১২:৫৩ পি.এম
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজীকরণের পাশাপাশি মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১ বাস্তবায়নে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: আর্টিলারি রেজিমেন্টের অধিনায়ক সম্মেলনে অংশ নিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
তিনি জানান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবাধিকার ও মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। মানব পাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরও প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা চান।
আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা দিতে আইওএম আগ্রহী।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান, উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন