প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পঞ্চগড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত টাস্কফোর্স অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে হ্যান্ডকাপ সহ ৪ আসামীকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে ঘটে, এবং এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সঙ্গে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪ সদস্য আহত হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আসামীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা শহরের রাজনগর এলাকার জয়নাল (৪২), একই এলাকার শাহেন শাহ (৩৬), পুরাতন ক্যাম্প এলাকার হাসিবুর রহমান (২৫) এবং একই এলাকার দিপু ইসলাম (৩৭)।
আসামীদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা আছে যে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ এবং ব্যাটালিয়ন আনসারসহ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় জেলা শহরের হাজী মার্কেটের একটি পরিত্যক্ত দোকানে মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়। তাদের থেকে এক পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, অর্ধেক পিস ইয়াবা ও কিছু মাদকসেবীর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। আসামীদের গাড়িতে তোলার সময় ২০-২৫ জন লোক তাদের হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরে তাদের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। হ্যান্ডকাপ দুটি কাটার অবস্থায় উদ্ধার হয়। রাতের এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার এবং আসামী ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।
অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সিপাহী ফাহিমুর রহমান, মোসাদ্দেক আলী, তরিকুল ইসলাম এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের নায়েব সুবেদার জালাল উদ্দিন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে, যুবদল নেতা দিপু ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে রাস্তা থেকে ধরে আনা হয়েছে। আমি ওদের সাথে ছিলাম না।’
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, ‘আমরা পঞ্চগড়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যারাই অপরাধের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন