বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:০৮ পি.এম
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার ভারত এবং জাপান সামুদ্রিক সহযোগিতা সহ নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং তার জাপানি সমপক্ষ শিনজিরো কোইজুমি নয়াদিল্লিতে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তারা সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন, যা যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ভারত ও জাপান যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় তথাকথিত কোয়াড নিরাপত্তা জোটের সদস্য। এই জোটকে চীনের ভারত মহাসাগর এবং বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এএফপি জানায়, বৈঠকের শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে দুই মন্ত্রী তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
বৈঠকের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘এ ধরনের সহযোগিতা শুধু জাপান এবং ভারতের জন্যই নয়, বরং অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।’ ভারত তার অভ্যন্তরীণ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগে জাপানের আরও বেশি পুঁজি ও প্রযুক্তিগত সম্পৃক্ততা চায়।
দুই মন্ত্রী বলেন, জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশটির উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নৌযান নির্মাণ ও নকশায় যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পের সুযোগ খতিয়ে দেখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জুলাই মাসে তাঁর জাপানি সমকক্ষ সানায়ে তাকাইচিকে আতিথ্য দেওয়ার পর কোইজুমির এই সফর অনুষ্ঠিত হলো। ওই বৈঠকে দুই নেতা চীনের প্রাধান্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছিলেন।
ওই বৈঠকের পর তাকাইচি বলেছিলেন, ‘জাপান ও ভারত অর্থনীতির সশস্ত্রায়ন এবং বাজারবহির্ভূত নীতি ও চর্চা সহ’ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
মোদির সঙ্গে তাকাইচির বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ‘তৃতীয় কোনো পক্ষকে লক্ষ্য করা বা তার স্বার্থের ক্ষতি করা উচিত নয়, এমনকি একচেটিয়া গোষ্ঠী গঠন বা সংঘাত উসকে দেওয়ার অজুহাত হিসেবেও’ এই সহযোগিতা ব্যবহার করা উচিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ মোট ১৪৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১০ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ ২০ হাজার ৫৩০ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন নগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ গাজিউর রহমান। তিনি জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম পীর সাহেবপাড়া গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৮৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির ৪ হাজার ৭০০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোনসহ মোঃ ফটিক সরকারের ছেলে মোঃ ফরহাদ আলী ওরফে পারভেজ (২৫) এবং গোলজারবাগ গুড়িপাড়া গ্রামের মোঃ বাবুর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রিফাত (২১) গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পারভেজের বিরুদ্ধে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় দুটি, দামকুড়া থানায় একটি এবং রাজপাড়া থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এ সব মামলায় তাকে ২০২৫ সালের ৮ মে, ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই, ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট এবং ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়েছিল। রিফাতের বিরুদ্ধেও কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ১৫ হাজার ২০০ টাকা এবং মাদক সরবরাহে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো: উত্তর নওদাপাড়া গ্রামের মৃত ইসরাইল হোসেনের ছেলে মোঃ তুষার ইমরান (২৬), মধ্য নওদাপাড়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মোঃ রায়হান ইসলাম (২৭), উত্তর নওদাপাড়া (কালুর মোড়) গ্রামের মোঃ সুরাপের ছেলে মোঃ সাহারুপ আলী ওরফে রবিন (২২), একই গ্রামের মোঃ শরিফুল ইসলামের ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম ওরফে সাব্বির (২৫) এবং উত্তর নওদাপাড়া গ্রামের মোঃ আবু বক্করের ছেলে মোঃ রাব্বি (২৬)।
এদিকে, বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা মতি চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ৬৩০ টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আলীগঞ্জ বাগারপাড়া গ্রামের মোঃ মাহাতাব আলীর ছেলে মোঃ মুরাদ হোসেন (৪০) গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন দফার মারাত্মক শুল্ক আরোপ স্থগিত করার পর, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি রয়েছে।
‘আমরা কানাডার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি,' ট্রাম্প বুধবার বলেছেন এবং তিনি যোগ করেন যে এটি ‘দলিল চূড়ান্তকরণের ওপর নির্ভরশীল।' তিনি পরে বলেন: ‘আমরা কিছু শুল্ক কমিয়ে অন্যান্য দেশের পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারি, কারণ কানাডাকে উচ্চতর শুল্ক দিতে হচ্ছিল।'
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কিছুটা সতর্ক ভঙ্গিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান যে অটোয়া ও ওয়াশিংটন ‘এখন একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।’ পরিকল্পিত মার্কিন শুল্ক, যা ৫০ শতাংশ হারে ধার্য করা হয়েছিল, তা মূলত মঙ্গলবারের পর থেকে কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ট্রাম্প মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘোষণা করেন যে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য কাজ করায় তিনি এগুলোর সূচনা তিন দিনের জন্য বিলম্বিত করবেন।
ব্লুমবার্গ নিউজ বুধবার জানায় যে, এই খসড়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী কানাডার কিছু ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানির ওপর মার্কিন শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। যদিও অন্যান্য ধাতুগুলো থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন হার প্রযোজ্য হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর বিস্তারিত বিবরণ এখনো চূড়ান্ত নয়।
গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং বনজ পণ্যের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক কানাডার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সপ্তাহব্যাপী আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করা অটোয়ার জন্য একটি অগ্রাধিকার ছিল।
বুধবার কার্নি আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র জন্য তার কানাডা-মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক এবং ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচক জেমিসন গ্রিয়ারের প্রশংসা করেন। লেব্লাঙ্ক একটি পৃথক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, বুধবার ওয়াশিংটনে গ্রিয়ারের সঙ্গে তার আবারও দেখা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই ‘একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।’
বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি গ্রিয়ার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, তাদের মধ্যে এমন একটি চুক্তি হয়েছে যা ‘উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।’
সিএনবিসি’র প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদিও আমি মনে করি আমরা গত এক বছরে থাকা কিছু অস্বস্তিকর বিষয় অবশ্যই দূর করেছি, তবে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’ ট্রাম্প বুধবার বলেন, এতে মার্কিন কৃষকরা লাভবান হবেন, যারা কানাডার বাজারে সীমিত প্রবেশাধিকার নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন।
৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার সময় হোয়াইট হাউস অভিযোগ করেছিল যে, কানাডা মার্কিন মদ, গাড়ি ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ করছে। কার্নি বলেন, এই চুক্তিটি কানাডার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত খাতে সর্বেোত্তম শর্ত নিশ্চিত করে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিষয়ে অধিকতর নিশ্চয়তা প্রদান করে।
১ জুলাই কানাডাও বিদ্যমান উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি নবায়ন করার আগ্রহ নিশ্চিত করেছে, কিন্তু ট্রাম্প এতে ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একটি সংশোধিত চুক্তি নিয়ে পক্ষগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে নিবিড় আলোচনায় নিযুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ধামরাইয়ে চলতি বছরে কোনো অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না, এই ঘোষণা দিলেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই—এমন কোনো ইটভাটাকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিনব্যাপী ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, ‘ঢাকা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে ধামরাই উপজেলায়। তবে চলতি বছরে এখানে কোনো ধরনের অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই—এমন কোনো ইটভাটাকে কোনোভাবেই কার্যক্রমে আসতে দেওয়া হবে না।
তবে স্বল্প পরিসরে কিছু ইটভাটাকে অনুমতি দেওয়া হতে পারে, সেটিও যথাযথ যাচাই-বাছাই করে।’
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগরের বেদেপল্লির ৬৩ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। এ ছাড়া ১২ জনকে ঢেউটিন ও নগদ ৬ হাজার টাকা করে, ১১৩ জনকে শাড়ি ও থ্রিপিস এবং ২০০ শিশুর মধ্যে খেলনা বিতরণ করা হয়।
এ সময় বেদে সম্প্রদায়কে আধুনিক ও মূলধারার সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন ফরিদা খানম।
শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সহায়তা বিষয়ে বেদেপল্লির বাসিন্দাদের সচেতন করেন তিনি। শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি বেদেদের জীবনমান উন্নয়নে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি।
এ ছাড়া বেদেদের বাসস্থানের জন্য ১০ দিনের মধ্যে খাসজমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেখানে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক।
এর আগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরিদা খানম।
তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার বিষয়ে শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে নজর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ১৮৬ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাদের অভিনন্দন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এ সাফল্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভালো ফল নয়, জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় তিনটি প্রতিবন্ধী স্কুলে শিক্ষা উপকরণ, ছয়জন উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মীর মধ্যে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ এবং একজন প্রতিবন্ধীকে ৪ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্পোর্টস ক্লাবসহ ৪০টি প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত ১৫টি স্কুলে খেলনা ও শিক্ষা উপকরণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং ৪২ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়। গ্রাম পুলিশের সদস্যদের মধ্যেও পোশাক বিতরণ করেন তিনি।
‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে অন্ধ, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, প্রতিবন্ধী ও শিক্ষার্থীসহ ১৫ জন দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ধামরাই পৌরশহরের আব্দুস সোবহান মডেল হাইস্কুল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। পরে ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও জালসা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিভাগের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে মোঃ ইউসুফ আলী নিয়োগ পেয়েছেন, যিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সদস্য-পরিচালক।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জনগণের প্রশাসনের মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের স্বাক্ষরিত আদেশের মাধ্যমেই মোঃ ইউসুফ আলীকে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। একজন একদিন পর তিনি নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে ইউসুফ আলীকে নিয়োগ দিয়েছেন।
বিএডিসির সদস্য-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার রাজশাহী বিভাগের প্রশাসনিক নেতৃত্বের গুরুত্বপর্ণ দায়িত্ব পেলেন ইউসুফ আলী। নতুন দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বিভাগের আট জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ, উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি এবং সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অধিক গুরুত্ব রাখবেন।
রাজশাহী বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও আন্তঃজেলা সমন্বয়ে নতুন বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ