ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পিবিআই তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে


পিবিআই তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সাবেক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি মৃত্যুর ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

দীপ তাহসিফের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন। শুক্রবার পিবিআই টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে। পরে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মধ্যরাতে পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দীপকে আটক করে পিবিআই।

আরও পড়ুন: শিশু ও প্রসূতি সেবা বিভাগের চিকিৎসা সেবার ভূয়সী প্রশংসা করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

শুক্রবার দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআইয়ের তদন্ত দল। সেখানে তুরাগ নদসংলগ্ন ২৯ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার মাঠে কী ঘটেছিল, তা জানতে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

মোটরসাইকেলটির নম্বরপ্লেট ছিল না। এটি তাহসিফের কি না, তা নিশ্চিত হতে কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই চলছে। পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন।

ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের ইউনিফর্ম ছিল। তাদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন এবং একপর্যায়ে নদীতে ঝাঁপ দেন বলে দাবি করেন দীপ। দীপ নিজে বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে চলে যান।

তবে ধাওয়াকারীরা প্রকৃতপক্ষে পুলিশ সদস্য ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পিবিআই। পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সেখানে আদৌ পুলিশের কেউ ছিলেন কি না, ইউনিফর্ম পরা কেউ ছিলেন কি না কিংবা তাদের সেখানে কোনো দায়িত্ব ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার হিসেবে প্রস্তুত হতে বললেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, দীপের বক্তব্যে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তারা কেন ওই মাঠে গিয়েছিলেন সেটিও অজানা। দীপ একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন এবং এক পর্যায়ে তিনি সেখানে যাননি বলেও দাবি করেন। পরে মোটরসাইকেলটির অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে দীপ জানান, তাহসিফ তাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ওই এলাকা আগে থেকে পরিচিত ছিলেন না বলেও জানান।

তাহসিফের বাবা বলেন, তার ছেলে সাতার জানতেন এবং পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের কোর্সও করেছিলেন। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এমই

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচনে নবী-টিপু প্যানেল জয়ী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনানীর গ্যাসের আগুন নেভানো হচ্ছে না কেন? যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ এম


ইনানীর গ্যাসের আগুন নেভানো হচ্ছে না কেন? যা জানা গেল

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের সময় মাটির গভীর থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন টানা চার দিন ধরে জ্বলছে। এখনো গ্যাসের নির্গমন বন্ধ হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন ২০০ মিটারের মধ্যে মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

গ্যাসের আগুন নেভানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলা এখনই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের শিখার অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলনেতা এস এম নাফিকুন আরহামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব। তার সঙ্গে ছিলেন বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদিরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা।

গ্যাসের আগুন নেভানোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক এস এম নাফিকুন আরহাম বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্যাস জ্বলতে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।" তিনি আরও বলেন, গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রিলিফ কূপ খনন করে ভূগর্ভে সিমেন্ট পাম্প করার মাধ্যমে গ্যাসের প্রবাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, "এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য সাত দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা সহজ হবে।"

ঘটনাস্থল থেকে পাথর ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে এস এম নাফিকুন আরহাম বলেন, "আগুনের কারণে আপাতত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস শুধু নলকূপ খননের স্থান দিয়ে বের হচ্ছে না, আশপাশের বিভিন্ন স্থান দিয়েও নির্গত হচ্ছে।"

তিনি আরও জানান, "সেখানে প্রায় এক হাজার ফুট গভীরতা পর্যন্ত বোরিং করা হয়েছিল। তবে খননের সময় গ্যাসের উপস্থিতি বোঝা যায়নি। মঙ্গলবার ভোর থেকে গ্যাসের অস্তিত্ব অনুভূত হয়। পরে তা আগুনের শিখা আকারে জ্বলতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আধার থেকে এ গ্যাস বের হচ্ছে।"

গ্যাসের উপাদান সম্পর্কে এই কর্মকর্তা বলেন, "প্রাকৃতিক গ্যাসে সাধারণত মিথেনের পাশাপাশি ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন ও পেন্টেনের মতো হাইড্রোকার্বন থাকতে পারে। তবে এ গ্যাসের প্রকৃত উপাদান পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। আগুনের রং ও ধোঁয়ার ধরন দেখে উচ্চতর হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"

বাপেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম রোকন বলেন, "গ্যাস শনাক্ত করতে ডিটেক্টর নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তারা। বাপেক্সের প্রোডাকশন ফিল্ডের একটি দল আশপাশের অন্য কোনো স্থান দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করেছে। তবে আগুন জ্বলতে থাকায় মূল নির্গমনস্থলে ডিটেক্টর দিয়ে গ্যাস শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা করেও অন্য কোথাও গ্যাস নির্গমনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।"

ইমামুল ইসলাম রোকন যোগ করেন, "আগুনের প্রচণ্ড তাপের কারণে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গিয়ে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট দূর থেকেও প্রচণ্ড তাপ অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।"

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির বলেন, "এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে। নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কারণ, যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, "বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন মহাব্যবস্থাপককে নিয়ে বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলায় একটি সভা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক ও বায়োজেনিক প্রকৃতির হতে পারে। তবে আগুনের শিখার রং দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট থাকার বিষয়টিও অনুমান করা হচ্ছে।"

তিনি জানান, "আগুনের শিখার প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে শুক্রবার রাতে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আগুনের শিখার রং কালো দেখা গেছে। এটি গ্যাসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল বা কনডেনসেট নির্গমনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বাপেক্সের কর্মকর্তারা কয়েক দিন ধরে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরিস্থিতির প্রতিবেদন নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, আগুনের শিখা ক্রমেই বাড়ছে।"

মো. শোয়েব আরও বলেন, "প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের উৎস একটি অগভীর গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভার। দেশে সাধারণত ভূগর্ভের দেড় থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে গ্যাসের মজুত পাওয়া যায়। তবে এ ক্ষেত্রে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ সময় আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।"

পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা বলেন, "১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর আগুনের শিখার উচ্চতা বেড়েছে বা একই রকম রয়েছে বলে দেখা গেলে আগুন বন্ধ করার জন্য প্রাথমিকভাবে একটি রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিলিফ কূপ খননের মাধ্যমে গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।"

তবে পর্যবেক্ষণের সময় গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মো. শোয়েব বলেন, "আশপাশের কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকেও গ্যাস জ্বলতে দেখা গেছে। ভূগঠনে কিছু পরিবর্তনের কারণে এভাবে গ্যাস নির্গমন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বাপেক্স সেখানে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। সেখানে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

টানা চার দিন ধরে গ্যাসের আগুন জ্বলতে থাকায় ইনানী ছোট খাল ও শফিরবিল এলাকার প্রায় ৪০০ পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একদিকে গ্যাসের উৎস ও প্রবাহ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা, অন্যদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি উপেক্ষা করে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড়-দুই পরিস্থিতিই সামাল দিতে হচ্ছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোরভাবে কার্যকর করা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. সানি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ এম


তালাশ বিডি নিউজের সংবাদে তৎপর পুলিশ, বাকেরগঞ্জে জোরদার মাদকবিরোধী অভিযান

তালাশ বিডি নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

থানাসূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে একের পর এক মাদকের চালান জব্দ এবং মাদক কারবারিদের আটক করা হয়েছে। প্রতিদিনই মাদক ব্যবসায়ী, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে প্রতিদিন ২ থেকে ৪ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তালাশ বিডি নিউজে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী সাজা প্রদান করা হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িক অভিযান নয়, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে। তাঁদের মতে, এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে বাকেরগঞ্জে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. সানি

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ এম


বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির গলাচিপা থানা পরিদর্শন

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানা পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শনকালে তিনি থানার বিভিন্ন দাপ্তরিক রেজিস্টার পর্যালোচনা করেন। এ সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরে তিনি পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, বিপিএম এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: সাইফুল ইসলাম খান

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ এম


“অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”

একদিন যে নদীর জোয়ার-ভাটার বিস্ময়কর রূপ মুগ্ধ করেছিল মুঘলদের, সেই বুড়িগঙ্গার ছন্দ দেখেই ১৬১০ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই বুড়িগঙ্গাই আজ নগরীর অবহেলা, বর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের ভারে অস্তিত্ব সংকটে। লঞ্চ, স্টিমার, ট্রলারসহ অসংখ্য নৌযানের ব্যস্ততায় নদীর বুক এখনো সরব; কিন্তু তার স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে দূষিত পানি, বর্জ্য আর দীর্ঘদিনের নগর ব্যবস্থাপনার সংকট।

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর আলোচনা সাধারণত নদী সংস্কার, দখলমুক্তকরণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়-শুধু নদী ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন কি অস্তিত্ব সংকটে থাকা এ নদীকে বাঁচাতে পারবে, নাকি পাশাপাশি নজর দিতে হবে পুরো নগর কাঠামোর দিকে?

নদী যখন ছিল জীবনের সঙ্গী:

ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে বুড়িগঙ্গার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে জনবসতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগের নানা কাঠামো। সদরঘাট আজও তার জীবন্ত প্রমাণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নদীপথে যাতায়াত করেন, পণ্য ওঠানামা করে, নৌযান ছুটে চলে এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে।

মুঘল আমলে ঢাকার গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুড়িগঙ্গাও হয়ে ওঠে নগরজীবনের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। আজও সদরঘাটের ব্যস্ততা সেই ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। লঞ্চ, স্টিমার, ট্রলার, নৌকাসহ নানা ধরনের নৌযানের অবিরাম চলাচলে নদীর বুকজুড়ে তৈরি হয় এক ব্যস্ত পরিবেশ।

এই নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের জীবিকা। কেউ নাবিক, কেউ মাঝি, কেউ শ্রমিক, আবার কেউ ঘাট ও নৌবাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু যে নদী একসময় নগরকে সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় সেই নদীকেই আজ শহরের বর্জ্য ও অবহেলার ভার বহন করতে হচ্ছে।

কালো পানির গল্প:

বাবুবাজার সেতু থেকে সদরঘাট হয়ে পোস্তগোলা পর্যন্ত নদীর পাড় ঘুরলে চোখে পড়বে দূষণের নানা চিত্র। কোথাও পানির ওপর ভাসছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল, কোথাও জমে আছে আবর্জনা। কোথাও আবার নদীর তীরে বর্জ্যের স্তূপ। নদীর পানির স্বাভাবিক রং অনেক জায়গাতেই বদলে গেছে। বাতাসে ভেসে আসে দুর্গন্ধ।

নৌকা চলাচল করছে, ঘাটে মানুষের ব্যস্ততা রয়েছে; কিন্তু নদীর পানির দিকে তাকালে সেই ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য শুধু একটি নদী দূষিত হয়ে যাওয়ার গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন, শিল্পায়ন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের দীর্ঘদিনের সংকট।

প্রায় তিন দশক ধরে এ নদীর সঙ্গে জীবনযাপন করছেন গনি মিয়া (৫৭)। বর্তমানে তিনি সদরঘাট থেকে কামরাঙ্গীরচরের মাতবরঘাটে ট্রলার চালান। তিনি বলেন, “যখন পানি কমে যায়, তখন এমন গন্ধ হয় যে সারাদিন সেই গন্ধে থাকার পর বাড়িতে গিয়েও খেতে পারি না।”

এই দুরবস্থা কেন?

বুড়িগঙ্গার দূষণের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন গবেষণায় শিল্পবর্জ্য, পৌরবর্জ্য, পয়োবর্জ্য এবং বিভিন্ন নিষ্কাশনপথ দিয়ে নদীতে প্রবেশ করা দূষিত পানিকে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্পও বুড়িগঙ্গা দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচিত ছিল। গবেষণায় ট্যানারি বর্জ্যে ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি এবং এর পরিবেশগত প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। তবে ট্যানারি শিল্প সরিয়ে নেওয়ার পরও বুড়িগঙ্গার সংকট শেষ হয়নি। কারণ, এটি ছিল দূষণের অনেক কারণের মধ্যে একটি মাত্র।

এ ছাড়া পুরান ঢাকার মতো সীমিত জায়গায় বিপুল জনগোষ্ঠীর চাপ যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামাল দিয়ে বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করাও কঠিন। সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ার বিষয়টিও দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মাঝি আব্দুল আজিজের (৫২) অভিজ্ঞতাও বিষয়টি নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দেয়। তাঁর ভাষায়, “বুড়িগঙ্গার পানিতে এখন সাকার মাছ ছাড়া আর কোনো মাছ থাকে না। তবে করোনার সময় যখন মানুষজন গ্রামগঞ্জে চলে গিয়েছিল, তখন কয়েক মাসের মধ্যেই পানি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। নদীতে নানা ধরনের ছোট-বড় মাছও ফিরে এসেছিল।”

গবেষণার তথ্য যা বলে:

বুড়িগঙ্গার দূষণ শুধু চোখে দেখা কালচে পানি কিংবা দুর্গন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বিভিন্ন গবেষণায় নদীটির পানির গভীর সংকটের চিত্রও উঠে এসেছে।

২০২৩ সালে Journal of Water and Health-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ২০১৯-২০২০ সময়ে বুড়িগঙ্গার ১০টি স্থান থেকে সংগ্রহ করা ২১০টি পানির নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ক্রোমিয়াম, নিকেল, সীসা ও ক্যাডমিয়ামসহ একাধিক ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। গবেষণাটিতে ক্যাডমিয়াম, নিকেল ও সীসার দূষণকে ‘হেভি পলিউশন’ এবং অ্যান্টিমনির দূষণকে ‘সিরিয়াস পলিউশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা-পর্যালোচনায় বুড়িগঙ্গার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ২০০০ সালে প্রায় ২ মিলিগ্রাম/লিটার থেকে ২০১৯ সালের পর্যবেক্ষণে শূন্যে নেমে আসার তথ্য উঠে আসে। একই গবেষণায় পানিতে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (BOD) ও রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদার (COD) উচ্চমাত্রাসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুর দূষণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

BOD হলো পানিতে থাকা জৈব পদার্থ ভাঙতে অণুজীবের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ। অন্যদিকে COD হলো পানিতে থাকা জৈব ও অন্যান্য অক্সিডাইজযোগ্য পদার্থকে রাসায়নিকভাবে জারিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের পরিমাণ। সাধারণত এসব মাত্রা বেশি হলে পানিতে দূষণের মাত্রাও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২২ সালে Frontiers in Public Health-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ঢাকার নদীব্যবস্থার বিভিন্ন নিষ্কাশনপথ বিশ্লেষণ করে শিল্পবর্জ্য, পৌরবর্জ্য ও গৃহস্থালি পয়োবর্জ্যকে নদীদূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

সব মিলিয়ে গবেষণাগুলো দেখায়, বুড়িগঙ্গার সংকট কেবল দৃশ্যমান ময়লা বা দুর্গন্ধের বিষয় নয়; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের শিল্পবর্জ্য, পয়োবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত চাপ। তাই নদীকে বাঁচাতে শুধু পানি পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; দূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ করাই হতে হবে মূল লক্ষ্য।

জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি:

নদীর পানি দূষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম প্রভাব পড়ে নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর। পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হলে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। ভারী ধাতু ও অন্যান্য দূষকের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে জলজ পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

বুড়িগঙ্গার দূষণের প্রভাব শুধু নদীর পানি বা নদীনির্ভর মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ঢাকার জনজীবনেও। নদীর পানিতে জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য ও অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে দুর্গন্ধ, যা নদীর আশপাশের বসতি ও ব্যস্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তুলছে।

দূষিত ও স্থবির পানিতে মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা নগরবাসীর জন্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী ও নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে নোংরা পানির সংস্পর্শে এসে ত্বকের সমস্যা ও পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই বুড়িগঙ্গার দূষণকে শুধু একটি নদী রক্ষার বিষয় হিসেবে দেখলে এর পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন, জীবিকা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিস্তৃত প্রভাবটি আড়ালে থেকে যায়।

সমস্যা কি শুধু নদীর?

বুড়িগঙ্গার দূষণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বারবার নদীর পাড়ের বর্জ্য কিংবা পয়োনিষ্কাশনের কথা আসে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে আরও বড় একটি বাস্তবতা-ঢাকার ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা মানুষের চাপ।

একটি সীমিত ভৌগোলিক এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ, শিল্প, ব্যবসা ও নাগরিক কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও পরিবেশ রক্ষা-সবকিছুর ওপরই চাপ বাড়ে। বুড়িগঙ্গা সেই চাপের একটি দৃশ্যমান ফলাফল মাত্র।

ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণের ভাবনা:

ঢাকার ওপর মানুষের চাপ কমানোর কথা শুধু নীতিনির্ধারণী আলোচনাতেই নয়, গবেষণাতেও উঠে এসেছে। ২০১৯ সালে Environment and Urbanization ASIA-তে প্রকাশিত ‘City Profile: Dhaka, Bangladesh’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, চাকরি ও বিভিন্ন সেবার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন ঢাকার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। গবেষকেরা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া বা বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

২০২৬ সালের একটি গবেষণায় ঢাকার পরিবেশগত চাপ কমাতে শহরের বাইরের অঞ্চলগুলোতে পরিকল্পিত ও বিকেন্দ্রীভূত নগরায়ণের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় একাধিক কেন্দ্রভিত্তিক নগর কাঠামোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।

একই বছর পূর্বাচল নিউ টাউন নিয়ে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা যায়, শুধু নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি করলেই ঢাকার ওপর নির্ভরতা কমে না। স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংযোগ না থাকলে বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয় না।

অর্থাৎ মানুষকে শুধু ঢাকার বাইরে পাঠিয়ে দিলেই সমাধান হবে না। প্রয়োজন এমন পরিকল্পিত নগর ও আঞ্চলিক কেন্দ্র তৈরি করা, যেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। কারণ, একটি ছোট ভৌগোলিক এলাকায় ক্রমাগত মানুষের চাপ বাড়িয়ে রেখে শুধু নদী পরিষ্কার করে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন। ঢাকার ওপর চাপ কমানো গেলে বর্জ্য, পয়োনিষ্কাশন ও অন্যান্য নগর সমস্যার ওপরও চাপ কমানো সম্ভব।

বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ:

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর সমাধান তাই শুধু নদীর পানিতে রাসায়নিক প্রয়োগ কিংবা নিয়মিত পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রথমেই বন্ধ করতে হবে নদীতে বর্জ্য ও অপরিশোধিত পয়োবর্জ্য ফেলার পথ। শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর শোধনাগার নিশ্চিত করতে হবে। নদীর দখল ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও পানির মান পরীক্ষা করতে হবে।

এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ঢাকার ওপর মানুষের চাপ কমাতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী আঞ্চলিক শহর, যাতে মানুষকে জীবিকা ও নাগরিক সুবিধার জন্য রাজধানীনির্ভর হতে না হয়।

তাই বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হলে শুধু নদীর দিকে তাকালে হবে না; তাকাতে হবে পুরো নগর ব্যবস্থাপনার দিকে।

একসময় এ নদীর স্রোত ঢাকার বাণিজ্য ও জনজীবনকে এগিয়ে নিয়েছিল। আজ সেই নদী বয়ে নিয়ে যাচ্ছে নগরীর বিশাল জনগোষ্ঠীর চাপ ও অবহেলার বোঝা। মৃতপ্রায় নদীটিতে আবার প্রাণের সঞ্চার করতে হলে শুধু পানির পরিবর্তন নয়, পরিবর্তন করতে হবে সেই নগরভাবনাকেও, যে ভাবনা একটি শহরের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছে।

বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানোর লড়াই তাই শেষ পর্যন্ত শুধু একটি নদীকে বাঁচানোর গল্প নয়; এটি একটি ভবিষ্যৎ বাসযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার লড়াই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%