১১:২০ এম
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ বা শাখাপ্রধান হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে সুশাসন, জবাবদিহি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্যোগ।
এখন পর্যন্ত রাজধানীর কিছু আলোচিত ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা শুরু হয়েছে।
এজন্য ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে উপযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা অথবা বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে সমকালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, গভর্নিং বডির ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষার মান অবনতি ঘটার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুযায়ী, অভিযোগপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রথমে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তদন্ত পরিচালনা করবে। যদি তদন্তে গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিক্ষা ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব নেবে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
তবে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ বলছেন, এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে গেলে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ মানদণ্ড এবং প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা আবশ্যক। অন্যথায় নতুন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেছেন, 'শিক্ষা ক্যাডার থেকে কর্মকর্তাদের অধ্যক্ষ করে পাঠালেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। বরং মনিটরিং এবং জবাবদিহি সুনিশ্চিত না করা গেলে কোন পদক্ষেপই কার্যকর হবে না। যাঁরা দায়িত্ব নেবেন, সেই কর্মকর্তাদের সেখানকার জবাবদিহি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।'
আরও পড়ুন: ২৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট সাময়িক স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন