ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শরীয়তপুরে অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত মাটি, কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস


শরীয়তপুরে অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত মাটি, কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনকভাবে গরম মাটি হয়ে ওঠার ঘটনায় এলাকাটিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে অস্বাভাবিক তাপ অনুভূত হচ্ছে।

শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম থাকার ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে সেখানে গর্ত করে পরীক্ষা করা হলে মাটির নিচ থেকেও তাপ বের হতে দেখা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি কিছুটা আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। প্রাথমিকভাবে তারা ওই স্থানে পানি দিয়ে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইসলামের জন্য ক্ষমতা ছাড়তে পারি, ক্ষমতার জন্য ইসলাম নয়: ফয়জুল করীম

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা এবিএম আবুল বাশার বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা মাটির একটি নির্দিষ্ট অংশে অস্বাভাবিক তাপ অনুভব করেছি। প্রাথমিকভাবে সেখানে পানি দিয়ে তাপমাত্রা কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু কী কারণে মাটি গরম হচ্ছে, তা এখনই সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।

স্থানীয়দের ধারণা, ভূগর্ভস্থ কোনো গ্যাস, রাসায়নিক বিক্রিয়া অথবা অন্য কোনো কারণে এ ধরনের তাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। তাপের উৎস এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে রহস্যজনক এই ঘটনার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় বেড়ে গেছে। মাটির নিচে কী কারণে এমন তাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা জানতে স্থানীয়রা অপেক্ষা করছেন।

আরও পড়ুন: মহাঅষ্টমীতে বরিশালের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিএমপি কমিশনার, নিরাপত্তায় কঠোর নজরদারি

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরিণ শিকারে সঙ্গীর গুলিতে নিহত ১ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


হরিণ শিকারে সঙ্গীর গুলিতে নিহত ১ জন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হরিণ শিকার করতে গিয়ে সঙ্গীর ছোঁড়া গুলিতে মোহাম্মদ জমিল উদ্দিন (৫৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাউজান থানাধীন হলুদিয়া ইউনিয়নের রাবার বাগান এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।

নিহত জমিল উদ্দিন ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের দক্ষিণ খিরাম এলাকার ‘বলির বাপের বাড়ি’র তুফায়েল আহাম্মদের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বা আজ শনিবার এলাকার ৫-৬ জন প্রতিবেশী মিলে রাউজান থানার হলুদিয়া রাবার বাগান বনাঞ্চলে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে বের হন। বনের ভেতর শিকারের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তাদের নিজেদের দলেরই কারো বন্দুকের গুলি সরাসরি জমিল উদ্দিনের গায়ে লাগে। এর ফলে তিনি গুরুতর জখম হন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় সঙ্গীরা ও স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, পথেই তার মৃত্যু হয়।

এর আগে ঘটনাটি ফটিকছড়ির সর্তা বিট এলাকায় ঘটেছে বলে প্রাথমিক গুঞ্জন ছড়ালেও, পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায় ঘটনার মূল স্থান রাউজান থানার হলুদিয়া ইউনিয়ন।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি ও রাউজান থানা পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সময় সাথে থাকা ৫-৬ জন প্রতিবেশীর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বদলে গেছে বিজিবি, চোখ রাঙাচ্ছে বিএসএফকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


বদলে গেছে বিজিবি, চোখ রাঙাচ্ছে বিএসএফকে

ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বিজিবিকে 'নতজানু' করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে সীমান্তে যথাযথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এক্ষেত্রে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের 'পুশইন' চেষ্টাকে একাধিক স্থানে ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও যশোরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এসব চেষ্টা প্রতিহত হয়েছে।

পাটগ্রামে ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাপ্পারবাড়ি সীমান্তে শনিবার দুপুরে ভারতীয় ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দাওয়ারীকামার ক্যাম্পের সদস্যরা একজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিজিবির কালিরহাট বিওপি সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে ওই ব্যক্তিকে জোরপূর্বক পুশইনে বাধা দেয় বিজিবি টহল দল। পরে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে তাকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, ওই ব্যক্তি সীমান্তের জিরো লাইনের ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।

পঞ্চগড়ে ১০ জনকে নিয়ে ৩০ ঘণ্টার অচলাবস্থা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে নারী, শিশু ও পুরুষসহ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা ঘিরে প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার ভোর থেকে তারা ভারতীয় শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। বিজিবি জানায়, পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিজিবির অবস্থান হলো—আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে অনাহারে ও অনিরাপদ অবস্থায় থাকলেও বিজিবি তাদের শুকনো খাবার সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও সমাধান আসেনি।

নওগাঁয় ১৭ জনকে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ১৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের আঁধারে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ফেরত নিয়ে যায়। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক বিবেচনায় প্রথমে তাদের শূন্যরেখায় থাকতে দেওয়া হলেও পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় ফেরত পাঠানো হয়।

বেনাপোলে স্থানীয়দের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রতিরোধ

যশোরের বেনাপোল সীমান্তেও একই ধরনের পুশইন চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সেখানে প্রায় ৮–১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের যৌথ অবস্থানে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

পাটগ্রাম ও অন্যান্য সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থান

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মাজেদ জানান, পুশইনের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয় এবং বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এছাড়া সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

স্থানীয়দের ভূমিকা ও মানবিক পরিস্থিতি

একাধিক সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণ বিজিবির সঙ্গে একাত্ম হয়ে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বেনাপোল সীমান্তে গ্রামবাসীরা রাতেও টর্চ হাতে পাহারায় অংশ নেয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। অন্যদিকে পঞ্চগড় সীমান্তে আটকে পড়া নারী, শিশু ও পুরুষরা মানবিক সংকটে পড়েছেন। তারা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

নওগাঁ ও বেনাপোল সীমান্তে সফল প্রতিরোধ

নওগাঁ ও বেনাপোলে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানা গেছে। দুই স্থানে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিজিবি। বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকেও অগ্রগতি নেই। বিভিন্ন সীমান্তে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচয় যাচাই না করে কাউকে বাংলাদেশে পাঠানোর সুযোগ নেই।

সমন্বিত পরিস্থিতি

সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন। কারণ একাধিক সীমান্তে একই ধরনের ঘটনা একযোগে ঘটায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিজিবি বলছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে সীমান্ত রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণের সহযোগিতা তাদের শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে: তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে: তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি শান্তি চুক্তি নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ইরানের জব্দকৃত ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দেয়ার সম্মতির ওপর।

শুক্রবার সিএনএন-কে এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ শুরু করে, তবে তারা একটি অন্ধকার পথে প্রবেশ করবে।

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই তেহরানে সিএনএন-কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে এবং (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড) ট্রাম্পকে অবশ্যই এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে। এখন বল ট্রাম্পের কোর্টে।’

জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথে জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার এবং পরে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ার দাবি জানিয়েছে।

রেজাই, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তির দাবিকে একটি আস্থা-নির্মাণকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই তহবিল মুক্তির সম্ভাবনা ইরান ও আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি বলেন, যদি তিনি (ট্রাম্প) ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান, তবে এই ২৪ বিলিয়ন ডলার হলো ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের আস্থার একটি পরীক্ষা – এ পরীক্ষায় আমেরিকাকে অবশ্যই সফল হতে হবে এবং এর মাধ্যমে পথ খুলে যাবে। তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের নিজেদের টাকা, আমেরিকার টাকা নয়।

এদিকে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন যে, এই পর্যায়ে তহবিল ছাড় করা হলে তা শাসকগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট করে দিতে পারে। এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেছেন, যে কোনো চুক্তিকে অবশ্যই ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হতে হবে।

এছাড়া রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত পুনরায় শুরু করলে ইরান পারস্য উপসাগরের বাইরে যুদ্ধকে টেনে নিয়ে যাবে এবং সামরিক অভিযান হরমুজ প্রণালী থেকে ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালী, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত প্রসারিত করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছি, সেগুলোতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধকে একটি নতুন মাত্রা দেব।’

ট্রাম্পের সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বৈঠকের সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন রেজাই।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন নামে তিন সরকারি নথি: মিরপুরে মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ‘সবুজ ওরফে শাহাবুল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশেষ প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


তিন নামে তিন সরকারি নথি: মিরপুরে মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ‘সবুজ ওরফে শাহাবুল’

"বিশেষ প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া" ০৬ জুন, ২০২৬: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট—নাগরিক পরিচয়ের এই তিন প্রধান নথিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও তথ্য ব্যবহার করে কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক বিশাল মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ঠিকানা ও নামের এই চাতুর্যের আড়ালে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার এবং স্থানীয় নিরীহ মানুষকে হয়রানির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা এই ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন সনদ (নম্বর: ১৯৮৮৫০১৯৪৬৫০৬৪৯২২) অনুযায়ী তার নাম “মোঃ শাহাবুল আলী”, পিতার নাম “মোঃ সামাদ আলী” এবং মাতার নাম “মোছাঃ আছিয়া খাতুন”। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নাম রয়েছে “মোঃ সবুজ আলী” এবং আন্তর্জাতিক পাসপোর্টে ব্যবহার করা হয়েছে “MD SHABUL ALI”।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একই ব্যক্তির নথিতে “সবুজ আলী”, “শাবুল আলী” ও “শাহাবুল আলী” নামের এই ভিন্নতা কোনো সাধারণ ভুল নয়; বরং আইনি চোখ ফাঁকি দিতে এবং অপরাধের অতীত রেকর্ড লুকাতেই এই কৌশল নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
ইউরোপ কানেকশন ও মাদকের রুট
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং ইউরোপে এই ব্যক্তি "শাহাবুল আলী" নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তার পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হয় মিরপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে। ভুয়া ঠিকানা ও একাধিক নামের আড়ালে তিনি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও চোরাচালানের অবৈধ পণ্য এনে নিজ এলাকায় নিরাপদ আস্তানায় মজুত করেন। পরবর্তীতে তার স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে।
২০১৭ সালের জিডি ও হয়রানির শিকার গ্রামবাসী
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবুজ আলী ওরফে শাহাবুলের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় অনেক নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার সিন্ডিকেটের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে তার এই বেপারোয়া কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল, যার নম্বর ১১০/২০১৭। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমা হলেও, নথিপত্রের চাতুর্য এবং ভুয়া ঠিকানার কারণে বারবার তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের দাবি, সবুজ আলীর এই সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ ব্যাপকভাবে মাদকের নীল দংশনে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অনতিবিলম্বে তার এই সরকারি নথিপত্রের জালিয়াতি ও অসঙ্গতি খতিয়ে দেখে এবং ২০১৭ সালের জিডিসহ অন্যান্য মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।
এই বিষয়ে মিরপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মাদক ও চোরাচালানের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%