বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:০৬ পি.এম
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সহ ছয়জন ভোট দেননি। নির্বাচন চলাকালীন ভোট দিয়েছেন মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান।
ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে সাফ জানিয়ে বলেন, ‘এই election অর্থহীন এবং প্রহসনের। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাই এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’
একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে কেন মনোনীত করা হয়নি, সে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত।
তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না?’
রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে দলটি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট কেন আমি দেব?’
রুমিন ফারহানা ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়া অন্য পাঁচজন হলেন, বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা। এছাড়া বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়, তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে (৩৮) গ্রেপ্তারের পর, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একাধিক গায়েবি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। যুবদল নেতা মোহাম্মদ হানিফ নন, বলে পুলিশ দাবি করেছে। তারা বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি একই নামের অন্যান্য একজন হানিফ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তারের পর তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার পরবর্তীতে, দ্রুত বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায়, তমরুদ্দী ইউনিয়নের কাটাখালি এলাকা থেকে মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে হাতিয়া থানায় না নিয়ে নলচিরা নৌ-পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়, যা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। পরে, বৃহস্পতিবার তাঁকে নোয়াখালী জেলা শহরে সুধারাম থানায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে, দুপুরের দিকে, তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একটি রাজনৈতিক মারামারির মামলায় সম্প্রতি আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২০২৬ সালের তিনটি চুরি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তমরুদ্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার বলেন, হানিফ ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক এবং অতীতে রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নতুন তিনটি গায়েবি চুরির মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, যদি তিনি অপরাধী হন, তবে প্রচলিত আইনে বিচার হবে। তবে, গায়েবি মামলায় তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে?
তিনি বলেন, তিনি কোনো পেশাদার চোর বা অপরাধী নন। পুলিশ কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তাঁকে তিনটি চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মত নিরীহ মানুষকে মিথ্যা এবং গায়েবি মামলায় হয়রানি করছে হাতিয়া থানার ওসি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসনের মধ্যে এরা কারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। তিনি বলেন, যাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তাঁর কোন বিএনপির পদ নেই। স্থানীয়দের থেকে ভালোভাবে খোঁজ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার ভারত এবং জাপান সামুদ্রিক সহযোগিতা সহ নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং তার জাপানি সমপক্ষ শিনজিরো কোইজুমি নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন, যা যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ভারত ও জাপান যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় তথাকথিত কোয়াড নিরাপত্তা জোটের সদস্য। এই জোটকে চীনের ভারত মহাসাগর এবং বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এএফপি জানায়, বৈঠকের শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে দুই মন্ত্রী তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
বৈঠকের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এ ধরনের সহযোগিতা শুধু জাপান এবং ভারতের জন্যই নয়, বরং অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’ ভারত তার অভ্যন্তরীণ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগে জাপানের আরও বেশি পুঁজি ও প্রযুক্তিগত সম্পৃক্ততা চায়।
দুই মন্ত্রী বলেন, জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশটির উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নৌযান নির্মাণ ও নকশায় যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পের সুযোগ খতিয়ে দেখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জুলাই মাসে তাঁর জাপানি সমকক্ষ সানায়ে তাকাইচিকে আতিথ্য দেওয়ার পর কোইজুমির এই সফর অনুষ্ঠিত হলো। ওই বৈঠকে দুই নেতা চীনের প্রাধান্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছিলেন।
ওই বৈঠকের পর তাকাইচি বলেছিলেন, ‘জাপান ও ভারত অর্থনীতির সশস্ত্রায়ন এবং বাজারবহির্ভূত নীতি ও চর্চা সহ’ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
মোদির সঙ্গে তাকাইচির বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ‘তৃতীয় কোনো পক্ষকে লক্ষ্য করা বা তার স্বার্থের ক্ষতি করা উচিত নয়, এমনকি একচেটিয়া গোষ্ঠী গঠন বা সংঘাত উসকে দেওয়ার অজুহাত হিসেবেও’ এই সহযোগিতা ব্যবহার করা উচিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ মোট ১৪৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১০ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ ২০ হাজার ৫৩০ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান। তিনি জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম পীর সাহেবপাড়া গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৮৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ৪ হাজার ৭০০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনসহ মোঃ ফটিক সরকারের ছেলে মোঃ ফরহাদ আলী ওরফে পারভেজ (২৫) এবং গোলজারবাগ গুড়িপাড়া গ্রামের মোঃ বাবুর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রিফাত (২১) গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পারভেজের বিরুদ্ধে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় দুটি, দামকুড়া থানায় একটি এবং রাজপাড়া থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এ সব মামলায় তাকে ২০২৫ সালের ৮ মে, ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই, ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট এবং ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়েছিল। রিফাতের বিরুদ্ধেও কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ১৫ হাজার ২০০ টাকা এবং মাদক সরবরাহে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো: উত্তর নওদাপাড়া গ্রামের মৃত ইসরাইল হোসেনের ছেলে মোঃ তুষার ইমরান (২৬), মধ্য নওদাপাড়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মোঃ রায়হান ইসলাম (২৭), উত্তর নওদাপাড়া (কালুর মোড়) গ্রামের মোঃ সুরাপের ছেলে মোঃ সাহারুপ আলী ওরফে রবিন (২২), একই গ্রামের মোঃ শরিফুল ইসলামের ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম ওরফে সাব্বির (২৫) এবং উত্তর নওদাপাড়া গ্রামের মোঃ আবু বক্করের ছেলে মোঃ রাব্বি (২৬)।
এদিকে, বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা মতি চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৬৩০ টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আলীগঞ্জ বাগারপাড়া গ্রামের মোঃ মাহাতাব আলীর ছেলে মোঃ মুরাদ হোসেন (৪০) গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন দফার মারাত্মক শুল্ক আরোপ স্থগিত করার পর, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি রয়েছে।
‘আমরা কানাডার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি,' ট্রাম্প বুধবার বলেছেন এবং তিনি যোগ করেন যে এটি ‘দলিল চূড়ান্তকরণের ওপর নির্ভরশীল।' তিনি পরে বলেন: ‘আমরা কিছু শুল্ক কমিয়ে অন্যান্য দেশের পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি, কারণ কানাডাকে উচ্চতর শুল্ক দিতে হচ্ছিল।'
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কিছুটা সতর্ক ভঙ্গিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান যে অটোয়া ও ওয়াশিংটন ‘এখন একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।’ পরিকল্পিত মার্কিন শুল্ক, যা ৫০ শতাংশ হারে ধার্য করা হয়েছিল, তা মূলত মঙ্গলবারের পর থেকে কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ট্রাম্প মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘোষণা করেন যে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য কাজ করায় তিনি এগুলোর সূচনা তিন দিনের জন্য বিলম্বিত করবেন।
ব্লুমবার্গ নিউজ বুধবার জানায় যে, এই খসড়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী কানাডার কিছু ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানির ওপর মার্কিন শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। যদিও অন্যান্য ধাতুগুলো থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন হার প্রযোজ্য হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর বিস্তারিত বিবরণ এখনো চূড়ান্ত নয়।
গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং বনজ পণ্যের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক কানাডার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সপ্তাহব্যাপী আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করা অটোয়ার জন্য একটি অগ্রাধিকার ছিল।
বুধবার কার্নি আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র জন্য তার কানাডা-মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক এবং ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচক জেমিসন গ্রিয়ারের প্রশংসা করেন। লেব্লাঙ্ক একটি পৃথক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, বুধবার ওয়াশিংটনে গ্রিয়ারের সঙ্গে তার আবারও দেখা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই ‘একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।’
বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি গ্রিয়ার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, তাদের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হয়েছে যা ‘উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।’
সিএনবিসি’র প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদিও আমি মনে করি আমরা গত এক বছরে থাকা কিছু অস্বস্তিকর বিষয় অবশ্যই দূর করেছি, তবে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’ ট্রাম্প বুধবার বলেন, এতে মার্কিন কৃষকরা লাভবান হবেন, যারা কানাডার বাজারে সীমিত প্রবেশাধিকার নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন।
৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার সময় হোয়াইট হাউস অভিযোগ করেছিল যে, কানাডা মার্কিন মদ, গাড়ি ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ করছে। কার্নি বলেন, এই চুক্তিটি কানাডার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খাতে সর্বেোত্তম শর্ত নিশ্চিত করে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিষয়ে অধিকতর নিশ্চয়তা প্রদান করে।
১ জুলাই কানাডাও বিদ্যমান উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি নবায়ন করার আগ্রহ নিশ্চিত করেছে, কিন্তু ট্রাম্প এতে ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একটি সংশোধিত চুক্তি নিয়ে পক্ষগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে নিবিড় আলোচনায় নিযুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ