প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব বাণিজ্যমণ্ডলে সার ও জ্বালানির দাম এবং সরবরাহে অস্থিরতা মোকাবেলা করার উদ্দেশ্যে, খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই রাখা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে দুটি প্রকল্পে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ এবং ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষের ফলস্বরূপ খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। এতে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রভাব মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দিতে বিশ্বব্যাংক এগিয়ে এসেছে। ধান উৎপাদনের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, পরিবার, কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রা সুরক্ষা করার জন্য এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’
৩০০ মিলিয়ন ডলারের ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য অর্থায়ন প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের জুলাই-অক্টোবর আমন মৌসুম এবং আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে সাহায্য করবে বিশ্বব্যাংক। দেশে মোট সারের প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানিতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক, যার অর্ধেক ইউরিয়া সার। এতে ক্ষুদ্র কৃষকদের চাষ করা ১৪ লাখ হেক্টর জমির ধান উৎপাদনে সহায়তা প্রদান করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সোলেমান কুলিবালি বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আমন এবং বোরো ধান মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই মৌসুম মিলিয়ে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে। এছাড়াও দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণ কৃষি খাতে কর্মরত। তাই সার সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে সেটা শুধু খাদ্য নিরাপত্তাকেই ঝুঁকিতে ফেলবে না, দারিদ্র্য বাড়াবে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলবে।’
এছাড়া ৭১৩ মিলিয়ন ডলারের ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স’ প্রকল্পের আওতায় জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ত্বরণ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ সহায়তা ও জীবনযাত্রার সহায়তা। সংকটকালীন সময়ে আয় স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সুরক্ষায় এই সহায়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রকল্পের আওতায় জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহেও অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং পানির মতো অপরিহার্য সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রকল্পের অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার লেসলি জেন ইউ করদেরো বলেন, বিশ্বব্যাংকের সংকট প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার টুলকিটের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিকভাবে তহবিল পাওয়ার সুযোগ প্রদান করবে। বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে যেসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে সম্পদ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর ফলে আকস্মিক আঘাতের প্রভাব থেকে মানুষ, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানগুলোকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন