ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রিকন্ডিশন্ড ও হাইব্রিড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার


রিকন্ডিশন্ড ও হাইব্রিড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রিকন্ডিশন্ড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির উপর কর প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) জানিয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা সভাপতি আবদুল হক এসব দাবি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ১ থেকে ১ হাজার ৫০০ সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করে ১ থেকে ১ হাজার ২০০ সিসি এবং ১ হাজার ২০১ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে এসব গাড়ির আমদানির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার প্রায় ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

তিনি আরও বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। একটি রিকন্ডিশন্ড প্রিমিও গাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং একটি অ্যাক্সিও গাড়ির মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও প্রত্যাশিতভাবে বাড়বে না।

বারভিডা নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২ হাজার সিসি ইঞ্জিন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে এবং ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে উভয় ক্ষেত্রেই ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রক শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক বলে মনে করে সংগঠনটি।

তারা রিকন্ডিশন্ড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক সমন্বয়ের দাবি জানান। বারভিডার মতে, প্লাগ-ইন হাইব্রিডের তুলনায় হাইব্রিড গাড়ি দেশের বাস্তবতায় বেশি অর্থনৈতিক ও কার্যকর। হাইব্রিড গাড়িগুলো প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ ও ২০ শতাংশ ব্যাটারি-নির্ভর প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে জ্বালানি সাশ্রয় করে। ফলে প্লাগ-ইন হাইব্রিডের মতো শুল্ক সুবিধা হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও দেওয়া উচিত।

বারভিডা জানায়, প্রায় চার দশক ধরে সংগঠনটি বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে পরিবহন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং উৎপাদক দেশগুলোতে গাড়ির মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে

সংগঠনটির নেতারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে গাড়ি বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। একই সঙ্গে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানিকৃত গাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে মোটরযান বিক্রি ও আমদানি উভয়ই হ্রাস পেয়েছে।

বারভিডা সভাপতি আবদুল হক বলেন, মোটরযান খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এ খাতের বিক্রি কমে যাওয়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রতিফলন। তাই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি মোটরযান খাতের টেকসই বিকাশে সহায়ক নীতি গ্রহণ প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক সভাপতি ও সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ, উপকূলে তাণ্ডবের আশঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


গাজীপুরে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

‘মাদককে না বলি, খেলাধুলার মাধ্যমে সুন্দর জীবন গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুরে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ শুরু হয়েছে।

শনিবার বিকেলে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করবেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এবং গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন। টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হান্নান মিয়া হান্নু ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম কালা প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ৩-০ গোলে দিনাজপুরের শাইখ স্পোর্টসকে পরাজিত করে শুভ সূচনা করে। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে বিকেএসপির তরুণরা মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখে।

আয়োজক কমিটি জানায়, গাজীপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলার ১৬টি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক দল নকআউট পদ্ধতিতে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে বিজয়ী দলগুলো পর্যায়ক্রমে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং আগামী ১০ জুলাইয়ের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩ লাখ টাকা ও ট্রফি, আর রানার্সআপ দল পাবে ২ লাখ টাকা ও ট্রফি। এ ছাড়া, প্রতি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা গোলরক্ষকের জন্য থাকছে বিশেষ পুরস্কার। প্রতিদিন বিকেল ৩টায় ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজক কমিটির মতে, এই টুর্নামেন্টের লক্ষ্য শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়। বরং খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম গড়ে তুলতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে কারখানায় আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


গাজীপুরে কারখানায় আগুন

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইল কলেজ গেট এলাকার একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘঠিত হয়েছে। এই আগুনে মবিল তৈরির মালামাল ও মেশিনপত্র সারা পুড়ে যায়। শনিবার দুপুর ২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, পূবাইল কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত মবিল রিসাইকেলিং ফ্যাক্টরিতে দুপুরের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এসময় আগুনে ছড়িয়ে পড়া আগুনে মবিল তৈরির মালামাল ও মেশিনপত্র পুড়ে যায়।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর বলা যাবে। তবে আগুনের ফলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সন্দিহান রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সন্দিহান রাশিয়া

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা নতুন উসকানি বা হামলার কারণে খুব সহজেই ভেঙে যেতে পারে। তাই বর্তমানে স্থায়ী শান্তির আশা করা ‘তাড়াহুড়ো’ হবে।

রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যাক্স -এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘লেবাননে নতুন হামলা বা অন্যান্য উস্কানির কারণে এই অস্থিতিশীল চুক্তি সহজেই ভেস্তে যেতে পারে। আর নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার জন্য যাদের যুদ্ধের মাধ্যমেই টিকে থাকা প্রয়োজন, তাদের জন্য ঠিক এটি প্রয়োজন। সুতরাং, শান্তির আশা করাটা অবিবেচনাপ্রসূত।’

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যে সংঘাতে মস্কো মূলত কূটনৈতিক ও মৌখিক সমর্থনে সীমাবদ্ধ থাকায় দুই দেশের অংশীদারিত্বের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে চীনের লাভ-ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


ইরান যুদ্ধে চীনের লাভ-ক্ষতি

প্রায় চার মাসের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর, এখন সব পক্ষ নিজেদের জয়-পরাজয় ও লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছে। মাঠের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করলে ইরান অবশ্যই পিছিয়ে থাকবে।

তবে যুদ্ধে টিকে থেকেও বড় এক জয়ের দেখা ইরান পেয়ে গেছে। শুরুতে ইরানের সরকার পরিবর্তন ও তাদের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা ছিল, দৃশ্যমান তেমন কোনো অর্জন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের সরকার বদল ঘটেনি, বরং যুদ্ধ তাদের আরো ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে। এই সুযোগে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি স্বীকৃতিও আদায় করেছে।

ইরান যে সবচেয়ে বড় লাভ পাবে, তা হলো দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলার এখন তাদের হাতে আসবে। এই অর্থ তাদের বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার কারণে ইরান তেল বিক্রি করেও অনেক বেশি লাভবান হবে।

এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে ইসরায়েল। মূলত, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফুঁসলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু এখন তাকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় পৌঁছেছে। যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহুর মূল ভূমিকায় থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী ঘটনাগুলিতে তার কোনও ভূমিকা নেই। বরং ট্রাম্প একাধিকবার নেতানিয়াহুর আচরণে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। নেতানিয়াহু এখন সমঝোতা স্মারক ভণ্ডুল করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষরের পরও তিনি লেবাননে হামলা চালিয়ে শান্তি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে চাইছেন।

যুদ্ধে সরাসরি জড়িত না হয়েও চীন লাভের গুড়ে অনেকটা ভাগ বসাতে পেরেছে। ভারসাম্যপূর্ণ এবং কৌশলী কূটনীতি দিয়ে চীন বিশ্বের কাছে নিজেদের দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছে। ইরান যুদ্ধে চীনের ভাবমূর্তি দারুণ উজ্জ্বল হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে চীন বরাবরই নিজেদের যৌক্তিক অবস্থান বজায় রেখেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের নিন্দা করেছে, আবার শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভূমিকাও রেখেছে। ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ না করেও চীন ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন করেছে।

বুধবার ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্টের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি চীন ও প্রেসিডেন্ট শি-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন, একদম নিরপেক্ষ এবং আমি তথ্যে প্রশংসা করি।’

ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অমান্য করতে চীনা নেতা তার দেশের নৌ-শক্তি ব্যবহার করেননি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সেটি করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছিলেন এবং আমার মনে হয় এটি সমাধানে সম্ভবত তিনি সাহায্য করেছেন।’

এখানে বেইজিংয়ের কৌশলী কূটনীতির জয় হয়েছে। নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই তারা বিশ্ব শক্তির ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং এই সংঘাতের মূল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের নেতারা বেইজিং সফর করেছেন। এই সফরে বিশ্ব শক্তি হিসেবে চীন নিজেদের আবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। যদিও পুরো প্রক্রিয়ায় থেকেও চীন কোনো পক্ষ নেয়নি। শান্তি আলোচনার শুরুর সময়ে ইরান যে কোনো চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টার হিসেবে রাখতে চেয়েছিল কিন্তু চীন কৌশলে তা এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিকেই সামনে এনেছে বারবার।

যুদ্ধ শুরুর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন এ সংকট মোকাবেলা করেছে দারুণ দক্ষতায়। জ্বালানি তেলের কৌশলগত বিশাল মজুদ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারের কারণে জ্বালানি তেলের সংকটের অভিঘাত খুব একটা লাগেনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালনে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং। এই চুক্তির পেছনে বেইজিংয়ের কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিন জিয়ান নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা নিশ্চিত করেননি। তবে যুদ্ধ বন্ধে চীনের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের পেশ করা চার দফা শান্তি প্রস্তাবের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

বুধবার চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানোর আহ্বান জানান। ওয়াং বলেন, ‘শান্তির আলো দেখা দিয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের মূল চাবিকাঠি হলো সব পক্ষের নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করা এবং সব দিক থেকে আসা হস্তক্ষেপ দূর করা।’

চীনের এসব ভূমিকা বিশ্বের কাছে এটি বার্তা দিয়েছে—অন্যরা যখন যুদ্ধ ছড়াচ্ছে, তখন চীন একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি এবং প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এই যুদ্ধ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অন্ধের মতো যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চীন বিশ্বের পরাশক্তি হয়ে উঠবে কিনা, এমন আলোচনা সামনে এসেছে। তবে চীনের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ধাঁচের কোনো পরাশক্তি হতে চায় না।

বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’র ফেলো সান চেংহাও বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী বহিরাগত পক্ষ হিসেবে রয়ে গেছে। পরিবর্তনের মধ্যে আছে শুধু এটিই, সেখানে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে এখন অনেক বেশি রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সম্মানহানির মূল্য দিতে হচ্ছে।’

চীন বরাবরই সব দেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, রাজনৈতিক সমাধান এবং উন্নয়নভিত্তিক নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়। এবারের যুদ্ধে তাদের সেই দর্শন আবার সামনে এসেছে এবং প্রশংসিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%