শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট প্রদান করেছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ চতুর্দশ লিও। ভ্যাটিকান নিশ্চিত করেছে যে, তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মেইল ইন ব্যালট জমা দিয়েছেন, যা আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করা এই পোপের মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোপ লিও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই ডাকযোগে তার ভোট জমা দিয়েছেন। তবে তিনি কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভোট গোপনীয়তার অধিকার দ্বারা সুরক্ষিত হওয়ায় পোপের রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
পোপ চতুর্দশ লিওর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে। তার জন্মনাম রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট। ২০২৫ সালের মে মাসে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন।
এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি পোপের দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি, পোপ লিও দীর্ঘ সময় ধরে পেরুতে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে পেরুর নাগরিকত্বও গ্রহণ করেন।
পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভ্যাটিকান সিটিতে বসবাস করলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় যোগ্য ভোটাররা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ডাকযোগে ভোট দিতে পারেন। দেশের বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ভোট দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী আইন এবং ভোটার নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে বিদেশ থেকে ব্যালট পাঠাতে পারেন।
পোপ লিওর ভোট দেওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে তার ধর্মীয় অবস্থানের কারণে। ক্যাথলিক চার্চের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনুসারীর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া একজন নাগরিক, যাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।
তবে পোপের ভোট দেওয়ার ঘটনাকে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা যায় না। ভ্যাটিকান তাঁর ভোট জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দেয়নি। পোপের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চতুর্দশ লিওর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
তার জন্মস্থান শিকাগো এবং মার্কিন নাগরিক পরিচয় তাকে আগের পোপদের তুলনায় একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রেখেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার ভোট দেওয়ার বিষয়টি সেই পরিচয়ের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণতন্ত্র যখনই হোঁচট খেয়েছে, তখনই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণে, বিএনপি সরকার মানবিক-গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার লক্ষ্যে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করছে, এমন মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
তিনি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ কিংবা সম্প্রদায়ের মানুষের নয়, বরং এ দেশ সবার। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া কিংবা বৈষম্যের শিকার হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের ওপরও আঘাত এসেছে। সরকার একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য ইলহান ওমরের ব্যক্তিগত জীবন এবং বিয়ের বিষয়ে পুরনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে।
২০০৯ সালে তার একটি বিয়ে নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের মূল বিষয় হলো, তিনি কি নিজের ভাই বলে সন্দেহ করা এক ব্যক্তিকে গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করার জন্য ভুয়া বিয়ের আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের অধীনে এফবিআই এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই বিয়ের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছিল। তখন বিয়েতে জালিয়াতির কিছু প্রমাণও পাওয়া গিয়েছিল। তবে সম্ভাব্য অপরাধটি গুরুতর অপরাধের (ফেলনি) আওতায় পড়লেও, এর জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের তামাদি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মামলাটি আর এগোয়নি।
মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ভাইকে বিয়ে করে অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় রয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই অভিযোগ পুনরায় উত্থাপন করেছেন।
তবে ওমর এই অভিযোগকে ডানপন্থীদের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা এই অভিযোগ খণ্ডন করেছিলেন।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সোমালিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ইলহান ওমর এবং তার পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তৃত তদন্তের অংশ হিসেবে এই অনুসন্ধান চলছে।
উল্লেখ্য, ইলহান ও তার প্রথম স্বামী হিরসির মধ্যে ২০০২ সালে একটি ইসলামী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান থাকার সময় ২০০৯ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। একই বছর ইলহান ব্রিটিশ নাগরিক এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ওই বিয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। তবে এলমিকে বিয়ে করার উদ্দেশ্য নিয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক রয়েছে।
হিরসির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান, এলমি মিনেসোটায় আসার পর সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তার পোশাক-পরিচ্ছদ এবং চলাফেরা নিয়ে অনেকেই মন্তব্য করতেন।
নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এলমির পোশাক দেখে তিনি হিরসির কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। তখন হিরসি তাকে বলেছিলেন, এলমি তার স্ত্রীর ভাই এবং লন্ডন থেকে এসেছেন। এলমিকে সেখানে নিয়ে আসায় ইলহান পুরো সম্প্রদায়কে বিব্রত করেছেন বলেও দাবি করেন ওই বন্ধু।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিসের সোমালি সম্প্রদায়ের অনেকে এলমির পরিচয় জানার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তারা জানতে পারেন, এলমি নুর সাঈদ এলমির ছেলে এবং ইলহান ওমরের ভাই হিসেবে পরিচিত।
হিরসির ওই বন্ধু আরো দাবি করেন, এলমিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার কাগজপত্র পেতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ইলহান তাকে আইনগতভাবে বিয়ে করেছিলেন বলে হিরসি অভিযোগ করতেন।
তার দাবি, এলমিকে নিয়ে ইলহান ও হিরসির মধ্যে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক হতো। এমনকি জনসম্মুখেও তাদের চিৎকার করে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। এলমি ২০১২ সালের দিকে মিনেসোটা ছেড়ে চলে গেলে হিরসি স্বস্তি পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ইলহান ওমর। তার প্রথম স্বামী হিরসির সঙ্গে ২০০২ সালে বিয়ের আবেদন করা হলেও, ইলহান পরে বলেছিলেন, আবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়নি এবং তাদের আইনগত বিয়েও হয়নি।
ইলহানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে এবং প্রায় চার বছর পর তারা আবার একত্র হন। ২০১৮ সালে তারা আইনগতভাবে বিয়ে করেন।
অন্যদিকে, এলমির সঙ্গে ইলহানের আইনগত বিয়ে ছিল ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ইলহানের দাবি, এলমির সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে ২০১১ সালে, তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরো কয়েক বছর লেগেছিল।
ইলহান ও হিরসি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যৌথভাবে করসংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছিলেন, যখন ইলহানের সঙ্গে এলমির আইনগত বিয়ে বহাল ছিল। পরে ওই নথিগুলো সংশোধন করা হয়।
ইলহান ও হিরসি শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে ইলহান তার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা টিম মাইনেটকে বিয়ে করেছেন।
এলমি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু সময় কাটান এবং পরে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।
২০২৩ সাল থেকে সেখানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের কাজ করছেন এবং গবেষণা সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে কুইয়ার গবেষণা, উপনিবেশমুক্তকরণ এবং লিঙ্গবিষয়ক গবেষণা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কার্লোস তেভেজ, যিনি সবুজ মাঠকে বিদায় জানানোর দীর্ঘ চার বছরের পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ঘোষণা দিয়েছেন। আর্জেন্টাইন ফুটবলের ‘আপাচে’ খ্যাত এই ফরোয়ার্ড, মাঠ মাতানো ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন এক রাজকীয় আয়োজনের মাধ্যমে। আগামী ২০ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ‘লা বোম্বোনেরা’ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তার বহুলপ্রতীক্ষিত বিদায়ী ম্যাচ, যার নামকরণ করা হয়েছে—‘গুডবাই আপাচে : ফ্রম বল বয় টু লিজেন্ড’।
বিদায়ী ম্যাচটিকে শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনী ম্যাচে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তেভেজ। তিনি চান এটি বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাদের মিলনমেলায় পরিণত হোক। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক সতীর্থ রিও ফার্দিনান্দের সঙ্গে আলাপকালে তেভেজ নিশ্চিত করেছেন, তার এই বিশেষ দিনে মাঠে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং বোকা জুনিয়র্সের বর্তমান সভাপতি হুয়ান রোমান রিকেলমে।
এছাড়া, ফুটবল দুনিয়ার দুই বরপুত্র—লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে একই মাঠে নামানোর একটি রোমাঞ্চকর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তেভেজ। তিনি নিজেই রোনালদোকে এই ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। যদি পর্তুগিজ তারকা এই আহ্বানে সাড়া দেন, তবে বুয়েনস আইরেসের সবুজ গালিচায় মেসি-রোনালদোকে একসঙ্গে দেখার একটি অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হবে বিশ্ব।
মাঠের লড়াইয়ে তেভেজের পাশে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার সোনালি প্রজন্মের সতীর্থদের দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য অতিথি তালিকায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থদের মধ্যে সার্জিও আগুয়েরো, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, পল স্কোলস, রায়ান গিগস, ওয়েইন রুনি এবং আন্দ্রেয়া পিরলোর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০০১ সালে বোকা জুনিয়র্সের জার্সিতে পেশাদার ফুটবল শুরু করা তেভেজ ক্লাবটির হয়ে ২৭৯ ম্যাচে ৯৪ গোল করেছেন। ২০০৩ সালের কোপা লিবার্তাদোরেস ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয়ে তার অবিস্মরণীয় অবদান ছিল। মাঠ ছাড়ার পর কোচিং পেশায় হাত পাকালেও (সর্বশেষ গত মে মাসে ত্যারেস দে কর্দোবার কোচের দায়িত্ব ছাড়েন) বর্তমানে তিনি প্যাডেল কোর্টের ব্যবসায় ব্যস্ত রয়েছেন।
তবে সব ব্যস্ততার মাঝে, আগামী ২০ ডিসেম্বর শেকড়ের টানে সেই চিরচেনা লা বোম্বোনেরার গ্যালারির সামনে শেষবারের মতো বুট জোড়া পায়ে নামবেন ‘আপাচে’। যে স্টেডিয়ামে বল বয় থেকে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হয়ে উঠেছিলেন, সেখানেই তিনি বর্ণিল এক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চার বছরেরও বেশি সময় পর পাকিস্তান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারানোর স্বাদ পেয়েছে। হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে ভারতকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে পাকিস্তান দল অবশেষে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে।
মং ককের মিশন রোড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ভারত পাকিস্তানকে ৮৯ রানের লক্ষ্য দেয়। তবে পাকিস্তানের ব্যাটারদের তাণ্ডবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের খেসারত দিতে হয়।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত নির্ধারিত ওভারে ৮৯ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। তবে ভারতের ব্যাটিং ইনিংসের চেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি করেছে তাদের বোলিং ইনিংস, যা পাকিস্তানের জয়ের পথকে সহজ করে দেয়। বিশেষ করে ক্রুনাল পান্ডিয়ার একটি মাত্র ওভার পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওই ওভার থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটাররা ৩১ রান তুলে নেন। ক্রুনালের পর বোলিংয়ে আসা টি নটরাজনও ছিলেন খরুচে, তিনি নিজের ওভারে ২৮ রান দেন। ভারতের হয়ে শশাঙ্ক সিং ও রাহুল তেওয়াতিয়া একটি করে উইকেট শিকার করলেও তা পাকিস্তানের জয় থামানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার খাজা নাফে ও অধিনায়ক আব্বাস আফ্রিদি শুরু থেকেই চার-ছক্কার বৃষ্টি নামাতে থাকেন। মাত্র ১৩ বলের মধ্যে এই জুটি স্কোরবোর্ডে ৫৯ রান জমা করে। ওপেনার খাজা নাফে মাত্র ১২ বলেই ৪১ রানের একটি দুর্দান্ত টর্নেডো ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, অধিনায়ক আব্বাস আফ্রিদি মাত্র ৮ বলে ৩৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন। ফলে ১৩ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের সহজ জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
দিনের শুরুতে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি ভালো ছিল না; সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ১ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল তারা। তবে ভারতের বিপক্ষে এই বড় জয়ে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের কাছে এই বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার ফলে ভারতের নকআউট পর্বের পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে ভারতকে এখন আরব আমিরাতের বিপক্ষে কেবল জয় পেলেই চলবে না, রান রেটের দিকেও নজর রাখতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ