প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
"বিশেষ প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া" ০৬ জুন, ২০২৬: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট—নাগরিক পরিচয়ের এই তিন প্রধান নথিতে ভিন্ন ভিন্ন নাম ও তথ্য ব্যবহার করে কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক বিশাল মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ঠিকানা ও নামের এই চাতুর্যের আড়ালে সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার এবং স্থানীয় নিরীহ মানুষকে হয়রানির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা এই ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন সনদ (নম্বর: ১৯৮৮৫০১৯৪৬৫০৬৪৯২২) অনুযায়ী তার নাম “মোঃ শাহাবুল আলী”, পিতার নাম “মোঃ সামাদ আলী” এবং মাতার নাম “মোছাঃ আছিয়া খাতুন”। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নাম রয়েছে “মোঃ সবুজ আলী” এবং আন্তর্জাতিক পাসপোর্টে ব্যবহার করা হয়েছে “MD SHABUL ALI”।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একই ব্যক্তির নথিতে “সবুজ আলী”, “শাবুল আলী” ও “শাহাবুল আলী” নামের এই ভিন্নতা কোনো সাধারণ ভুল নয়; বরং আইনি চোখ ফাঁকি দিতে এবং অপরাধের অতীত রেকর্ড লুকাতেই এই কৌশল নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
ইউরোপ কানেকশন ও মাদকের রুট
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং ইউরোপে এই ব্যক্তি "শাহাবুল আলী" নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তার পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হয় মিরপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে। ভুয়া ঠিকানা ও একাধিক নামের আড়ালে তিনি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও চোরাচালানের অবৈধ পণ্য এনে নিজ এলাকায় নিরাপদ আস্তানায় মজুত করেন। পরবর্তীতে তার স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় কুষ্টিয়াসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে।
২০১৭ সালের জিডি ও হয়রানির শিকার গ্রামবাসী
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবুজ আলী ওরফে শাহাবুলের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় অনেক নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার সিন্ডিকেটের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না। তবে তার এই বেপারোয়া কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল, যার নম্বর ১১০/২০১৭। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমা হলেও, নথিপত্রের চাতুর্য এবং ভুয়া ঠিকানার কারণে বারবার তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের দাবি, সবুজ আলীর এই সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ ব্যাপকভাবে মাদকের নীল দংশনে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অনতিবিলম্বে তার এই সরকারি নথিপত্রের জালিয়াতি ও অসঙ্গতি খতিয়ে দেখে এবং ২০১৭ সালের জিডিসহ অন্যান্য মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।
এই বিষয়ে মিরপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মাদক ও চোরাচালানের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন