প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্নীতি আর অনিয়মের ভিড়ে সততা ও নিষ্ঠার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন। সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা নিজের পকেটে না ভরে, সরাসরি সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি। তাঁর এমন সততা ও দেশপ্রেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বস্তরে প্রশংসায় ভাসছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সালথা এলাকায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি খাল খনন প্রকল্পের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ তিন মাস ধরে তীব্র রোদ-গরম উপেক্ষা করে নিজে মাঠে দাঁড়িয়ে কাজের তদারকি করেন ইউএনও মো. দবির উদ্দিন।
প্রকল্পের কাজ শতভাগ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার পর শ্রমিকদের মজুরিসহ যাবতীয় খরচ মিটিয়ে দেখা যায়, বরাদ্দের একটি বড় অংশ উদ্বৃত্ত রয়েছে। সাধারণত সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ অন্য কোনো খাতে দেখিয়ে কিংবা নানা অজুহাতে আত্মসাতের ঘটনা ঘটলেও, ইউএনও দবির উদ্দিন বেছে নিয়েছেন সততার পথ। তিনি হিসাব-নিকাশ শেষে সুনির্দিষ্টভাবে বেঁচে যাওয়া ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করে দেন।
শুধু অর্থ সাশ্রয়ই নয়, কাজের গুণগত মান ও ফিনিশিং এতটাই চমৎকার হয়েছে যে, স্বয়ং জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
এই বিষয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন বলেন, "সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও যথাযথ ব্যবহারই সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।"
এক কোটি টাকার বেশি বাজেটের একটি প্রকল্প থেকে প্রায় ৭৩ লাখ টাকা বাঁচিয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই ঘটনাকে প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ। দেশের প্রতিটি উপজেলায় এমন সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা থাকলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন