০৩:৪৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (ঢামেক) ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। তিনি বলেন, ঢামেক ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ সালের আন্দোলনে অবদান রেখেছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে, ঢামেকের প্রত্যেক চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সেই আন্দোলনের সঙ্গেও জড়িয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন আহত-শহীদ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তারা চিকিৎসা দিয়েছিলেন।
শনিবার ডিএমসি ডে-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ডাক্তাররা জনগণের পরম বন্ধু এবং ভরসার জায়গা। বিপদে পড়লে মানুষ ডাক্তারদের কাছে যায়। চিকিৎসকরাই রোগ-শোকে কাতর মানুষের পাশে দাঁড়ান। এই বিষয়ে আমি আপাতভাবে নিজেও উপলব্ধি করেছি।
তিনি আরও জানান, দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরাই বহু বছর ধরে তার মায়ের চিকিৎসা করেছেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তারা আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে তার পাশে ছিলেন। যদিও বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবুও তার বিশ্বাস ছিল যে, উন্নত যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও সেখানে সেই মানবিক সেবা পাওয়া যেতো না। তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের নিষ্ঠা এবং সেবার প্রশংসা করেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং রোগীদের সেবা বাড়াতে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব এবং মানসম্মত নবজাতক সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দেশে প্রায় ৬০০টি উপজেলা থাকলেও মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ গ্রাম ও উপজেলার পর্যায়ে বসবাস করেন, তবে শহরে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষের বসবাস। এই জন্য গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক কর্মী এবং সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসার সন্ধানে বিদেশে যাচ্ছেন, ফলে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। তিনি সকলকে একত্রিত হয়ে একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আহ্বান জানান, যাতে দেশের মানুষ আস্থার সঙ্গে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন এবং বিদেশমুখিতা কমে আসে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গার্মেন্টস শ্রমিক কার্তিক নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন