১০:৩৬ পি.এম
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে করা হামলার জবাবে ইসরাইলে ইরান ও ইয়েমেনের হুথির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, লেবাননের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের জবাবে ইরান ও ইয়েমেনের যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে হামাস। এটা অঞ্চলভিত্তিক দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলি আক্রমণের মুখে সত্যিকারের সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) এক সংবাদ বিবৃতিতে কাসেম বলেন, হামাস এই অবস্থানকে ‘জাতির সকল উপাদানের মধ্যে যে সংহতি থাকা উচিত, তার প্রকৃত রূপ’ হিসেবে এক নজরে দেখে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
কাসেম আরও বলেন, ইরানি ও ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হামাস বারবার আশ্বাস পেয়েছে যে, তারা সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়—এর মধ্যে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধও রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান হামাসকে রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ইরান ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের অধিকারকে সমর্থন করে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন জানাচ্ছে।
কাসেম বলেন, হামাস আশা করছে যে, বর্তমান এই সংহতি ও সরাসরি সমর্থন গাজার দিকেও প্রসারিত হবে এবং গাজা উপত্যকা যুদ্ধের অবসান ও আগ্রাসন থামানোর সাথে সম্পর্কিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকবে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইল লেবাননে বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অব্যাহত হামলার ফলে ইরান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। শান্তি চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি।
আরও পড়ুন: তানজিন তিশার মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে
হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইল গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে হামলা শুরু করে, যা এখনো চলমান। ঐ হামলায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং অগণিত মানুষ আহত হয়েছে। উদ্বাস্তু হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন।
সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে লেবানন কর্তৃপক্ষা। তবে হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং হামলা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এতে সমর্থন জানিয়েছে ইরান। প্রতিক্রিয়ায় লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তেহরানের প্রতি তাদের দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, ইসরাইল যখন বৈরুতে হামলার ভয় দেখাচ্ছে তখন তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈরুতে হামলা হলে তারা নির্বাক থাকবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বৈরুতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানান।
এরপরও, গত রোববার (৬ জুন) ইসরাইল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে বিমান হামলা চালায়। ইসরাইলের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সংঘাতের পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক মোড় নেয়। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওইদিন রাতেই উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান।
আরও পড়ুন: হুথিদের হামলার মধ্যে তাইফ ও জাজান অঞ্চলে সতর্কতা প্রত্যাহার
তারপর সোমবার (৮ জুন) সকালে ইরানে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসপাহানে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা চালায় ইরান। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন