ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আজ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ


আজ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাজধানীর উত্তরায় জুলাই আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনের হত্যার ঘটনা। রাষ্ট্রপক্ষ আজ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে এবং সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই তারিখ নির্ধারণ করে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে, ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে ট্রাইব্যুনাল। এদের মধ্যে আটজন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন, বাকি ১৮ জন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের মধ্যে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন: আলমগীর হোসেনকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ বায়োজেনের

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় চলমান আন্দোলনের সময় গুলি চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ জুলাই মুগ্ধসহ নিহত হন জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, শাকিল হোসেন, সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকার। একই দিনে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে সাঁজোয়া যানবাহনের পেছনের চাকায় পিষ্ট করে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, ১৯ জুলাই গুলিতে নিহত হন রিদোয়ান শরীফ, ছাব্বির ইসলাম, আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানা।

অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একনেকে তিতাসে দুই কূপ খননের ৫৯২ কোটি টাকার প্রকল্প উপস্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ এম


একনেকে তিতাসে দুই কূপ খননের ৫৯২ কোটি টাকার প্রকল্প উপস্থাপন

সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন দুটি কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দেশের গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এই প্রকল্পের জন্য ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

‘তিতাস গ্যাসফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিজিএফসিএল। সরকারি অর্থায়ন হিসেবে ৪৫৪ কোটি টাকা এবং সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রত্যাশা করছেন, প্রথম বছরের মধ্যে একটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হবে। দেড় বছরের মধ্যে উভয় কূপ উৎপাদনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আবুল কাসেম খান জানিয়েছেন, কূপ দুটি থেকে দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাশাপাশি প্রায় ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাবে। উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

প্রকল্পের আর্থিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০ বছরের মধ্যে কূপ দুটি থেকে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য বিবেচনায় এর সম্ভাব্য দাম প্রায় ৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।

খননকাজে বিদেশি ঠিকাদার এবং দেশি-বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

জ্বালানিবিশেষজ্ঞ ম তামিমের মতে, নতুন কূপ খনন গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন, শুধুমাত্র দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার মোংলা সফরে, নতুন কনটেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ এম


প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার মোংলা সফরে, নতুন কনটেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দর সফরে যাচ্ছেন, যা তার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে এবং এর আওতায় বন্দরে নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের পণ্য ওঠানামা ও কনটেইনার পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

এর আগে, গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন পরিদর্শন করেছিলেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহম্মেদ মোস্তফা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন।

এরপর, বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

বন্দর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৪৭৫ কোটি টাকা, বাকি ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে চীন।

প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বিপজ্জনক পণ্য (ডেঞ্জারাস কার্গো) হ্যান্ডলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। নতুন কনটেইনার ইয়ার্ডে ৪৯টি যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ঘণ্টায় ৩০টির বেশি কনটেইনার খালাস করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে বছরে চার লাখ টিইইউ (২০ ফুট সমমানের কনটেইনার) হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জন করবে মোংলা বন্দর।

এদিকে, একই দিন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চীনের সঙ্গে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, তার মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেলওয়ের সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে আইসিডি থেকে পণ্য রেলপথে মোংলা বন্দরে আনা যাবে। পরে সেসব পণ্য বন্দরের জেটি দিয়ে জাহাজে পরিবহন করা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা বন্দরের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বাগেরহাটে যাবেন। সেখানে হযরত খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর খুলনায় গিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। কর্মসূচি শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও রেলভিত্তিক পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে মাঠে মৃত্যু খেলোয়াড়ের, তদন্ত শুরু করল পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে মাঠে মৃত্যু খেলোয়াড়ের, তদন্ত শুরু করল পুলিশ

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে ঘটিত ভয়াবহ সংঘর্ষের পর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তেনেরিফে ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগুয়েল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর স্প্যানিশ পুলিশ সম্ভাব্য অনিচ্ছাকৃত হত্যার (ইনভলান্টারি ম্যানস্লটার) অভিযোগে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। মাত্র ৩০ বছর বয়সে এই ফুটবলার না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

গত সোমবার রাতে ম্যাচের যোগ করা সময়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাঠের মাঝখানে একটি দীর্ঘ পাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন দে মিগুয়েল। ঠিক সেই সময় বিপদমুক্ত করতে নিজেদের ডি-বক্স ছেড়ে অনেক দূর মাঝমাঠে ছুটে আসেন এফসি অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনো। দুজনের মধ্যে সংঘর্ষে সরাসরি দে মিগুয়েলের বুকে আঘাত লাগে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড দেখেন অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক ওওনো।

মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে দে মিগুয়েল বুকে হাত দিয়ে কিছু সময় কুঁকড়ে ছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি পিঠের উপর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তার হাত দুটি নিস্তেজ হয়ে পাশে ঝুলে পড়ে। মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পরদিন মঙ্গলবার ক্লাবটির পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। ২-২ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ক্লাব তেনেরিফে এক শোকবার্তায় জানিয়েছে, "পুরো ক্লাব পরিবার এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।" ক্লাবের প্রধান শেয়ারহোল্ডার রায়কো গার্সিয়া জানান, পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী দে মিগুয়েলের মরদেহ তোলেদোর নাভাহেরমোসা শহরে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার সতীর্থ ও ক্লাব কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শেষ বিদায় জানাবেন। এছাড়া আগামী শনিবার ঘরের মাঠে ভক্ত-সমর্থকদের নিয়ে একটি বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করবে ক্লাবটি।

খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তেনেরিফে আগামী শনিবার গ্রানাডার বিপক্ষে তাদের লিগ ম্যাচটি স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। ক্লাবটির সভাপতি ফেলিপ মিনামব্রেস বলেন, "এই শোক কাটিয়ে উঠতে আমাদের খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারগুলোর পেশাদার মানসিক সহায়তা এবং ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থন প্রয়োজন হবে।"

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ জানিয়েছে যে, তারা তদন্ত শুরু করেছে। স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী, দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক নয় এমন যেকোনো মৃত্যুর ঘটনায় বিচারিক তদন্তের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সান্তা ক্রুজ দে তেনেরিফের প্রধান প্রসিকিউটর জোসে লুইস সানচেজ-জাউরেগি স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফই-কে জানিয়েছেন যে, যেহেতু সংঘর্ষটি খেলার সাধারণ গতিপ্রকৃতির মধ্যেই ঘটেছে, তাই এ ঘটনায় দেওয়ানি বা ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

ঘটনার পর অ্যান্ডোরা গোলরক্ষক ওওনোর প্রায় ৩০ হাজার ফলোয়ারের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। একই পদবি হওয়ায় অন্য এক ৬ষ্ঠ ডিভিশনের গোলরক্ষক মিশেল ওওনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, তাকে অ্যান্ডোরার সেই গোলরক্ষক ভেবে একদল উগ্র সমর্থক বর্ণবাদী ও আপত্তিকর আক্রমণের শিকার বানাচ্ছে।

মাদ্রিদে জন্ম নেওয়া দে মিগুয়েল ২০১৫ সালে লেগানেস বি দলের হয়ে সিনিয়র ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। স্পেনের বিভিন্ন নিম্নবোর্ডের ক্লাবে খেলার পর গত বছর তিনি তেনেরিফে ক্লাবে যোগ দেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা গেছে, দে মিগুয়েলের আগে থেকে বড় কোনো জটিল স্বাস্থ্যগত বা শারীরিক সমস্যা ছিল না। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সময় তিনি রেখে গেছেন তার স্ত্রী ও ছোট্ট কন্যাসন্তানকে।

ফুটবল বিশ্বের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। সাবেক বার্সা তারকা জেরার্ড পিকের মালিকানাধীন ক্লাব অ্যান্ডোরা, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) এবং লা লিগা কর্তৃপক্ষও এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। জেরার্ড পিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "আমি গভীর হৃদয়বিদারক ব্যথায় আচ্ছন্ন। শান্তিতে ঘুমাও, হেসুস।"

মঙ্গলবার ইউরোপজুড়ে অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচগুলোতেও দে মিগুয়েলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। স্পেনের মাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতে—বিশেষ করে বার্সেলোনা, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ এবং ভিয়ারিয়ালের ঘরের মাঠে ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের চিরাচরিত সংগীত বাজানো থেকে বিরত থাকে ক্লাবগুলো। ওল্ড ট্রাফোর্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য স্টেডিয়ামেও ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং বড় স্ক্রিনে প্রয়াত এই ফরোয়ার্ডের ছবি প্রদর্শন করা হয়।

রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা অনুশীলনের সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করে হেসুসকে স্মরণ করেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, "ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এই শোক সহ্য করার ক্ষমতা তার পরিবারকে যেন ঈশ্বর দেন।"

শোকের আবহ হিসেবে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবারের সব কোপা দেল রে ও কোপা দে লা রেইনা ম্যাচ স্থগিত করেছে। উয়েফাও ঘোষণা দিয়েছে যে, চলতি সপ্তাহে তাদের আয়োজিত প্রতিটি ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।

ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের এমন মারাত্মক সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে স্পেনে গত বছর পঞ্চম ডিভিশনের এক ম্যাচে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পেয়ে ১৯ বছর বয়সী এক গোলরক্ষক মারা গিয়েছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের পাতায় ২০০১ সালে ইউক্রেনীয় গোলরক্ষক সেরহি পেরখুন এবং ১৯৮৭ সালে মালাগার গোলরক্ষক হোসে আন্তোনিও গালার্দো ম্যাচের মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসাইন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসাইন। তিনি পৌরসভার মিঠাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ বাবু শেখের ছেলে।

কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসাইন বলেন, আমি ৮ নম্বর ওয়ার্ডেরই সন্তান। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সমস্যা ও নাগরিক অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেব।

তিনি আরও বলেন, আমি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেবার মানসিকতা নিয়েই কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করতে চাই। এ জন্য ওয়ার্ডবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%