ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান


তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান

তালাশ বিডি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

থানাসূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে একের পর এক মাদকের চালান জব্দ এবং মাদক কারবারিদের আটক করা হয়েছে। প্রতিদিনই মাদক ব্যবসায়ী, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে প্রতিদিন ২ থেকে ৪ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তালাশ বিডি নিউজে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী সাজা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জামায়াতের বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত, খাদে পড়ে আহত ৩০ নেতাকর্মী

পুলিশ ও প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িক অভিযান নয়, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। তাঁদের মতে, এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে বাকেরগঞ্জে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. সানি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ এম


বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানা পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শনকালে তিনি থানার বিভিন্ন দাপ্তরিক রেজিস্টার পর্যালোচনা করেন। এ সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরে তিনি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, বিপিএম এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: সাইফুল ইসলাম খান

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ এম


“অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”

একদিন যে নদীর জোয়ার-ভাটার বিস্ময়কর রূপ মুগ্ধ করেছিল মুঘলদের, সেই বুড়িগঙ্গার ছন্দ দেখেই ১৬১০ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই বুড়িগঙ্গাই আজ নগরীর অবহেলা, বর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের ভারে অস্তিত্ব সংকটে। লঞ্চ, স্টিমার, ট্রলারসহ অসংখ্য নৌযানের ব্যস্ততায় নদীর বুক এখনো সরব; কিন্তু তার স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে দূষিত পানি, বর্জ্য আর দীর্ঘদিনের নগর ব্যবস্থাপনার সংকট।

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর আলোচনা সাধারণত নদী সংস্কার, দখলমুক্তকরণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়-শুধু নদী ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন কি অস্তিত্ব সংকটে থাকা এ নদীকে বাঁচাতে পারবে, নাকি পাশাপাশি নজর দিতে হবে পুরো নগর কাঠামোর দিকে?

নদী যখন ছিল জীবনের সঙ্গী:

ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে বুড়িগঙ্গার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে জনবসতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগের নানা কাঠামো। সদরঘাট আজও তার জীবন্ত প্রমাণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নদীপথে যাতায়াত করেন, পণ্য ওঠানামা করে, নৌযান ছুটে চলে এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে।

মুঘল আমলে ঢাকার গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুড়িগঙ্গাও হয়ে ওঠে নগরজীবনের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। আজও সদরঘাটের ব্যস্ততা সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। লঞ্চ, স্টিমার, ট্রলার, নৌকাসহ নানা ধরনের নৌযানের অবিরাম চলাচলে নদীর বুকজুড়ে তৈরি হয় এক ব্যস্ত পরিবেশ।

এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের জীবিকা। কেউ নাবিক, কেউ মাঝি, কেউ শ্রমিক, আবার কেউ ঘাট ও নৌবাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু যে নদী একসময় নগরকে সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় সেই নদীকেই আজ শহরের বর্জ্য ও অবহেলার ভার বহন করতে হচ্ছে।

কালো পানির গল্প:

বাবুবাজার সেতু থেকে সদরঘাট হয়ে পোস্তগোলা পর্যন্ত নদীর পাড় ঘুরলে চোখে পড়বে দূষণের নানা চিত্র। কোথাও পানির ওপর ভাসছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল, কোথাও জমে আছে আবর্জনা। কোথাও আবার নদীর তীরে বর্জ্যের স্তূপ। নদীর পানির স্বাভাবিক রং অনেক জায়গাতেই বদলে গেছে। বাতাসে ভেসে আসে দুর্গন্ধ।

নৌকা চলাচল করছে, ঘাটে মানুষের ব্যস্ততা রয়েছে; কিন্তু নদীর পানির দিকে তাকালে সেই ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য শুধু একটি নদী দূষিত হয়ে যাওয়ার গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন, শিল্পায়ন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের দীর্ঘদিনের সংকট।

প্রায় তিন দশক ধরে এ নদীর সঙ্গে জীবনযাপন করছেন গনি মিয়া (৫৭)। বর্তমানে তিনি সদরঘাট থেকে কামরাঙ্গীরচরের মাতবরঘাটে ট্রলার চালান। তিনি বলেন, “যখন পানি কমে যায়, তখন এমন গন্ধ হয় যে সারাদিন সেই গন্ধে থাকার পর বাড়িতে গিয়েও খেতে পারি না।”

এই দুরবস্থা কেন?

বুড়িগঙ্গার দূষণের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন গবেষণায় শিল্পবর্জ্য, পৌরবর্জ্য, পয়োবর্জ্য এবং বিভিন্ন নিষ্কাশনপথ দিয়ে নদীতে প্রবেশ করা দূষিত পানিকে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পও বুড়িগঙ্গা দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচিত ছিল। গবেষণায় ট্যানারি বর্জ্যে ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি এবং এর পরিবেশগত প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। তবে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নেওয়ার পরও বুড়িগঙ্গার সংকট শেষ হয়নি। কারণ, এটি ছিল দূষণের অনেক কারণের মধ্যে একটি মাত্র।

এ ছাড়া পুরান ঢাকার মতো সীমিত জায়গায় বিপুল জনগোষ্ঠীর চাপ যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামাল দিয়ে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করাও কঠিন। সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ার বিষয়টিও দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মাঝি আব্দুল আজিজের (৫২) অভিজ্ঞতাও বিষয়টি নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দেয়। তাঁর ভাষায়, “বুড়িগঙ্গার পানিতে এখন সাকার মাছ ছাড়া আর কোনো মাছ থাকে না। তবে করোনার সময় যখন মানুষজন গ্রামগঞ্জে চলে গিয়েছিল, তখন কয়েক মাসের মধ্যেই পানি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। নদীতে নানা ধরনের ছোট-বড় মাছও ফিরে এসেছিল।”

গবেষণার তথ্য যা বলে:

বুড়িগঙ্গার দূষণ শুধু চোখে দেখা কালচে পানি কিংবা দুর্গন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন গবেষণায় নদীটির পানির গভীর সংকটের চিত্রও উঠে এসেছে।

২০২৩ সালে Journal of Water and Health-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ২০১৯-২০২০ সময়ে বুড়িগঙ্গার ১০টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা ২১০টি পানির নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ক্রোমিয়াম, নিকেল, সীসা ও ক্যাডমিয়ামসহ একাধিক ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। গবেষণাটিতে ক্যাডমিয়াম, নিকেল ও সীসার দূষণকে ‘হেভি পলিউশন’ এবং অ্যান্টিমনির দূষণকে ‘সিরিয়াস পলিউশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা-পর্যালোচনায় বুড়িগঙ্গার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ২০০০ সালে প্রায় ২ মিলিগ্রাম/লিটার থেকে ২০১৯ সালের পর্যবেক্ষণে শূন্যে নেমে আসার তথ্য উঠে আসে। একই গবেষণায় পানিতে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (BOD) ও রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদার (COD) উচ্চমাত্রাসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর দূষণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

BOD হলো পানিতে থাকা জৈব পদার্থ ভাঙতে অণুজীবের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ। অন্যদিকে COD হলো পানিতে থাকা জৈব ও অন্যান্য অক্সিডাইজযোগ্য পদার্থকে রাসায়নিকভাবে জারিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ। সাধারণত এসব মাত্রা বেশি হলে পানিতে দূষণের মাত্রাও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২২ সালে Frontiers in Public Health-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ঢাকার নদীব্যবস্থার বিভিন্ন নিষ্কাশনপথ বিশ্লেষণ করে শিল্পবর্জ্য, পৌরবর্জ্য ও গৃহস্থালি পয়োবর্জ্যকে নদীদূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সব মিলিয়ে গবেষণাগুলো দেখায়, বুড়িগঙ্গার সংকট কেবল দৃশ্যমান ময়লা বা দুর্গন্ধের বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের শিল্পবর্জ্য, পয়োবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত চাপ। তাই নদীকে বাঁচাতে শুধু পানি পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; দূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ করাই হতে হবে মূল লক্ষ্য।

জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি:

নদীর পানি দূষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম প্রভাব পড়ে নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর। পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হলে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। ভারী ধাতু ও অন্যান্য দূষকের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে জলজ পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

বুড়িগঙ্গার দূষণের প্রভাব শুধু নদীর পানি বা নদীনির্ভর মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ঢাকার জনজীবনেও। নদীর পানিতে জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য ও অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে দুর্গন্ধ, যা নদীর আশপাশের বসতি ও ব্যস্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তুলছে।

দূষিত ও স্থবির পানিতে মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা নগরবাসীর জন্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী ও নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে নোংরা পানির সংস্পর্শে এসে ত্বকের সমস্যা ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই বুড়িগঙ্গার দূষণকে শুধু একটি নদী রক্ষার বিষয় হিসেবে দেখলে এর পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন, জীবিকা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিস্তৃত প্রভাবটি আড়ালে থেকে যায়।

সমস্যা কি শুধু নদীর?

বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বারবার নদীর পাড়ের বর্জ্য কিংবা পয়োনিষ্কাশনের কথা আসে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে আরও বড় একটি বাস্তবতা-ঢাকার ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা মানুষের চাপ।

একটি সীমিত ভৌগোলিক এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ, শিল্প, ব্যবসা ও নাগরিক কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশ রক্ষা-সবকিছুর ওপরই চাপ বাড়ে। বুড়িগঙ্গা সেই চাপের একটি দৃশ্যমান ফলাফল মাত্র।

ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণের ভাবনা:

ঢাকার ওপর মানুষের চাপ কমানোর কথা শুধু নীতিনির্ধারণী আলোচনাতেই নয়, গবেষণাতেও উঠে এসেছে। ২০১৯ সালে Environment and Urbanization ASIA-তে প্রকাশিত ‘City Profile: Dhaka, Bangladesh’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, চাকরি ও বিভিন্ন সেবার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন ঢাকার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। গবেষকেরা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া বা বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ঢাকার পরিবেশগত চাপ কমাতে শহরের বাইরের অঞ্চলগুলোতে পরিকল্পিত ও বিকেন্দ্রীভূত নগরায়ণের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় একাধিক কেন্দ্রভিত্তিক নগর কাঠামোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।

একই বছর পূর্বাচল নিউ টাউন নিয়ে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা যায়, শুধু নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি করলেই ঢাকার ওপর নির্ভরতা কমে না। স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংযোগ না থাকলে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয় না।

অর্থাৎ মানুষকে শুধু ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দিলেই সমাধান হবে না। প্রয়োজন এমন পরিকল্পিত নগর ও আঞ্চলিক কেন্দ্র তৈরি করা, যেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। কারণ, একটি ছোট ভৌগোলিক এলাকায় ক্রমাগত মানুষের চাপ বাড়িয়ে রেখে শুধু নদী পরিষ্কার করে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন। ঢাকার ওপর চাপ কমানো গেলে বর্জ্য, পয়োনিষ্কাশন ও অন্যান্য নগর সমস্যার ওপরও চাপ কমানো সম্ভব।

বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ:

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর সমাধান তাই শুধু নদীর পানিতে রাসায়নিক প্রয়োগ কিংবা নিয়মিত পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রথমেই বন্ধ করতে হবে নদীতে বর্জ্য ও অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য ফেলার পথ। শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর শোধনাগার নিশ্চিত করতে হবে। নদীর দখল ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও পানির মান পরীক্ষা করতে হবে।

এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ঢাকার ওপর মানুষের চাপ কমাতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী আঞ্চলিক শহর, যাতে মানুষকে জীবিকা ও নাগরিক সুবিধার জন্য রাজধানীনির্ভর হতে না হয়।

তাই বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হলে শুধু নদীর দিকে তাকালে হবে না; তাকাতে হবে পুরো নগর ব্যবস্থাপনার দিকে।

একসময় এ নদীর স্রোত ঢাকার বাণিজ্য ও জনজীবনকে এগিয়ে নিয়েছিল। আজ সেই নদী বয়ে নিয়ে যাচ্ছে নগরীর বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ ও অবহেলার বোঝা। মৃতপ্রায় নদীটিতে আবার প্রাণের সঞ্চার করতে হলে শুধু পানির পরিবর্তন নয়, পরিবর্তন করতে হবে সেই নগরভাবনাকেও, যে ভাবনা একটি শহরের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর লড়াই তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একটি নদীকে বাঁচানোর গল্প নয়; এটি একটি ভবিষ্যৎ বাসযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার লড়াই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, জুতাসহ’- ইউএনওর দরজায় ব্যতিক্রমী বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ এম


‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, জুতাসহ’- ইউএনওর দরজায় ব্যতিক্রমী বার্তা

সরকারি দফতরের প্রবেশদ্বারে সাধারণ মানুষের জন্য একটি ব্যতিক্রমী আমন্ত্রণ প্রদর্শিত হচ্ছে। সেখানে লেখা রয়েছে ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, জুতাসহ প্রবেশ করুন’ এমন বার্তা। এই উদ্যোগের জন্য কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনির প্রশংসা করা হচ্ছে।

ইউএনওর কার্যালয়ের দরজায় এই বিশেষ বার্তাটি দেখা যায়। প্রবেশপথে নেমপ্লেটের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন।’ এর মানে হলো, ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের আগে আলাদা অনুমতি নেওয়া কিংবা জুতা খুলে রাখার প্রয়োজন নেই।

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর উদ্দেশ্যে এবং সেবাপ্রত্যাশীদের যাতে সংকোচ ছাড়াই ইউএনওর কাছে নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজন জানাতে পারেন, সে জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই ছোট্ট বার্তার মাধ্যমে সরকারি দফতরকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্মুক্ত ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল কাফি মন্তব্য করেন, অনেক সময় সাধারণ মানুষ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে সহজে পৌঁছাতে না পেরে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। কিছু মানুষ বাধ্য হয়ে দালালদের কাছে যেতে বাধ্য হন এবং নানা ভোগান্তিতে পড়েন। বরুড়া ইউএনওর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করবে।

আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘এটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা, নিয়মনীতি ও সৌজন্যবোধ বজায় রেখে এমন নির্দেশনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ইউএনও মহোদয়ের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভকামনা। আল্লাহ তাকে জনসেবায় আরও অবদান রাখার তৌফিক দিন।’

স্থানীয়দের মতে, সরকারি দফতরে সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হলে সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমবে এবং কর্মকর্তাদের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি মন্তব্য করেন, ‘সরকারি দফতর মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো সংকোচ বা দ্বিধা ছাড়াই তাদের প্রয়োজনের কথা জানাতে পারেন, সে জন্যই কার্যালয়ের সামনে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমার কক্ষে আসতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতা খুলেও প্রবেশ করতে হবে না। সবাই যেন সহজে প্রশাসনের কাছে এসে সেবা নিতে পারেন এটাই আমার প্রত্যাশা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশ, জানতে পারবেন ওয়েবসাইট ও এসএমএসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১১ এম


এইচএসসি পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশ, জানতে পারবেন ওয়েবসাইট ও এসএমএসে

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।

আজ বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে। এছাড়া যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত নিয়মে এসএমএস পাঠিয়ে মুহূর্তেই ফল জানা যাবে।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইন পদ্ধতিতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

এর আগে, গত ২ জুলাই সারাদেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সারাদেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।

এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%