০৩:০৮ পি.এম
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ) এক অভিযানে দেশটির শুল্ক বিভাগ উন্নত প্রযুক্তির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ চোরাচালানের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। এই চিপগুলি জব্দ করা হয়েছে এবং এগুলোর মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার আকারে নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, গত ৫ জুন বিমানবন্দরের ফ্রি ট্রেড জোনে শুল্ক কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়ে ৭২টি সার্ভার ইউনিট যেগুলো উন্নত এআই চিপসমৃদ্ধ, সেগুলি জব্দ করেন।
ঝুঁকি নিয়ে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, এই চিপগুলো ‘কম্পিউটার পার্টস’ হিসেবে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছিল, এবং এগুলো মালয়েশিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে এশিয়ার অন্য একটি দেশে পুনঃরপ্তানি করার পরিকল্পনা ছিল। এটি দেশটির কৌশলগত বাণিজ্য আইনের লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যবহৃত মার্কিন এই চিপগুলো চীনের কাছে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য ওয়াশিংটনের চাপে মালয়েশিয়া গত বছর থেকেই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চিপ রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এসেছে।
এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি স্থানীয় সংস্থাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে এবং জব্দকৃত সার্ভারগুলো বর্তমানে শুল্ক বিভাগের হেফাজতে রয়েছে।
কিন্তু চলমান তদন্তের স্বার্থে কেএলআইএ কাস্টমস পরিচালক জুলকিফলি মুহাম্মদ এই চালানের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এটি উল্লেখ্য যে, মালয়েশিয়ায় চিপ চোরাচালান নিয়ে এটিই প্রথম ঘটনা নয়, গত বছরও একটি চীনা কোম্পানি এনভিডিয়া চিপ ব্যবহার করে অবৈধভাবে এআই উন্নয়নের কাজ করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চললেও তখন কোনো প্রমাণ মেলেনি।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
এছাড়া, গত বছরের আগস্টে মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের শিপিং সংস্থাকে ব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলারের এআই চিপ চীনে পাচারের অভিযোগে দুই চীনা নাগরিককে অভিযুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, একই বিমানবন্দরে পৃথক এক অভিযানে শুল্ক বিভাগ প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার রিঙ্গিত মূল্যমানের তরল ভ্যাপ (ইলেকট্রনিক সিগারেট) কার্তুজ জব্দ করেছে। গত ১০ জুন, কম্পিউটার সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের (সিপিইউ) কেসিংয়ের ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে থাকা ৪ হাজার ৭৬০টি ভ্যাপ লিকুইড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
ল্যাব টেস্টে দেখা গেছে যে, জব্দকৃত এই তরল ভ্যাপগুলো ‘মেথামফেটামিন’ নামক মারাত্মক মাদকে মিশ্রিত ছিল। এটি পার্শ্ববর্তী একটি দেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, এ বিষয়ে কাস্টমস পরিচালক জুলকিফলি মুহাম্মদ মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন