনে। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় এখানে প্রায় ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ পুনঃ ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আবার ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পুনঃ ভর্তির সংখ্যাটা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৪৭ জন। অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৪৮.৯১% হ্রাস পেয়েছে। যা কিছুটা স্বস্তির হলেও পুনরায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ জনে। ফলে এখানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় প্রায় ৮৯.৩৬% বৃদ্ধি ঘটেছে।

আরো জানা যায়, এরমধ্যে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ ১৭ জন। যেখানে লোক প্রশাসন বিভাগে পাঁচজন, প্রত্নতত্ত্বে ৫ পাঁচজন, অর্থনীতিতে চারজন, নৃবিজ্ঞানে দুইজন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে একজন। পরবর্তীতে বিজ্ঞান অনুষদের ১৪ জনের মধ্যে গণিত বিভাগে চারজন, রসায়নে চারজন, পদার্থবিজ্ঞানে তিনজন, ফার্মেসীতে দুইজন এবং পরিসংখ্যানে একজন।

এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে ১৩ জনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে ছয়জন, একাউন্টিংয়ে এবং মার্কেটিংয়ে তিনজন করে, ফিনান্সে একজন। এ ছাড়া আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে একজন, প্রকৌশল অনুষদভুক্ত আইসিটি বিভাগে পাঁচজন এবং কলা ও মানবিক অনুষদভুক্ত ইংরেজি বিভাগে একজন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ‘জয় বাংলা’ স্লোগান গ্রহণ করে রাজ্যকে বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত করতে চেয়েছিল তৃণমূল

পরবর্তী ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মোট ৯২ জনের মধ্যে শুধু বিজ্ঞান অনুষদেরই ৩৬ জন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি নিয়েছেন। এর মধ্যে গণিতে ১৩ জন, রসায়ন এবং পরিসংখ্যানে সাতজন, পদার্থবিজ্ঞানে ছয়জন এবং ফার্মেসীতে তিনজন করে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২২ জনের মধ্যে লোক প্রশাসন বিভাগে সাতজন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ছয়জন, অর্থনীতিতে পাঁচজন, প্রত্নতত্ত্বে তিনজন এবং নৃবিজ্ঞানে একজন।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ১৮ জনের মধ্যে মার্কেটিংয়ে সাতজন, একাউন্টিং এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগে চারজন করে এবং ফিনান্সে তিনজন। এছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদের সাত জনের মধ্যে বাংলায় চারজন এবং ইংরেজিতে তিনজন করে, প্রকৌশল অনুষদভুক্ত আইসিটিতে পাঁচজন এবং আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে চারজন।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মোট ৪৭ জনের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞানে সাতজন, গণিতে ছয়জন, রসায়নে তিনজন এবং পরিসংখ্যানে একজন নিয়ে মোট ১৭ জন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১২ জনের মধ্যে অর্থনীতি এবং প্রত্নতত্ত্বে পাঁচজন করে এবং লোক প্রশাসন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় একজন করে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাতজনের মধ্যে একাউন্টিং এবং মার্কেটিংয়ে দুইজন করে ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় তিনজন।

এ ছাড়া কলা ও মানবিক অনুষদের পাঁচজনের মধ্যে বাংলায় তিনজন এবং ইংরেজিতে দুজন। প্রকৌশল অনুষদের চারজনের মধ্যে সিএসইতে তিনজন এবং আইসিটিতে একজন এবং আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে একজন পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনঃ ভর্তি নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আহসান হাবিবকে এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিলেন রাষ্ট্রপতি

সর্বশেষ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মোট ৮৯ জনের মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদের গণিত বিভাগে ১০ জন, পদার্থবিজ্ঞান ও ফার্মেসীতে নয়জন করে এবং পরিসংখ্যান ও রসায়নে ৪ জন করে মোট ৩৬ জন। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২৪ জনের মধ্যে প্রত্নতত্ত্বে নয়জন, লোক প্রশাসন, নৃবিজ্ঞান ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় চারজন করে এবং অর্থনীতিতে তিনজন।

এছাড়াও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৯ জনের মধ্যে মার্কেটিংয়ে ৪ জন, ব্যবস্থাপনায় ৩ জন এবং ফিনান্সে ২ জন এবং কলা ও মানবিক অনুষদের ৮ জনের মধ্যে বাংলায় ৫ জন, ইংরেজিতে ৩ জন, আইন অনুষদভুক্ত আইন বিভাগে ৮ জন, প্রকৌশল অনুষদের ৪জনের মধ্যে আইসিটিতে ৩ জন, সিএসইতে ১ জন।

এখানে ৪ শিক্ষাবর্ষের তথ্য বিশ্লেষণে আরো পাওয়া যায়, অনুষদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুনঃ ভর্তির ঘটনা ১০৩টি ঘটেছে বিজ্ঞান অনুষদে বিজ্ঞান অনুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫ টি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। পরবর্তী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৭৫ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২ জন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ৪৭ জনের মধ্যে মার্কেটিং এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৬ জন করে। প্রকৌশল অনুষদের ১৮ জনের মধ্যে আইসিটি বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪ জন এবং আইন অনুষদের একমাত্র বিভাগ আইনে ১৪ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুনঃ ভর্তির যাত্রা শুরু হয় সেকেন্ড টাইম প্রস্তুতি দিয়ে। প্রথম বর্ষে পুনঃ ভর্তি প্রবণতার সবচেয়ে বড় একটি কারণ এটি। ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রথম বর্ষের পরিস্থিতি। অনেকেই ভালো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ভালো বিষয়ের আশায় শুরুতে একাডেমিকের বাহিরের পড়াশোনায় মনোযোগী থাকে, ফলে পরবর্তীতে পুনঃ ভর্তি ছাড়া দ্বিতীয় কোন সুযোগ থাকে না।

আরও পড়ুন: আ.লীগের এমপির বিরুদ্ধে পুনর্বাসনের অভিযোগ, মুখ খুললে মামলা করার হুমকি

বিজ্ঞান অনুষদের বেশি পুনঃ ভর্তির কারণ সম্পর্কে জানা যায়, কঠিন ও সময়সাপেক্ষ সিলেবাস, ল্যাবভিত্তিক ক্লাস ও পরীক্ষার চাপ, কোর্স পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার হার বেশি, পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতির দ্বৈত চাপ, দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, পরীক্ষা ও প্রজেক্টের চাপে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে ইত্যাদি।

এছাড়া সার্বিকভাবে আরো কারণের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বহিষ্কার, আর্থিক অসচ্ছলতা, মানসিক অবসান, হতাশা, অসুস্থতা, ইংরেজি ভার্সনে পড়াশোনা, এক বিভাগে পড়াশোনা করে থেকে অন্য বিভাগের সাবজেক্টে ভর্তি হওয়ায় তৈরিকৃত চাপ। এছাড়া রয়েছে অ্যাকাডেমিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারা এবং ভাষাগত সমস্যা ইত্যাদি।

এই সমস্যাটির সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এবং পুনঃ ভর্তি পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা সামলানোর জন্য প্রয়োজন হয় মানসিক উন্নতির গাইডলাইন। যা তাদেরকে সাহায্য করতে পারে হতাশা কমানোতে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ উল্টো অবস্থানে। এখানে শিক্ষার্থীদের মানসিক দেখভালের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে শেষ কবে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সভা-সেমিনার কিংবা কাউন্সেলিং ক্যাম্পেইন হয়েছে বলা দুষ্কর। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাওয়ার কিছুই নেই।

নাম এবং শিক্ষাবর্ষ প্রকাশ না করার শর্তে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রিএড আমার জন্য এখনো দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে। হুট করে জুনিয়রদের সাথে ক্লাস করতেও শুরুতে খুব অস্বস্তি লাগতো। সেকেন্ড টাইম প্রিপারেশনের জন্য এখানে ক্লাস-পরীক্ষা কিছুই করি নাই। এখন বুঝতে পারছি, তখন ভুল করেছিলাম। তখন অন্তত ক্লাসগুলো করা থাকলে ইয়ার লস খেতাম না।’

আরও পড়ুন: ড. আবদুল মঈন খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

পুনঃ ভর্তি হওয়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা নতুন অনেককিছুই বুঝতে পারে না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি তাদের সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি পরিকল্পনায় রেখেছি। আমরা নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীদের সাথে ধাপে ধাপে কাজ করা পরিকল্পনা করেছি। শুরুতে তাদেরকে একটি ফর্মে প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের মানসিক অবস্থা গুলো জানার চেষ্টা করব। তারপর ধাপে ধাপে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী গাইডলাইন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এতে করে প্রথম বর্ষে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়ক হবে। আমরা পরিকল্পনা করেছি, সামনে সেগুলো বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের জন্য জর্ডানের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


বিশ্বকাপের জন্য জর্ডানের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা

ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে স্থান করে নেওয়া জর্ডান তাদের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। দলের প্রধান কোচ জামাল সেলামি বিশ্বকাপ জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেন।

এর আগে, টানা ১০ বারের চেষ্টা করার পরও বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয়েছিল জর্ডান। অবশেষ, বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে নিজেদের সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ করে ইতিহাস গড়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে ওমানকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের টিকিট কাটে তারা। দুই বছর আগে সবাইকে চমকে দিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ ফাইনালেও উঠেছিল ‘দি চিভালরাস ওয়ানস’।

ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ মিশনে নেতৃত্ব দেবেন জর্ডান দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক ইহসান হাদ্দাদ। আল-হুসেইন ক্লাবের হয়ে খেলা ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ফুটবলার। জর্ডানের এই দলটির শক্তির মূল জায়গা হল ফরোয়ার্ড মুসা আল-তামারি। বল পায়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে দিতে ওস্তাদ এই ফুটবলার। মূলত তার চোখধাঁধানো ড্রিবলিংয়ের জন্যই ফুটবল বিশ্বে তাকে ‘জর্ডানিয়ান মেসি’ বলে পরিচিতি পাওয়া গেছে।

এছাড়াও, জর্ডান দলের মূল শক্তির মধ্যে আছেন গোলকিপার ইয়াজিদ আবুলাইলা (আল-হুসেইন), ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরব (এফসি সিউল), মিডফিল্ডার রাজাই আয়েদ (আল-হুসেইন) এবং মাহমুদ আল-মারদি (আল-হুসেইন)।

বিশ্বকাপে জর্ডান পড়েছে ‘গ্রুপ জে’-তে, যেখানে তাদের সঙ্গী রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়া। আগামী ১৬ জুন অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে জর্ডান তাদের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে।

জর্ডানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড হল:

গোলকিপার: ইয়াজিদ আবুলাইলা (আল-হুসেইন), আবদুল্লাহ আল ফাহুরি (আল-ওয়েহদাত), নূর বানি আতিয়াহ (আল-ফয়সালি)।

ডিফেন্ডার: ইহসান হাদ্দাদ (আল-হুসেইন), মোহাম্মদ আবুয়ালনদি (সেলাঙ্গর), হুসাম আবু দাহাব (আল-সামিয়া), মোহাম্মদ আবু হাশিশ (আল-কারমা), ইয়াজান আল-আরব (এফসি সিউল), আবদুল্লাহ নাসিব (আল-জাওরা), সালিম ওবায়েদ (আল-হুসেইন), সাইদ আল-রোসান (আল-হুসেইন), আনাস বাদাউই (আল-ফয়সালি), মোহান্নদ আবু তাহা (আল-কুয়া আল-জাওয়িয়া)।

মিডফিল্ডার: মোহাম্মদ আল দাউদ (আল-ওয়েহদাত), নিজার আল রাশদান (কাতার এসসি), নূর আল রাওয়াবদেহ (সেলাঙ্গর), রাজাই আয়েদ (আল-হুসেইন), আমের জামুস (আল-জাওরা), ইব্রাহিম সাদেহ (আল-কারমা)।

ফরোয়ার্ড: মাহমুদ আল-মারদি (আল-হুসেইন), মুসা আল-তামারি (রেন), আলী অলওয়ান (আল-সাইলাইয়া), ইব্রাহিম সাবরা (লোকোমোটিভা জাগরেব), ওদেহ আল-ফাহুরি (পিরামিডস), মোহাম্মদ আবু জরাইক (আল-হুসেইন), আলী আজাইজাহ (আল-শাবাব)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিলামে বিক্রি হবে পেলে’র বিশ্বকাপজয়ী জার্সি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


নিলামে বিক্রি হবে পেলে’র বিশ্বকাপজয়ী জার্সি

পেলেকে নিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান স্মারক এবার নিলামে উঠছে। বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সদবিস ঘোষণা করেছে, ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে'র ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে পরা জার্সি বিক্রি হবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সদবিস জানায়, চলতি বিশ্বকাপ চলাকালীন এই বিশেষ নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এই নিলামের প্রধান আকর্ষণ হলো পেলে'র ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি।

১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করেছিল। সেই ম্যাচে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেলে দুটি গোল করেছিলেন। এরপর তিনি একসময় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন এবং ব্রাজিলকে তিনটি বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সদবিসের ধারণা, জার্সিটি ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ৭০ কোটির টাকারও বেশি হতে পারে। আগামী ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এই নিলাম চলবে।

এই জার্সির সঙ্গে একটি বিশেষ গল্পও জড়িয়ে আছে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালের পর পেলে জার্সিটি তার বন্ধু ও সতীর্থ দিদাকে উপহার দেন। দিদার পরিবার বহু বছর এটি সংরক্ষণ করে রাখে এবং পরে এটি একটি জাদুঘরে স্থান পায়। এর আগে ২০০৪ সালেও জার্সিটি নিলামে তোলা হয়েছিল।

বর্তমানে ক্রীড়া স্মারক বিক্রির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রেকর্ড রয়েছে মাইকেল জর্ডানের জার্সির দখলে। ২০২২ সালে তার ‘লাস্ট ডান্স’ মৌসুমের জার্সি ১০১ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। একই বছরে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ জার্সি বিক্রি হয়েছিল ৯৩ লাখ ডলারে।

এবারের নিলামে পেলের জার্সির সঙ্গে ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচের একটি আর্মব্যান্ড এবং লিওনেল মেসির ব্যবহৃত কিছু স্মারকও রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘শত্রুর কৌশল এখন আমাদের নখদর্পণে’, যুদ্ধবিরতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৭ পি.এম


‘শত্রুর কৌশল এখন আমাদের নখদর্পণে’, যুদ্ধবিরতিতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দাবি ইরানের

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যেকোনো ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মঙ্গলবার ফার্স নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বী সাফ জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি আবারও সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তবে এবার তাদের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন যুদ্ধকৌশল ও ভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মুখোমুখি হতে হবে। বিদ্যমান সামরিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, আইআরজিসি যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময়টিকে ইরান তাদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহার করেছে। পশ্চিমা প্রচারণাকে তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন, বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধবিরতির সময়ে তাদের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোটের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা আঘাত হানার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মোহেব্বী আরও মন্তব্য করেছেন যে, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো শত্রুর শক্তি ও কৌশল সম্পর্কে একটি গভীর ও বাস্তবসম্মত ধারণা লাভ করা। যা আগে গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং গণমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হতো, এখন তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা দিয়ে ঝালাই করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানি বাহিনী এখন শত্রুপক্ষের সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, অপারেশনাল বেস এবং যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত জ্ঞান রাখে। শত্রুর আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক সরঞ্জাম এবং তাদের প্রতারণামূলক কৌশল এখন তেহরানের কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

ইসলামিক রিপাবলিকের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, দেশের যুদ্ধ সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর প্রচারণার বিপরীতে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংসও হয়নি এবং এর কার্যক্ষমতাও হ্রাস পায়নি। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিরবচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন।

মোহেব্বী বলেন, সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পুরো সময়জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বিশাল সামরিক বহর ব্যবহার করেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়নি। এই কৌশলগত নৌপথের ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রয়েছে, যা মূলত আইআরজিসির শক্তিরই একটি অনন্য প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।

সূত্র: প্রেস টিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে বাড়ির গেটে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুইজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


মোহাম্মদপুরে বাড়ির গেটে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুইজন আটক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসায় ফেরার পর গেটের সামনে দুই নারী ছিনতাইয়ের শিকার হন। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে এই আলোচিত ঘটনার কারণে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. জুয়েল ও আনোয়ার হোসেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) নারায়ণগঞ্জ থেকে র‌্যাব-২ ও মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময়ে তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ২টি চাপাতি, ১টি পিকআপসহ ছিনতাই করা মালামাল এবং ৩টি ব্যাগ জব্দ করা হয়।

র‍্যাব-২ এর উপপরিচালক (গণমাধ্যম) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনার সন্দেহভাজন প্রধান আসামি জুয়েলকেও নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

জানা গেছে, জুয়েলের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

গত শনিবার রাত ৩টার দিকে নামের দুই নারী কলকাতা থেকে ফিরে আসার পর গেটের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন। চাপাতির ভয় দেখিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল ও লাগেজ নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, রিকশা থেকে নেমে দুই নারী তাদের বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বাসায় ঢোকার অপেক্ষা করছেন। তাদের পাশেই রিকশাচালকও ছিলেন। হঠাৎ করেই চাপাতি হাতে একজন ব্যক্তি সেখানে হাজির হন, তার সাথে আরেকজন সহযোগীও ছিল। তারা চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যে দুই নারীর সঙ্গে থাকা লাগেজ, ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগী দুই নারী ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে করে শ্যামলীতে এসেছিলেন। সেখান থেকে একটি রিকশা নিয়ে তারা মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসার সামনে আসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%