ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শুরু হলো সংসদের নতুন অধিবেশন


শুরু হলো সংসদের নতুন অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। রবিবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এটি শুরু হয়।

অধিবেশন শুরু হয় পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াতের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি খোলার অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি খোলার অপেক্ষা

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার নতুন এক সমঝোতার ফলে দুই দেশের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট কমানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানের পথও এই চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হতে পারে।

এক সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সমঝোতা স্মারক সামনে এসেছে। এ সময়, বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ ও পক্ষ দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালায়।

এর আগে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা গেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ধীরে ধীরে খুলবে হরমুজ প্রণালি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে ছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল এবং জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার বলেন, শুক্রবার চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সেখানে পেতে রাখা মাইন অপসারণ করা হবে এবং এরপর আবার এই পথ দিয়ে উভয় দিক থেকে তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারবে।

ইরান চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধবিরতির অতিরিক্ত ৬০ দিনের সময়সীমায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায় করবে না বলেও জানিয়েছে ইরান। ট্রাম্প আরো বলেন, গত এপ্রিল মাসে ইরানের বোনদরগুলোতে যাওয়া এবং সেখান থেকে বের হওয়ার জাহাজগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল, সেটি প্রত্যাহার করা হবে। চুক্তিতে উভয় পক্ষের সামরিক হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ হবে এবং একইভাবে ইরানের উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাও বন্ধ থাকবে। ইরান থেকে বের হওয়া জাহাজ আটকানোর কার্যক্রমও স্থগিত করা হবে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ মালিক এবং শিপিং কোম্পানিগুলোকে আবার এই পথে নিয়মিত চলাচলে আস্থা ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগবে। পাশাপাশি, জাহাজের বিমা খরচ কমতেও সময় লাগতে পারে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান আবারও ঘোষণা দেবে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন অস্ত্র সংগ্রহ করবে না। চুক্তি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৯ হাজার কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা চালাবে। এ বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। সূত্রটি আরো জানায়, অন্তত এতটুকু নিশ্চিত করা যায় যে ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ইরানের ভেতরেই সম্পন্ন হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। জানা গেছে, ইরানের মজুতকৃত ইউরেনিয়ামের বেশির ভাগই নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম এমন পর্যায়ে রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির উপযোগী মাত্রার খুব কাছাকাছি।

এছাড়া, চুক্তির অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতির বর্ধিত ৬০ দিনের সময়ে ইরানকে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রক্রিয়া একবারে হবে না। ধাপে ধাপে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে, এর মধ্যে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করার বিষয়টিও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা নির্ভর করবে পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয় কি না, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়াকে 'কাজের ভিত্তিতে অগ্রগতি' ধরনের ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পুরো পরিকল্পনাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ধীরে ধীরে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। তিনি বলেন, ইরান যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

চুক্তিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নয়, পুরো অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে আনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর চলমান সংঘর্ষও রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই উদ্যোগকে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান- সব পক্ষই সমর্থন করবে বলে তারা আশা করছেন। তার মতে, চুক্তিটি কার্যকর করা এবং দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, কোনো পক্ষই আত্মরক্ষার অধিকার ছেড়ে দেবে না। যদি ইরান চুক্তির শর্ত মেনে না চলে, তাহলে ইসরায়েল প্রতিক্রিয়া দেখাবে না- এমন আশা করার কোনো কারণ নেই।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয় এবং তারা এতে স্বাক্ষরও করছে না। যদিও এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক দফা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে রবিবার, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের নতুন হামলার ঘটনায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদ্য হওয়া এই সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই দেশে বসবাস, ভিসা জটে দেখা হচ্ছে না প্রিয়জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


দুই দেশে বসবাস, ভিসা জটে দেখা হচ্ছে না প্রিয়জনের

স্বামী একজন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, অন্যদিকে স্ত্রী দেশে রয়েছেন। কিংবা কখনো স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় এবং স্বামী দেশে।

মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে লাখো প্রবাসী পরিবারের জীবন এভাবেই কাটছে। অস্ট্রেলিয়ায় পার্টনার ভিসার দীর্ঘসূত্রতা এখন আর শুধু প্রশাসনিক সমস্যা হয়ে রইল না, এটি পরিণত হয়েছে হাজারো পরিবারের জীবনে একটি গভীর মানবিক সংকটে। ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা আবেদন আটকে রাখছে না, বরং অভিবাসনের সংখ্যা কম দেখানোর চেষ্টা করছে।

রবিবার (১৪ জুন) স্কাই নিউজের ‘সানডে এজেন্ডা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টনি বার্ক বলেন, পার্টনার ভিসা আবেদনে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত বিলম্বের ঘটনা পরিলক্ষিত হলেও এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবলসংকটের কারণে হচ্ছে, সরকারের কোনো ইচ্ছাকৃত নীতির কারণে নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা আটকে রাখা হচ্ছে না। প্রশাসনিক জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা এই বিলম্বের প্রধান কারণ।

সম্প্রতি স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পার্টনার ভিসার অপেক্ষমাণ আবেদন সম্ভাব্যভাবে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এর সাথে প্রায় ৬০ হাজার নতুন আবেদন যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আবেদনগুলোর স্তূপ প্রতিবছর বেড়েই চলেছে এবং দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার প্রহর।

এই পরিস্থিতির কারণে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন কমিয়ে দেখানোর জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণের গতি ধীর করছে। তবে সরকার এ অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাইগ্রেশন আইন ১৯৫৮ অনুযায়ী, পার্টনার ভিসা ‘ডিমান্ড-ড্রিভেন’ শ্রেণির ভিসা হিসেবে বিবেচিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের ভিসায় সাধারণ দক্ষ অভিবাসনের মতো নির্দিষ্ট কোটা আরোপের সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে আবেদনকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তির প্রত্যাশা থাকে।

সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ড. আবুল রিজভি বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন প্রক্রিয়া ধীর করা হয়েছে, তবে তা আইনি প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আদালত সরকারকে মাইগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেনি। সূত্র জানান, অস্ট্রেলিয়ায় পার্টনার ভিসার মধ্যে অনশোর সাবক্লাস ৮২০/৮০১ এবং অফশোর সাবক্লাস ৩০৯/১০০ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। আবেদনকারীরা সাধারণত প্রথমে অস্থায়ী ভিসা পান এবং নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক আবেদনকারীকে ১২ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হয়ে উঠছে। অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, এই ভিসার মাধ্যমে দেশটির নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং যোগ্য নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা তাদের জীবনসঙ্গীকে অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ পান। এইভাবেই বিশ্বের অন্য দেশের নাগরিকদের মতো বহু বাংলাদেশি পরিবার পুনর্মিলনের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হতে হতে বছরের পর বছর কাটছে।

দীর্ঘ এই অপেক্ষার মধ্যে দম্পতিদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, সম্পর্কে চাপ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেক পরিবারে সন্তানের পড়াশোনা, পারিবারিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ভিসার অপেক্ষায় থমকে আছে। একাধিক প্রবাসীর দাবি, দীর্ঘ ভিসা অপেক্ষা শুধু দম্পতিদের মধ্যে মানসিক চাপই বাড়াচ্ছে না, বরং সন্তানের পড়াশোনা, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তগুলোরও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করছে। তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে চাকরি, বিদেশে ভ্রমণ এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে অনেককে। ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সময়ের কারণে আবেদনকারী অনেকের পুলিশ ছাড়পত্র এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যবহার করে নতুন করে এসব নথি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে মানসিক যন্ত্রণাও দীর্ঘ হচ্ছে।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আবেদন বৃদ্ধির তুলনায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবল সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলস্বরূপ, পারিবারিক পুনর্মিলন সংক্রান্ত ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘসূত্রতা আরও প্রকট হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা জানান, পার্টনার ভিসা শুধুমাত্র একটি অভিবাসন প্রক্রিয়া নয়; এটি পরিবারের সদস্যদের এক ছাদের নিচে আনার স্বপ্ন এবং নতুন জীবন গড়ার প্রত্যাশা। তাদের দাবি, দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই স্বপ্ন আটকে থাকার ফলে হাজারো পরিবার অনিশ্চতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই ভিসাজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে নৌপথ খোলা রাখার আহ্বান, শান্তি চুক্তিকে স্বাগত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


হরমুজে নৌপথ খোলা রাখার আহ্বান, শান্তি চুক্তিকে স্বাগত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার অবসানের জন্য ঘোষিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি একটি বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মোদি এক্স-এর পোস্টে জানান, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এই যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্বে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।‘

তিনি আরও বলেন, ভারত আশা করে, এই চুক্তি শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনবে। সমুদ্রপথে চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা আসবে। মোদি আশা করেন যে, আগামী দিনে যাবতীয় সমস্যা মেটানো হবে।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরান যুদ্ধের ফলে অন্যান্য দেশের মতো ভারতও নানাভাবে বিপাকে পড়েছে।

হরমুজে ভারতমুখী জাহাজ চলাচলে সাময়িক অনুমতি মিললেও, দেশটিতে দেখা দিয়েছিল জ্বালানি সংকট। এই কারণে নির্বাচনের পর দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম।

সম্প্রতি ভারতীয় নাবিকদের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এই হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ফলে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতও যথেষ্ট ভুগেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে কোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে।

জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং যে কোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এই প্রস্তাবিত কাঠামোতে মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো এবং পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দও রাখা হয়েছে।

বর্তমানে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা রয়েছে। যদি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হয়, তবে বেতন ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় উন্নীত হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোর মধ্যে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও মূল বেতনে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

বেতন-ভাতায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য, প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার জন্য ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

এছাড়া, নতুন বেতন কাঠামোতে সব পর্যায়ে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডে বাড়ি ভাড়া ও মূল বেতনের সঙ্গে সব ভাতা যোগ করে দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

সুপারিশ অনুযায়ী, বেসিকের হাফ বেতনে ২০ গ্রেডে বর্তমানে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। ২য় গ্রেডের ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা হবে। ৩য় গ্রেডের ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা হবে। ৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বেড়ে হবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ৫ম গ্রেডের বেতনের পরিমাণ ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ টাকায়। ৬ষ্ঠ গ্রেডের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫৩ হাজার ২৫০ থেকে ১ লাখ ৫১৫ টাকা। ৭ম গ্রেডের ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ১১৫ টাকায় উন্নীত হবে। ৮ম গ্রেডের বেতন ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৮৩ হাজার ২০৫ টাকা। ৯ম গ্রেডের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেড়ে ৩৩ হাজার থেকে ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা হবে। ১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকায়। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর খবরও পাওয়া গেছে।

নতুন পে-স্কেলের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার বৃদ্ধির সুপারিশও আলোচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হতে পারে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। সন্তানের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর থাকতে পারে, ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, "সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে"। সে বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, বৃদ্ধির হার এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারি গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে, ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে। মাসিক ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।

নবম জাতীয় পে স্কেলে নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চ স্তরের কর্মকর্তারা কিছুটা কম সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভা শেষে দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%