প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়, তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে (৩৮) গ্রেপ্তারের পর, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একাধিক গায়েবি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। যুবদল নেতা মোহাম্মদ হানিফ নন, বলে পুলিশ দাবি করেছে। তারা বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি একই নামের অন্যান্য একজন হানিফ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তারের পর তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার পরবর্তীতে, দ্রুত বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায়, তমরুদ্দী ইউনিয়নের কাটাখালি এলাকা থেকে মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে হাতিয়া থানায় না নিয়ে নলচিরা নৌ-পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয়, যা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। পরে, বৃহস্পতিবার তাঁকে নোয়াখালী জেলা শহরে সুধারাম থানায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে, দুপুরের দিকে, তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একটি রাজনৈতিক মারামারির মামলায় সম্প্রতি আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২০২৬ সালের তিনটি চুরি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তমরুদ্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার বলেন, হানিফ ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক এবং অতীতে রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নতুন তিনটি গায়েবি চুরির মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, যদি তিনি অপরাধী হন, তবে প্রচলিত আইনে বিচার হবে। তবে, গায়েবি মামলায় তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে?
তিনি বলেন, তিনি কোনো পেশাদার চোর বা অপরাধী নন। পুলিশ কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তাঁকে তিনটি চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মত নিরীহ মানুষকে মিথ্যা এবং গায়েবি মামলায় হয়রানি করছে হাতিয়া থানার ওসি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, প্রশাসনের মধ্যে এরা কারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। তিনি বলেন, যাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তাঁর কোন বিএনপির পদ নেই। স্থানীয়দের থেকে ভালোভাবে খোঁজ নেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন