ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান যুদ্ধে চীনের লাভ-ক্ষতি


ইরান যুদ্ধে চীনের লাভ-ক্ষতি

প্রায় চার মাসের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর, এখন সব পক্ষ নিজেদের জয়-পরাজয় ও লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছে। মাঠের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করলে ইরান অবশ্যই পিছিয়ে থাকবে।

তবে যুদ্ধে টিকে থেকেও বড় এক জয়ের দেখা ইরান পেয়ে গেছে। শুরুতে ইরানের সরকার পরিবর্তন ও তাদের হাতে থাকা ইউরেনিয়াম নিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা ছিল, দৃশ্যমান তেমন কোনো অর্জন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের সরকার বদল ঘটেনি, বরং যুদ্ধ তাদের আরো ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে। এই সুযোগে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি স্বীকৃতিও আদায় করেছে।

ইরান যে সবচেয়ে বড় লাভ পাবে, তা হলো দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলার এখন তাদের হাতে আসবে। এই অর্থ তাদের বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার কারণে ইরান তেল বিক্রি করেও অনেক বেশি লাভবান হবে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছে ইসরায়েল। মূলত, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফুঁসলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু এখন তাকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় পৌঁছেছে। যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহুর মূল ভূমিকায় থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী ঘটনাগুলিতে তার কোনও ভূমিকা নেই। বরং ট্রাম্প একাধিকবার নেতানিয়াহুর আচরণে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। নেতানিয়াহু এখন সমঝোতা স্মারক ভণ্ডুল করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষরের পরও তিনি লেবাননে হামলা চালিয়ে শান্তি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে চাইছেন।

যুদ্ধে সরাসরি জড়িত না হয়েও চীন লাভের গুড়ে অনেকটা ভাগ বসাতে পেরেছে। ভারসাম্যপূর্ণ এবং কৌশলী কূটনীতি দিয়ে চীন বিশ্বের কাছে নিজেদের দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছে। ইরান যুদ্ধে চীনের ভাবমূর্তি দারুণ উজ্জ্বল হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে চীন বরাবরই নিজেদের যৌক্তিক অবস্থান বজায় রেখেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের নিন্দা করেছে, আবার শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভূমিকাও রেখেছে। ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ না করেও চীন ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন করেছে।

বুধবার ফ্রান্সে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্টের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি চীন ও প্রেসিডেন্ট শি-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন, একদম নিরপেক্ষ এবং আমি তথ্যে প্রশংসা করি।’

ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অমান্য করতে চীনা নেতা তার দেশের নৌ-শক্তি ব্যবহার করেননি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সেটি করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছিলেন এবং আমার মনে হয় এটি সমাধানে সম্ভবত তিনি সাহায্য করেছেন।’

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

এখানে বেইজিংয়ের কৌশলী কূটনীতির জয় হয়েছে। নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই তারা বিশ্ব শক্তির ওপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং এই সংঘাতের মূল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের নেতারা বেইজিং সফর করেছেন। এই সফরে বিশ্ব শক্তি হিসেবে চীন নিজেদের আবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। যদিও পুরো প্রক্রিয়ায় থেকেও চীন কোনো পক্ষ নেয়নি। শান্তি আলোচনার শুরুর সময়ে ইরান যে কোনো চুক্তিতে চীনকে গ্যারান্টার হিসেবে রাখতে চেয়েছিল কিন্তু চীন কৌশলে তা এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিকেই সামনে এনেছে বারবার।

যুদ্ধ শুরুর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন এ সংকট মোকাবেলা করেছে দারুণ দক্ষতায়। জ্বালানি তেলের কৌশলগত বিশাল মজুদ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারের কারণে জ্বালানি তেলের সংকটের অভিঘাত খুব একটা লাগেনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালনে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং। এই চুক্তির পেছনে বেইজিংয়ের কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লিন জিয়ান নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকার কথা নিশ্চিত করেননি। তবে যুদ্ধ বন্ধে চীনের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের পেশ করা চার দফা শান্তি প্রস্তাবের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

বুধবার চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানোর আহ্বান জানান। ওয়াং বলেন, ‘শান্তির আলো দেখা দিয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের মূল চাবিকাঠি হলো সব পক্ষের নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়ন করা এবং সব দিক থেকে আসা হস্তক্ষেপ দূর করা।’

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

চীনের এসব ভূমিকা বিশ্বের কাছে এটি বার্তা দিয়েছে—অন্যরা যখন যুদ্ধ ছড়াচ্ছে, তখন চীন একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি এবং প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এই যুদ্ধ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অন্ধের মতো যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে চীন বিশ্বের পরাশক্তি হয়ে উঠবে কিনা, এমন আলোচনা সামনে এসেছে। তবে চীনের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ধাঁচের কোনো পরাশক্তি হতে চায় না।

বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’র ফেলো সান চেংহাও বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে শক্তিশালী বহিরাগত পক্ষ হিসেবে রয়ে গেছে। পরিবর্তনের মধ্যে আছে শুধু এটিই, সেখানে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে এখন অনেক বেশি রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সম্মানহানির মূল্য দিতে হচ্ছে।’

চীন বরাবরই সব দেশের সার্বভৌমত্ব, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, রাজনৈতিক সমাধান এবং উন্নয়নভিত্তিক নিরাপত্তার ওপর জোর দেয়। এবারের যুদ্ধে তাদের সেই দর্শন আবার সামনে এসেছে এবং প্রশংসিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়নে গোপন আলোচনা চলছে: সুইজারল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়নে গোপন আলোচনা চলছে: সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইই) কার্যকর করার লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে দেশটির বার্গেনস্টক রিসোর্টে এখনো একটি ‘নির্ভরযোগ্য ও গোপন’ পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজ চলছে। খবরটি রয়টার্সের।

শনিবার, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলোচনার অংশগ্রহণকারীরা এবং আলোচনা কী বিষয় নিয়ে হচ্ছে—গোপনীয়তার স্বার্থে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড দীর্ঘ সময় ধরে একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে মরিচ ক্ষেতে গাঁজার চাষ, ১০ ফুট উচ্চতার গাঁজা গাছ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


কুড়িগ্রামে মরিচ ক্ষেতে গাঁজার চাষ, ১০ ফুট উচ্চতার গাঁজা গাছ জব্দ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মরিচ ক্ষেত থেকে ১০ ফুট উচ্চতার একটি গাঁজার গাছ জব্দ করেছে পুলিশ। উপজেলার  তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি বটতলা এলাকার দূর্গম চরে মরিচ ক্ষেতে অবৈধভাবে চাষ করা একটি বড় আকারের গাঁজা গাছ জব্দ করে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ ফুট লম্বা গাঁজার গাছটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই খোঁচাবাড়ি গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়া দুধকুমার নদের পাড়ে জেগে ওঠা চরে তার মরিচ ক্ষেতের মধ্যে গোপনে একটি গাঁজা গাছ রোপণ করেন। প্রায় দুই বছর ধরে লালন-পালনের ফলে গাছটি প্রায় ১০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছে। তবে গাছে ফুল আসার আগেই পুলিশের নজরে পড়ে যায় গাছটি। শনিবার বিকেলে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল  বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মরিচ ক্ষেতের মধ্যে থাকা বৃহৎ আকৃতির গাঁজা গাছটি জব্দ করা হয়।

পুলিশ আরো জানায়, ওই এলাকায় আরও কোথাও গাঁজা গাছের চাষ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কৃষক ইউসুফ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের এএসপি মুনতাসির মামুন মুন জানিয়েছেন, চরাঞ্চলের কিছু দরিদ্র কৃষক অধিক মুনাফার আশায় মাদক কারবারিদের প্ররোচনায় পড়ে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের চাষে জড়িয়ে পড়েন। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুধু জিপিএ অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়: সায়মা ফেরদৌস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২০ পি.এম


শুধু জিপিএ অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়: সায়মা ফেরদৌস

পিএসসি সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মতো মানুষ হওয়া। যদি যে শিক্ষা আমাকে আপনাকে নৈতিকতা শিক্ষা দিতে পারে না, তাহলে বলতে হবে প্রকৃত শিক্ষার অভাব রয়েছে।

তিনি শনিবার (২০ জুন) সকালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত অরিয়েন্টেশন ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জীবনের জিপিএ ৫ মানে সবকিছু নয়। অনেক মানুষকে দেখেছি এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ ৫ পেয়েও বেশিদূর এগোতে পারেনি। আবার এমন অনেককেও চিনি যারা খুব ভালো জিপিএ পায়নি কিন্তু মেধা ও মননে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। সুতরাং, শুধুমাত্র জিপিএ অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো ভালো মানুষ হওয়া, সৎ মানুষ হওয়া, এবং নীতি নৈতিকতার সমন্বয়ে দেশকে সেবা করা।

তিনি আরও বলেছেন, একটি ভুল হলে যদি অনুশোচনা করতে পারো এবং সে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাও, তাহলে বিশ্বাস করো তোমাদের কেউ দমাতে পারবে না। তোমরা শিক্ষা অর্জন করো, উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে বিদেশে যাও কিন্তু তারপর দেশে ফিরে আসো। তোমার মেধা এখানে কাজে লাগাও। তোমার ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাও।

ড. সায়মা বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কাজে নিজেকে জড়িত করতে হবে। সামাজিক কাজের মাধ্যমেই তোমরা সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য কিছু করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা মানবতার কাজে নিজেদের জড়িত করো, তাহলেই জীবনের প্রকৃত মিনিংটা বুঝতে পারবে। শিক্ষা মানে কেবল উপার্জন নয়; শিক্ষা মানে সমাজে ভালো কিছু ছড়িয়ে দেয়া।

অধ্যাপক সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, বাবা-মায়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। তুমি যতো বড়ই হও না কেন, বাবা-মাকে তাদের প্রাকৃতিক সম্মানটা দিতে কখনো ভুল করো না। জীবনে যখন উপার্জন করবা, তখন থেকেই সেভিংস করতে শিখো। এই সেভিংস বাবা-মায়ের জন্য, নিজের জন্য, এবং পরিবারের জন্য।

অরিয়েন্টেশন ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেছেন ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বশির ভুঁইয়া, অধ্যাপক ড. রেজা হাসান, অধ্যাপক শিপন আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহ জাহান, সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান মজুমদার প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে ঢাকঢোল বাজিয়ে জার্মান সমর্থকদের শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২০ পি.এম


গোপালগঞ্জে ঢাকঢোল বাজিয়ে জার্মান সমর্থকদের শোভাযাত্রা

গোপালগঞ্জে বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এবার যোগদান করেছেন জার্মানির সমর্থকরা। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে জেলা শহরে একটি শোভাযাত্রা করেন তারা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা গায়ে জার্মানির জার্সি পরে ঢাকঢোল বাজান। তারা রাস্তায় ফুটবল খেলতে খেলতে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের পৌরপার্ক থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার পর আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। জার্মান দলের সমর্থকরা আশা ব্যক্ত করেন যে এবার জার্মানি বিশ্বকাপ নিবে। এ সময়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব কচি সিকদার, ফুটবলার আব্দুল মান্নান মানিসহ জার্মান সমর্থক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%