০৯:৪৯ পি.এম
দক্ষিণ আফ্রিকা, চলমান অভিবাসী-বিরোধী সহিংসতা এবং জাতিগত বিদ্বেষের কারণে বিশ্বকাপে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থন হারিয়েছে। সাধারণভাবে, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতে আফ্রিকার দেশগুলো একে অপরকে সমর্থন করে। কিন্তু এবার চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংস আচরণ ও জাতিগত বিদ্বেষের ক্ষোভের কারণে আফ্রিকার দেশগুলো নিজেদের প্রতিপক্ষ দলের প্রতি সমর্থন দিয়েছে।
কেনিয়ায়, আফ্রিকার দেশগুলোর মত, কয়েকজন ফুটবল ভক্ত একটি বারে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করছিলেন। সেখানে তারা আফ্রিকার প্রতিপক্ষ দলকে সমর্থন জানিয়ে উল্লাস করছেন। এটি দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক সহিংসতার জন্য সৃষ্ট ক্ষোভের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সবাই।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
গেল বৃহস্পতিবার রাতে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে, যখনই কোন সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিল, তখন ৩৭ বছর বয়সী কেনীয় নারী শাহিম উল্লাসে মেতে উঠছিলেন। সে সময় শাহিম বলেন, 'ফুটবলে সবকিছুই রাজনৈতিক। দক্ষিণ আফ্রিকা যা করছে, আমরা তার বিরুদ্ধে সমর্থন জানাচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাই (দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ) তাদের দেশে যা ঘটছে তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাক... কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।'
দক্ষিণ আফ্রিকা গত কয়েক মাস ধরে অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল রয়েছে। তবে, বিক্ষোভে উপস্থিতি তেমন নেই, কিন্তু অনলাইনে বিদ্বেষপূর্ণ বার্তা বিদেশি গণমাধ্যমের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
মোসেল বে শহরে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতায় দুজন হতাহত হয়েছেন। সহিংসতার আশঙ্কায়, নাইজেরিয়া, ঘানা, জিম্বাবুয়ে এবং মালাউই ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়েকশ’ নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষও প্রায় ২হাজার৭শ৪৫ জন বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে আজ মুখোমুখি হচ্ছে কে-কার
ফুটবলাররা মাঠের বাইরে এই রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম ট্রল ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলের অধিনায়ক রনওয়েন উইলিয়ামস স্বীকার করেছেন, এই পরিস্থিতির কারণে অন্যদেশের অভিবাসীরা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন