১২:৪৭ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যদি নতুন কোনো হামলা হয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেওয়ার জন্য ইরান ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ’ পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তা হালনাগাদ করছে। তেহরান জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথিদের সামরিক সহায়তায় ইরান ও হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে দুটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হেনেছে। এর আগে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছিল, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় নৌমাইনে আঘাত লেগে তিনটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আগামী সপ্তাহে সম্মেলনে আলোচনা করবেন ইইউ নেতারা
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক মাস আগে সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইসরায়েলের বিরোধী দলের নেতারা নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে একে তাঁর ‘আরেকটি ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করেছে, ইরানের আইআরজিসি ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর ২১ জন বিশেষজ্ঞ হুথিদের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম হাইদান জানিয়েছেন, এসব বিশেষজ্ঞের মধ্যে আইআরজিসির ১৪ জন এবং হিজবুল্লাহর সাতজন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। হুথিরাও নিজেদের ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: বিজয় দাবি করে আবদুল আল-সাইয়েদ বললেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার গুরুত্ব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন