ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহতের দাবি করল সংযুক্ত আরব আমিরাত


ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহতের দাবি করল সংযুক্ত আরব আমিরাত

 সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে যে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহতে কাজ করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হামলা চালানোর পরে প্রতিবেশী বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে শোনা বিকট শব্দটি ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার চলমান অভিযানের ফলে হচ্ছে।

এদিকে, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্যে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, ‘গুণগত ও পরিকল্পিত জনসংখ্যা একটি দেশের প্রধান সম্পদ ও শক্তি। এটি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি এবং সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ও অদক্ষ জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

রাষ্ট্রপতি আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার জনসংখ্যার আকারের উপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে।

তিনি আরও বলেন, ‘অদক্ষ ও বেকার জনসংখ্যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শ্রমবাজার, পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দেয়।’

এছাড়া তিনি ভারসাম্যপূর্ণ জনসংখ্যা নিশ্চিত করতে এবং এর গুণগত মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ যাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘তিনি ১৯৭৬ সালে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন ও ‘জনসংখ্যা নীতি’ প্রণয়ন করেন, যা তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা সামাজিক-অর্থনৈতিক মুক্তি কর্মসূচির অন্যতম দফা ছিল ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই প্রক্রিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেন জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনের লক্ষ্যে।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন, যার ফলে বাল্যবিবাহ কমে যায় এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিবার পরিকল্পনার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ। আমাদের জনসংখ্যার চাপ সীমিত ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর তুলনায় অত্যন্ত বেশি। দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি, সীমিত বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

এমন বাস্তবতায় জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র পরিবার পরিকল্পনা বা স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এবং এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। অর্থনীতির ভাষায় যা জনমিতিক লভ্যাংশ।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং চীনের মতো বহু দেশ এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদাহরণ স্থাপন করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। তাই আজকের তরুণদের আগামী দিনের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে এ year's বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’, যা আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে মিল রেখে চলেছে।’

তিনি এ প্রতিপাদ্যকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে বিশ্ব অর্থনীতি ও শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে তরুণদের বিভিন্ন দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে। সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব ও নৈতিকতা উন্নয়ন প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং শ্রমবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা তরুণদের দেশীয় এবং বৈশ্বিক উভয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম করে।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও মোট জনসংখ্যার বিশাল ভিত্তির কারণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু জন্মগ্রহণ করছে।

দ্বিতীয়ত, মোট প্রজনন হার গত দেড় দশক ধরে প্রায় দুই দশমিক তিন-এ স্থির রয়েছে। এই হারকে দুই এর কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ।

তৃতীয়ত, অশিক্ষিত ও পশ্চাৎপদ পরিবারের জন্মহার তুলনামূলক বেশি। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে।

চতুর্থত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিয়ের গড় বয়স বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম সামাজিক অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এবং ‘চিকিৎসার অভাবে কোনো মৃত্যু নয়’ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং জনগণের অংশগ্রহণও অপরিহার্য।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সুযোগও আছে। আমি মনে করি, আজকের সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি রচনা করবে। পরিকল্পিত পরিবার, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসন এই ছয়টি ভিত্তিকে সমান গুরুত্ব দিতে পারলেই জনসংখ্যা জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।

রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর সরকারের সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’

এর আগে রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য খাতের তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকআউটে ইংল্যান্ডকে শেষবার হাতের গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা, জেনে নিন সেই ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


নকআউটে ইংল্যান্ডকে শেষবার হাতের গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা, জেনে নিন সেই ইতিহাস

নকআউটে শেষবার ইংল্যান্ডকে হাত দিয়ে গোল করে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এই বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্বকাপে সবশেষ, ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে জয় এনে দিয়েছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। এরপর কেটে গেছে ২৪টি বছর। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে আলবিসেলেস্তাদের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি ইংলিশদের।

অন্যদিকে, শেষ হচ্ছে অপেক্ষা। আগামী ১৬ জুলাই আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ২০০২ সালে গ্রুপ পর্বে খেললেও নকআউট পর্বে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল ১৯৮৬ সালে। সেই সময় ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ২২ জুন ১৯৮৬ তারিখে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। এর পেছনে জড়িয়ে ছিল রাজনৈতিক ও আবেগীয় আবহ।

ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র চার বছর আগে (১৯৮২ সালে) ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের (ইংল্যান্ড) মধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয়েছিল। ফলে ফুটবল মাঠে দুই দলের মুখোমুখি হওয়াটা দুই দেশের মানুষের কাছে এক ভিন্ন মাত্রার মর্যাদার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছিল।

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হলেও, দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা এমন দুটি গোল করেন, যেগুলি ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সের ভিতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুলবশত নিজেদের বক্সের দিকে ভাসিয়ে দেন ইংলিশ ডিফেন্ডার স্টিভ হজ।

ম্যারাডোনা এবং ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটন দুজনেই বলের দিকে লাফিয়ে ওঠেন। শিলটন ম্যারাডোনার চেয়ে উচ্চতায় অনেক বড় হওয়া সত্ত্বেও, ম্যারাডোনা চালাকি করে তার বাম হাত দিয়ে বলটি শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে জালে ঠেলে দেন। তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের ফাউলটি খেয়াল না করায় এটিকে বৈধ গোল হিসেবে ঘোষণা করেন।

ম্যাচের পর সেই গোল নিয়ে ম্যারাডোনা রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে গোল করা হয়েছিল।’ পরবর্তীতে এই গোলটি ইতিহাসে হ্যান্ড অব গড নামে পরিচিতি পায়। এরপর আরও একটি গোল জানিয়েছিল এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় পায় তারা। সেই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

ফলে, প্রায় ৪০ বছর পর আবারও নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই ম্যাচের আগে আবারও আলোচনায় এসেছে ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক গোলটি।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে ফলাফলের দিক থেকে এগিয়ে ইংল্যান্ড। তবে নকআউট পর্বের সবচেয়ে স্মরণীয় দুই ম্যাচ হচ্ছে ১৯৮৬ ও ১৯৯৮। এই দুই ম্যাচেই শেষ হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপে দুই দলের আগের পাঁচ লড়াইয়ের ফলাফল

১৯৬২ (গ্রুপ পর্ব): ইংল্যান্ড ৩-১ আর্জেন্টিনা

১৯৬৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল): ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা

১৯৮৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল): আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড— ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ম্যাচ

১৯৯৮ (শেষ ষোল): আর্জেন্টিনা ২-২ ইংল্যান্ড (পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনার ৪-৩ জয়)—মাইকেল ওয়েনের অসাধারণ গোল এবং ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডে আলোচিত ম্যাচ।

২০০২ (গ্রুপ পর্ব): ইংল্যান্ড ১-০ আর্জেন্টিনা— ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে জয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজিমপুর কবরস্থানে কঙ্কাল বাণিজ্য, ঘাসের বস্তায় ভরে পাচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


আজিমপুর কবরস্থানে কঙ্কাল বাণিজ্য, ঘাসের বস্তায় ভরে পাচার

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে কঙ্কাল পাচারকারীর সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কবর থেকে মরদেহের হাড় তুলে তারা বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে। কবরস্থানে প্রিয়জনদের দাফন করা পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ আজিমপুর কবরস্থানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি মরদেহ দাফন করা হয়ে থাকে। প্রায় ৩২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই কবরস্থানে প্রায় ৩০ হাজার কবর বিদ্যমান। অভিযোগ পাওয়া গেছে, কিছু গোরখোদক ও তাদের সহযোগীরা নির্দিষ্ট কবর চিহ্নিত করে এবং সুযোগ বুঝে সেখান থেকে মরদেহের হাড় তুলে পাচার করছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কঙ্কাল ক্রেতা পরিচয়ে যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্যরা জানান, ছয় থেকে সাত মাস পুরোনো এবং নামফলকবিহীন কবর থেকে হাড় সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ। প্রয়োজনে সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল সরবরাহ করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তারা।

একটি মানুষের ২০৬টি হাড় গুনে গুনে সরবরাহ করা হবে, এই দাবি জানান চক্রের একজন সদস্য। এর জন্য তারা ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের দাবি, কবর খননের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই কাজ করেন।

অনুসন্ধানের সময় জানা যায়, সন্ধ্যার পর কবর খুঁড়ে হাড় বের করা হয় এবং ঘাস ভর্তি বস্তায় নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। যোগাযোগ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করা হয় এবং লেনদেনের পর পক্ষগুলি পরস্পরকে চিনতে পারে না এমন ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়।

চক্রের সমন্বয়কারী হিসাবে পরিচিত একজন দাবি করেন, একটি মরদেহ থেকে সব হাড় পাওয়া যায় না, তাই দুই বা তিনটি মরদেহের হাড় একত্র করে পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল তৈরি করা হয়। তিনি আরও জানান, অতীতে অনেকের কাছে কঙ্কাল সরবরাহ করেছেন এবং এই কাজ থেকে পাওয়া টাকার একটি অংশ এতিমখানায় দান করা হয়।

কবরস্থানের একজন গোরখোদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিনের দাফনের মধ্যে কিছু কবর আগে থেকেই নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর মরদেহ অন্য কবরে সরিয়ে রেখে পরে সেখান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করা হয়।

এ বিষয়ে লালবাগ থানার পুলিশ জানায়, কঙ্কাল চুরির অভিযোগ নতুন নয়, তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরিও জমা পড়েনি। ফলে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু করা সম্ভব হয়নি। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন আলী গণমাধ্যমকে বলেন, কঙ্কাল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানিয়েছেন লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দুই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


ঢাকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দুই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা শহরের বিপুল পরিমাণ বর্জ্যকে বিদ্যুৎ এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমিনবাজার এবং মাতুয়াইলে দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্প দুভাবে কার্যকর হবে, যাতে প্রতিদিন কয়েক হাজার টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। উপরন্তু, মিথেন গ্যাস, সার, পশুখাদ্য ও পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান প্রকল্প দুটির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকটি সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জানান যে, ঢাকার আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে চীনের সিএমইসি গ্রুপ। এই প্রকল্পে প্রতিদিন ঢাকা শহরের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করা হবে। এসব বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোনো সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে পারবে।

এই প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর আগামী ২৫ বছর সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরেকটি বড় প্রকল্প হচ্ছে মাতুয়াইলে, যা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি সহযোগিতা করবে। এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে এর থেকে মিথেন গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

মাতুয়াইলের প্রকল্প অনুযায়ী, বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস উৎপাদিত হবে। সেই গ্যাস ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দৈনিক হিসাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ হবে প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা। মাতুয়াইলের প্রকল্পটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ, সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টন বর্জ্য এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, যদি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয় তাহলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর গ্যাস নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রশমনেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে, প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দেন স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%