ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্নীতির ভিড়ে সততার মহাকাব্য: প্রকল্পের ৭৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন


দুর্নীতির ভিড়ে সততার মহাকাব্য: প্রকল্পের ৭৩ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও দবির উদ্দিন

দুর্নীতি আর অনিয়মের ভিড়ে সততা ও নিষ্ঠার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন। সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা নিজের পকেটে না ভরে, সরাসরি সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি। তাঁর এমন সততা ও দেশপ্রেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বস্তরে প্রশংসায় ভাসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সালথা এলাকায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি খাল খনন প্রকল্পের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ তিন মাস ধরে তীব্র রোদ-গরম উপেক্ষা করে নিজে মাঠে দাঁড়িয়ে কাজের তদারকি করেন ইউএনও মো. দবির উদ্দিন।

প্রকল্পের কাজ শতভাগ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার পর শ্রমিকদের মজুরিসহ যাবতীয় খরচ মিটিয়ে দেখা যায়, বরাদ্দের একটি বড় অংশ উদ্বৃত্ত রয়েছে। সাধারণত সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ অন্য কোনো খাতে দেখিয়ে কিংবা নানা অজুহাতে আত্মসাতের ঘটনা ঘটলেও, ইউএনও দবির উদ্দিন বেছে নিয়েছেন সততার পথ। তিনি হিসাব-নিকাশ শেষে সুনির্দিষ্টভাবে বেঁচে যাওয়া ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করে দেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে কুমারী পূজা পরিদর্শনে কায়সার কামাল, দিলেন সম্প্রীতি ও শিক্ষার বার্তা

শুধু অর্থ সাশ্রয়ই নয়, কাজের গুণগত মান ও ফিনিশিং এতটাই চমৎকার হয়েছে যে, স্বয়ং জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

এই বিষয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, "সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও যথাযথ ব্যবহারই সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।"

এক কোটি টাকার বেশি বাজেটের একটি প্রকল্প থেকে প্রায় ৭৩ লাখ টাকা বাঁচিয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই ঘটনাকে প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এমন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা থাকলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: আবু তাহের তালুকদারের নেতৃত্বে পূর্বধলায় ৬৬ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, আর্থিক সহায়তা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বাড়ানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগও আবার সামনে এসেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, সোমবার (১৩ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৩৪ ডলার বা ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৩৫ ডলারে পৌঁছে গেছে। অপরদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ২১ ডলার বা ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৬২ ডলারে।

সপ্তাহান্তে তেহরান কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার পরিমাণ আরও বাড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালায়। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের উপর ভিত্তি করে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এর আগে ইরান দাবি করেছিল, একটি জাহাজ অনুমোদিত পথের বাইরে প্রবেশ করে হামলার শিকার হয়ে যাওয়ার পর তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।

জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তৈরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র ছয়টি জাহাজ। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পরিমাণ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল আরও ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং সংঘাতের অবসান ঘটানো।

শুক্রবার প্রকাশিত একটি মাসিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ওই চুক্তির পর জুন মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে এটি এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম।

এএনজেডের বিশ্লেষকরা তাদের একটি নোটে উল্লেখ করেছেন, সপ্তাহান্তের নতুন উত্তেজনা সাম্প্রতিক সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা অনেকটাই অনিশ্চিত করে দিয়েছে। অন্যদিকে, আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, তেলের দামে তুলনামূলক সীমিত বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজার এখনো মনে করছে, এটি একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝের উত্তেজনা বাড়ানোর মাত্র, পুরো যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি নয়। এই ধারণা কতটা সঠিক, তা সময়ই বলে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের জবাবে উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের জবাবে উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের পাল্টা হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে তেহরান।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ‘শত্রু ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করা হয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে যে, ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অঞ্চলজুড়ে থাকা ‘শত্রু ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।

একটি ইরানি সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘শত্রুপক্ষের গতিবিধি’ পর্যবেক্ষণ করে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এ হামলার ফলে ঘাঁটিতে একাধিক জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরেছে।

আইআরজিসি জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের এটি প্রথম ধাপ।

পৃথক আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ নজরদারি বিমান রাখা হ্যাঙ্গার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া, কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটিতেও হামলার অভিযোগ তুলেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার সিস্টেমে হামলা চালানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল ১৩ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল ১৩ জনের

চট্টগ্রামে টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং পাহাড় ধসের ফলস্বরূপ একটি ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে এতদ্বারা পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি উপজেলা ও মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও ফটিকছড়ি উপজেলার মোট ১৫২টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে উপজেলার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি পরিবার সম্পূর্ণরূপে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দুর্ভোগে থাকা মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৭১০ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৮৫ লাখ টাকা নগদ সহায়তার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্গত মানুষের মাঝে এ পর্যন্ত ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তহবিলে বর্তমানে ৪৯০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ মজুদ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


ফুটবলাররা কেন পানি মুখে নিয়ে কুলি করে ফেলে দেন?

ফুটবল ম্যাচ চলাকালে প্রায়ই দেখা যায়, খেলোয়াড়রা যখন বোতল থেকে এক চুমুক পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলি করেন, তখন তা গিলে না ফেলে মাঠেই ফেলে দেন। যদিও অনেকেই বিষয়টিকে পানি অপচয় মনে করেন, কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি বিশেষ কৌশল।

এই কৌশলের নাম 'কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স'। এর মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে পরে তা ফেলে দেওয়া হয়। এটি শুধুমাত্র ফুটবলারদের জন্য নয়, বরং সাইক্লিস্ট, ম্যারাথন দৌড়বিদ এবং দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার পরিশ্রম করা অন্যান্য অনেক ক্রীড়াবিদের জন্যও কার্যকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মুখের ভেতরে কিছু বিশেষ রিসেপ্টর রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেটের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম। যখন মুখে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় রাখা হয়, তখন সেই সংকেত দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে এমন ধারণা করে যে শরীরে নতুন শক্তির জোগান আসছে।

ফলে খেলোয়াড়ের মনোযোগ, সতর্কতা ও কর্মক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যদিও পানীয়টি শরীরে প্রবেশ করে না।

এদিকে, ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের বিরতির সময় খুবই সীমিত থাকে। এই সময়ে বেশি পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে পেট ভারী লাগতে পারে এবং দৌড়ানোর সময় অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে পানীয় গিলে ফেললে তা হজম হয়ে শরীরে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু মুখে কয়েক সেকেন্ড কুলি করলেই মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় সংকেত দ্রুত পৌঁছে যায়, যা অধিকাংশ খেলোয়াড়কে এই কৌশলটি অধিক কার্যকর বলে মনে হতে সহায়ক হয়।

যদিও এই কৌশল বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে এটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালে এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি একেবারেই নয় যে, কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সক্ষম। ঘামের মাধ্যমে হারানো পানি এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করতে নিয়মিত পানি বা ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতেই হয়।

সাধারণত ম্যাচ শুরুর আগে, বিরতির সময়, ম্যাচ শেষে এবং গরম আবহাওয়ায় নির্ধারিত হাইড্রেশন ব্রেকের সময় ফুটবলাররা পর্যাপ্ত পানি পান করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলটি মূলত দীর্ঘ সময়ের উচ্চমাত্রার ব্যায়াম বা প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার জন্য কার্যকর। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজ বা হালকা ব্যায়ামে এর তেমন প্রয়োজন নেই।

অতএব, মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানি কিংবা স্পোর্টস ড্রিংক নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি পানি অপচয় নয়; বরং পারফরম্যান্স বাড়াতে ব্যবহৃত ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি কার্যকর কৌশল।

সূত্র: সেইস ডটকম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%