প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটের বিয়ানীবাজারে বিএনপির এক নেতার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের শিকার যুবদল নেতা কামাল আহমেদ, যিনি চাক্কু কামাল নামেও পরিচিত। স্থানীয় যুবদল নেতা কামালের বিরুদ্ধে চাঁদা না পাওয়ার পর হামলা, ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার কারণে ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মঈন উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় যুবদলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী মঈন উদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স শাখা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। তিনি জানান, বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামাল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতাকর্মীদের সহায়তায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে কামাল তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন।
মঈন উদ্দিন বলেন, ‘সর্বশেষ তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাক্কু কামাল তার অনুসারীদের নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বাজারে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীরও ভাঙচুর করা হয়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। চলতি বছর এপ্রিল মাসে তিনি থানায় মামলা করেছেন। কিন্তু মামলার পরেও তিনি রেহাই পাননি, বরং তার ওপর হামলার চেষ্টা চলেছে।
ভুক্তভোগী বলেন, ক্রমাগত হুমকি এবং হামলার কারণে বর্তমানে তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর জামাতের নেতা চাক্কু কামাল এলাকায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং সংগঠন শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা তার কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ।
এদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে চাক্কু কামালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সিলেট জেলা যুবদলের কাছে লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, চাক্কু কামাল চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। স্থানীয় যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আহমদ দুলন বলেন, ‘আমরা কামাল আহমেদের বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। জেলা কমিটি বিষয়টি কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। পরবর্তী সময়ে কি হয়েছে, আমি জানি না।’
অন্যদিকে, সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর কামাল আহমেদকে বহিষ্কারের জন্য যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল, তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। , মঈন উদ্দিন নামের একজনের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় তথ্যসহ তাকে আসতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কামাল আহমেদ বলেন, ‘মহিউদ্দিন আমার বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন, তা ভিত্তিহীন। তিনি যদি কোনো প্রমাণ দিতে পারেন, আমি এবং প্রশাসন আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন