০৬:৪৫ পি.এম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের মানিকপাটন শালবাড়ীর পালপাড়ার একটি কুমার পরিবারে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ
শালবাড়ী একটি প্রাচীন জনপদ, যা মৃৎশিল্পের জন্য বিখ্যাত। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার এই গ্রামে একটি কুমারপাড়া রয়েছে।
কয়েক শ বছর ধরে সেখানে তাদের বসতি রয়েছে। বসতির বয়স যত, মৃৎপণ্য প্রস্তুতের বয়সও তত।
আরও পড়ুন: পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
একটা সময় ছিল, শালবাড়ীর কুমারপাড়া ছিল কুমারদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর। কিন্তু এখন সেই সময় আর নেই।
কালের বিবর্তনে এই শিল্পের চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে বাঁচার তাগিদের টানে মৃৎশিল্পী বাপ-দাদার এই পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় চলে গেছেন। কেউ কেউ এই পেশা ধরে রেখেছে, কিন্তু তারা নানা সমস্যায় জর্জরিত।
মৃৎশিল্পীরা জানান, কালের পরবিরর্তনের কারণে প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা এই শিল্পকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বংশপরম্পরায় এই পেশায় নিয়োজিত। তাদের হাতের ছোঁয়ায় নিমিষেই তৈরি হয় সুন্দর সব মাটির পণ্য। দৃষ্টিনন্দন ফুলদানি, তৈজসপত্র, সরা, মটকা, সুরাই, পেয়ালা, পশু-পাখি, মাটির ব্যাংক সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হত। তবে এর পূর্বের সেই জৌলুসটা আর নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে নিয়ামতপুরের শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের মানিকপাটন শালবাড়ীর পালপাড়ায় দেখা যায়, বাড়িতে বাড়িতে কাঠের তৈরি বিশেষ চাক।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ জন আসামী গ্রেফতার
চাকে পা চালিয়ে মৃৎশিল্পীরা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করছেন, যেমন পুতুল, ফুলের টব, হাঁড়ি, পাতিল।
পাড়ার মৃৎশিল্পী নিপেন চন্দ্র পাল বলেন, “ছোটবেলা থেকে বাপ-দাদাকে এ কাজ করতে দেখেছি। এ ব্যবসার মাধ্যমে সংসার চলত। কিন্তু এখন সংসার আর চলে না। কোনো রকম দিন চলে যায়।” তিনি জানান, “মাটি, বালু, খড় কিনতে হয়। এসব উপকরণের দাম এখন অনেক বেশি। তাই অধিকাংশ সময় দইয়ের পাতিলই তৈরি করে চলছি। বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, তাতে এই পেশায় থেকে সংসার চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
একই পাড়ায় ধীরেন চন্দ্র পাল বলেন, “চৈত্রের শুরুতে কাজের খুব ব্যস্ততা থাকে আমাদের। বাকি সময় টিলেঢালা। তবে আগে যেমন হাতি, ঘোড়া, পুতুলসহ বাহারি জিনিসপত্র বানাতাম, এখন তা আর বানানো হয় না। খরচ বেশি, বেচাবিক্রিও নেই। তাই এখন আমরা শুধু দইয়ের পাতিলই বেশি তৈরি করি। মাঝে মধ্যে অর্ডার পেলে অন্য জিনিসপত্র তৈরি করি।”
মৃৎশিল্পী স্বপ্না বলেন, “আমার বাবার বাড়িতেও এই মাটির কাজ হয়। শ্বশুরবাড়িতে এসেও এই কাজই করছি। আগে বেচাকেনা বেশি হতো, এখন আর হয় না। আগে আমি নিজেই হাঁট-বাজারে মাটির তৈরি জিনিস বিক্রি করতাম। এখন আর চাহিদা না থাকায় যাওয়া হয় না। এখন বাড়িতেই দইয়ের হাঁড়ি তৈরি করি। এ দিয়েই কোনো রকম দিন চালাচ্ছি।”
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম জামায়াতে আমির নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, “আমাদের অনেক পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। কুমার সম্প্রদায় সেগুলোর একটি। প্লাস্টিকের এই যুগে তাদের উৎপাদন কমে গেছে। কেননা, মাটির পণ্যের প্রতি আধুনিক প্রজন্মের মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমছে। তাদের বাঁচিয়ে রাখতে, ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সুযোগ থাকলে স্থানীয়ভাবে আমি অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন