০২:১৪ পি.এম
রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে কঙ্কাল পাচারকারীর সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কবর থেকে মরদেহের হাড় তুলে তারা বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে। কবরস্থানে প্রিয়জনদের দাফন করা পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ আজিমপুর কবরস্থানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি মরদেহ দাফন করা হয়ে থাকে। প্রায় ৩২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই কবরস্থানে প্রায় ৩০ হাজার কবর বিদ্যমান। অভিযোগ পাওয়া গেছে, কিছু গোরখোদক ও তাদের সহযোগীরা নির্দিষ্ট কবর চিহ্নিত করে এবং সুযোগ বুঝে সেখান থেকে মরদেহের হাড় তুলে পাচার করছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কঙ্কাল ক্রেতা পরিচয়ে যোগাযোগ করলে চক্রের সদস্যরা জানান, ছয় থেকে সাত মাস পুরোনো এবং নামফলকবিহীন কবর থেকে হাড় সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ। প্রয়োজনে সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল সরবরাহ করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তারা।
আরও পড়ুন: দ্রুত সময়ে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দৃশ্যমান হবে: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
একটি মানুষের ২০৬টি হাড় গুনে গুনে সরবরাহ করা হবে, এই দাবি জানান চক্রের একজন সদস্য। এর জন্য তারা ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের দাবি, কবর খননের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই কাজ করেন।
অনুসন্ধানের সময় জানা যায়, সন্ধ্যার পর কবর খুঁড়ে হাড় বের করা হয় এবং ঘাস ভর্তি বস্তায় নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। যোগাযোগ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করা হয় এবং লেনদেনের পর পক্ষগুলি পরস্পরকে চিনতে পারে না এমন ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়।
চক্রের সমন্বয়কারী হিসাবে পরিচিত একজন দাবি করেন, একটি মরদেহ থেকে সব হাড় পাওয়া যায় না, তাই দুই বা তিনটি মরদেহের হাড় একত্র করে পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল তৈরি করা হয়। তিনি আরও জানান, অতীতে অনেকের কাছে কঙ্কাল সরবরাহ করেছেন এবং এই কাজ থেকে পাওয়া টাকার একটি অংশ এতিমখানায় দান করা হয়।
কবরস্থানের একজন গোরখোদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিদিনের দাফনের মধ্যে কিছু কবর আগে থেকেই নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময় পর মরদেহ অন্য কবরে সরিয়ে রেখে পরে সেখান থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করা হয়।
আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!
এ বিষয়ে লালবাগ থানার পুলিশ জানায়, কঙ্কাল চুরির অভিযোগ নতুন নয়, তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরিও জমা পড়েনি। ফলে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু করা সম্ভব হয়নি। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন আলী গণমাধ্যমকে বলেন, কঙ্কাল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই কথা জানিয়েছেন লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন