ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বকাপে কি মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা?


বিশ্বকাপে কি মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা?

 

বিশ্বকাপের মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের দ্বৈরথ অবশ্যই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয়ে টানটান উত্তেজনার জন্ম দেয়। এবারের আসরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফর্ম অত্যন্ত দুর্দান্ত রয়েছে, যেখানে নিজেদের প্রথম ম্যাচের কিছুটা মন্থর শুরুর পর ক্রমেই চেনা ছন্দে ফিরে আসছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

দুই দলের বিশ্বকাপ যাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে যদি জয়ের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে, তবে সেমিফাইনালের মঞ্চেই দেখা হয়ে যেতে পারে এই দুই পরাশক্তির। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আবহ তৈরি হওয়ার সাথে সাথে ফুটবলপ্রেমীদের মনে অতীত পরিসংখ্যানের খতিয়ান উঁকি দিচ্ছে। কার পাল্লা ভারী, কিংবা শেষবার কবে দেখা হয়েছিল, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান রাশেদ খাঁনের

ইতিহাসের পাতা হাতড়ে দেখা যায়, বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ জার্নিতে মাঠের লড়াইয়ে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মাত্র চারবার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে পরিসংখ্যানের বিচারে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে সেলেসাওরাই। চারবারের দেখায় ব্রাজিলের দুটি জয়ের বিপরীতে আর্জেন্টিনার বিজয় মাত্র একটি, আর বাকি একটি ম্যাচ অমীমাংসিতভাবে ড্র হয়েছে। তবে মাঠের লড়াইয়ে সংখ্যায় ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও, বিশ্বমঞ্চে তাদের সর্বশেষ দেখায় আর্জেন্টিনাই শেষ হাসি হাসতে সক্ষম হয়েছিল।

বিশ্বকাপে এই দুই পরাশক্তির প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। সেবার ব্রাজিল আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়েছিল। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে রিভেলিনোর গোলে ব্রাজিল এগিয়ে যাওয়ার পর মিগুয়েল ব্রিনদিসির গোলে দ্রুতই সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। তবে ৪৯তম মিনিটে জাইরজিনহোর দুর্দান্ত গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত হয়। এর ঠিক চার বছর পর, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডের গ্রুপ পর্বে আবারও মুখোমুখি হয় তারা। তবে ১৮ জুনের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রতে নিষ্পত্তি হয়।

এর পর, ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি লড়াইয়ে নামে এই দুই দল। সেবার সেলেসাওরা আর্জেন্টিনাকে দাঁড়াতেই দেয়নি। ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। তবে ঠিক পরের বিশ্বকাপে নিজেদের হিসাব চুকিয়ে দেয় আলবিসেলেস্তেরা। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। আগের দুই হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আর্জেন্টিনা সেবার ব্রাজিলকে ১-০ গোলে স্তব্ধ করে দেয়। ক্লাউডিও কানিগিয়ার করা ঐতিহাসিক জয়সূচক গোলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল, আর আর্জেন্টিনা খেলেছিল ফাইনাল।

ইতালির সেই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর দীর্ঘ ৩৬ বছর কেটে গেছে, তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে আর কখনো দেখা হয়নি এই দুই চিরশত্রুর। এবার আবারও সেদিনের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব। ভক্তদের মনে জমে থাকা ৩৬ বছরের সেই প্রতীক্ষা এবার সত্যি হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

আরও পড়ুন: বিসিবি ব্যাটিং কোচ আশরাফুলকে সরিয়ে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে নিয়োগ দিল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীমঙ্গলে উদযাপিত হলো সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম বার্ষিকী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


শ্রীমঙ্গলে উদযাপিত হলো সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম বার্ষিকী

 

‘হুল হুল হুলে হুল, ত্রিশে জুন হুলে হুল’—এই ঐতিহাসিক স্লোগানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ১৭১তম মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ (হুল দিবস)।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবসটি উপলক্ষে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মৌলভীবাজার জেলা সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদ।

এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছে সিলেট বিভাগীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠী।

দিবসের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর অডিটরিয়াম প্রাঙ্গণে স্থাপিত সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতা সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রদক্ষিণ করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক, মৌলভীবাজার চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফ্রন্টের নেতা পরিমল সিং বাড়াইক, কবি লুৎফর রহমান এবং সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী ও ইসমাইল মাহমুদ।

সাঁওতাল সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি সুজিত সাঁওতালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সুমন সাঁওতাল, জবা সাঁওতাল, রনজিত সাঁওতাল, সমর সাঁওতাল, দয়ামনি সাঁওতাল, নরেশ সাঁওতাল, প্রদীপ সাঁওতাল, কমল সাঁওতাল, রাঙাচরণ সাঁওতাল, শ্যামল সাঁওতাল ও বিষ্ণু সাঁওতাল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দুলাল সাঁওতাল ও স্বপন মুর্মু।

বক্তারা ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং জমিদার-মহাজনদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাঁওতাল জনগণের ঐতিহাসিক বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।

তারা বিদ্রোহের নেতা সিধু মুর্মু, কানু মুর্মু, চাঁদ মুর্মু, ভৈরব মুর্মু এবং নারী নেত্রী ফুলমনি ও ঝানুর আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা এই সংগ্রামকে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং সাঁওতালদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভা শেষে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাঁওতাল শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের এই পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সাঁওতাল জনগণের অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: ডিসি ফরিদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ঢাকাকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: ডিসি ফরিদা

ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল নগরী গড়ে তুলতে ফরিদা খানম, ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি), বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, ঢাকাকে বাঁচাতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একেকটি গাছ শুধুমাত্র পরিবেশকে সবুজ করে না, বরং এটি বিশুদ্ধ বাতাস, জীববৈচিত্র্য এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার, রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা খানম এসব কথা বলেন। এই আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, সবুজ ঢাকার অঙ্গীকার, আজকের বৃক্ষ, আগামীর নিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে ফরিদা খানম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককেও বৃক্ষরোপণকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগানো শেষ কথা নয়। রোপণ করা প্রতিটি গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একটি গাছ বাঁচানো মানে একটি জীবন, একটি পরিবার এবং একটি সুস্থ পরিবেশকে রক্ষা করা। ফরিদা খানম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা আবশ্যক। পরিবেশ সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৫০ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করেন। গড় আয়ু ৭০ বছর হলে, একজন মানুষের সারা জীবনে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৪ লাখ লিটার অক্সিজেন। অন্যদিকে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে গড়ে ৮২ হাজার ৬০০ লিটার অক্সিজেন উৎপাদন করে। সেই হিসেবে একজন মানুষের জীবনভর অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৭টি পূর্ণবয়স্ক গাছ।

তবে বাস্তবতা হলো, রোপণ করা সব গাছ পরিণত বয়সে পৌঁছায় না। তাই প্রত্যেকের উচিত জীবনে অন্তত ১০০টি গাছ রোপণ করা, যাতে অন্তত ১৭টি গাছ পূর্ণবয়স্ক হয়ে মানুষের ও পরিবেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। ফরিদা খানম বলেন, বাংলাদেশে একটি আইসিইউ বেডে অক্সিজেন ও অন্যান্য চিকিৎসাসহ প্রতিদিনের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা, কখনও কখনও এরও বেশি। অথচ আমরা সুস্থ অবস্থায় যে পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করি, তার অধিকাংশের যোগান প্রকৃতি এবং আমাদের চারপাশের গাছপালা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়।

তিনি জানান, অর্থ দিয়ে আইসিইউর অক্সিজেন কেনা সম্ভব। কিন্তু একটি পরিণত গাছ যে অক্সিজেন, ছায়া, শীতলতা, জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় এবং পরিবেশগত সুরক্ষা প্রদান করে, তার প্রকৃত মূল্য কোনো অর্থেই নির্ধারণ করা যায় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দেতে ইসলামের নীরব বিস্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দেতে ইসলামের নীরব বিস্তার

ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে অবস্থান করছে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে এই দেশটি আলোচনা কেন্দ্রে এসেছে। তবে এই আলোচনার আড়ালে লুকিয়ে আছে কেপ ভার্দেতে ইসলামের ধীরে ধীরে বিকাশের একটি নীরব কাহিনি।

সংখ্যায় অল্প হলেও এখানকার মুসলিমরা দেশের অর্থনীতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক দমন-পীড়ন পেরিয়ে তারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অবস্থান ধীরে ধীরে সুদৃঢ় করে তুলেছেন। ২০২১ সালের জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, কেপ ভার্দের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ মুসলিম। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রে মুসলিমের সংখ্যা আনুমানিক পাঁচ হাজার। তাদের অধিকাংশই পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, গিনি-বিসাউ ও মালি থেকে আসা অভিবাসী।

রাজধানী প্রাইয়া, বন্দরনগরী মিনদেলো, পর্যটননির্ভর সাল ও বোয়া ভিস্তা দ্বীপে তাদের বসবাসের সংখ্যা বেশি। সুন্নি মতাদর্শ অনুসরণকারী মুসলিমরা খুচরা ব্যবসা, নির্মাণশিল্প, হোটেল ও পর্যটনসেবা, পরিবহন এবং হস্তশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অনেকেই পশ্চিম আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সুফি ধারার সাংস্কৃতিক প্রভাব বহন করেন, বিশেষ করে তিজানিয়া ও মুরিদ তরিকার, যা তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনাচরণে প্রতিফলিত হয়।

কেপ ভার্দেতে ইসলামের ইতিহাস প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দী পুরনো। ১৪৬২ সালে পর্তুগিজরা দ্বীপপুঞ্জে উপনিবেশ স্থাপন শুরু করার পর এটি দ্রুত আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেই সময় সেনেগাম্বিয়া ও আপার গিনি অঞ্চল থেকে আগত মুসলিম ব্যবসায়ী ও ক্রীতদাসদের মাধ্যেম কেপ ভার্দেতে ইসলামের প্রথম পদচিহ্ন স্থাপন হয়। ওলোফ, মানদিলকা ও ফুলানি জনগণের অনেক মুসলিম আখখেত ও গৃহস্থালি শ্রমে নিয়োজিত ছিলেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, তাদের অনেকের ইসলামি জ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষার ভিত্তি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক প্রশাসন ক্যাথলিক ধর্মের উদ্দেশ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। অনেক মুসলিম ক্রীতদাসকে জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা হয় এবং কোরআন তেলাওয়াত কিংবা প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে ঔপনিবেশিক যুগে ধর্মীয় কোনো স্থায়ী ইসলামি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।

তদ্ব্যতীত ইসলামের সব চিহ্ন মুছে যায়নি। স্থানীয় ক্রেওল ভাষা ও সংস্কৃতিতে ওলোফ ও মানদিলকা ভাষার কিছু শব্দ এবং পশ্চিম আফ্রিকান মুসলিম সংস্কৃতির কিছু উপাদান আজও সেই ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। বর্তমানে দাপ্তরিক পর্তুগিজ ভাষার বাইরেও অভিবাসী মুসলিমদের মাঝে ফরাসি ও ওলোফ ভাষার চর্চা তাদের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কেপ ভার্দের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে মুসলিমরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ধর্মাচরণের সুযোগ লাভ করেন। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে পর্যটনশিল্পের বিকাশ, বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলস্বরূপ মুসলিম অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৯০ সালে রাজধানী প্রাইয়ায় দেশের প্রথম সরকারি স্বীকৃত মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ২০১৪ সালে অন্তত ৫০০ সদস্যবিশিষ্ট ধর্মীয় সংগঠনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার আইন কার্যকর হলে মুসলিম সংগঠনগুলো আইনি মর্যাদা ও কর-সুবিধা লাভ করতে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


গাজীপুরে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ

 

গাজীপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্যের অনুকূলে তিন ধাপে বরাদ্দকৃত মোট ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ১১৩টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিদের হাতে এসব চেক তুলে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর শহরের ‘গাজীপুর ক্লাব’ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চেক বিতরণ করেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: শাহরিয়ার নজির, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাজ্জাত হোসেন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: আওলাদ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এম. মনজুরুল করিম রনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, এলাকার উন্নয়ন এবং মানবসেবায় সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার এই এককালীন অনুদানের চেক বিতরণ করা হলো।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান সরকার সকল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কমিটিসমূহ বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করবেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ১১৩টি প্রকল্পের সভাপতিদের হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%