ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই দেশে বসবাস, ভিসা জটে দেখা হচ্ছে না প্রিয়জনের


দুই দেশে বসবাস, ভিসা জটে দেখা হচ্ছে না প্রিয়জনের

স্বামী একজন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন, অন্যদিকে স্ত্রী দেশে রয়েছেন। কিংবা কখনো স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় এবং স্বামী দেশে।

মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে লাখো প্রবাসী পরিবারের জীবন এভাবেই কাটছে। অস্ট্রেলিয়ায় পার্টনার ভিসার দীর্ঘসূত্রতা এখন আর শুধু প্রশাসনিক সমস্যা হয়ে রইল না, এটি পরিণত হয়েছে হাজারো পরিবারের জীবনে একটি গভীর মানবিক সংকটে। ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা আবেদন আটকে রাখছে না, বরং অভিবাসনের সংখ্যা কম দেখানোর চেষ্টা করছে।

রবিবার (১৪ জুন) স্কাই নিউজের ‘সানডে এজেন্ডা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টনি বার্ক বলেন, পার্টনার ভিসা আবেদনে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত বিলম্বের ঘটনা পরিলক্ষিত হলেও এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবলসংকটের কারণে হচ্ছে, সরকারের কোনো ইচ্ছাকৃত নীতির কারণে নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ভিসা আটকে রাখা হচ্ছে না। প্রশাসনিক জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা এই বিলম্বের প্রধান কারণ।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

সম্প্রতি স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পার্টনার ভিসার অপেক্ষমাণ আবেদন সম্ভাব্যভাবে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এর সাথে প্রায় ৬০ হাজার নতুন আবেদন যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আবেদনগুলোর স্তূপ প্রতিবছর বেড়েই চলেছে এবং দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষার প্রহর।

এই পরিস্থিতির কারণে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন কমিয়ে দেখানোর জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণের গতি ধীর করছে। তবে সরকার এ অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাইগ্রেশন আইন ১৯৫৮ অনুযায়ী, পার্টনার ভিসা ‘ডিমান্ড-ড্রিভেন’ শ্রেণির ভিসা হিসেবে বিবেচিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের ভিসায় সাধারণ দক্ষ অভিবাসনের মতো নির্দিষ্ট কোটা আরোপের সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে আবেদনকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তির প্রত্যাশা থাকে।

সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ড. আবুল রিজভি বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন প্রক্রিয়া ধীর করা হয়েছে, তবে তা আইনি প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আদালত সরকারকে মাইগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেনি। সূত্র জানান, অস্ট্রেলিয়ায় পার্টনার ভিসার মধ্যে অনশোর সাবক্লাস ৮২০/৮০১ এবং অফশোর সাবক্লাস ৩০৯/১০০ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। আবেদনকারীরা সাধারণত প্রথমে অস্থায়ী ভিসা পান এবং নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক আবেদনকারীকে ১২ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হয়ে উঠছে। অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, এই ভিসার মাধ্যমে দেশটির নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং যোগ্য নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা তাদের জীবনসঙ্গীকে অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ পান। এইভাবেই বিশ্বের অন্য দেশের নাগরিকদের মতো বহু বাংলাদেশি পরিবার পুনর্মিলনের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হতে হতে বছরের পর বছর কাটছে।

দীর্ঘ এই অপেক্ষার মধ্যে দম্পতিদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, সম্পর্কে চাপ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেক পরিবারে সন্তানের পড়াশোনা, পারিবারিক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত ভিসার অপেক্ষায় থমকে আছে। একাধিক প্রবাসীর দাবি, দীর্ঘ ভিসা অপেক্ষা শুধু দম্পতিদের মধ্যে মানসিক চাপই বাড়াচ্ছে না, বরং সন্তানের পড়াশোনা, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তগুলোরও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করছে। তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে চাকরি, বিদেশে ভ্রমণ এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে অনেককে। ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সময়ের কারণে আবেদনকারী অনেকের পুলিশ ছাড়পত্র এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যবহার করে নতুন করে এসব নথি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে মানসিক যন্ত্রণাও দীর্ঘ হচ্ছে।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আবেদন বৃদ্ধির তুলনায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জনবল সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলস্বরূপ, পারিবারিক পুনর্মিলন সংক্রান্ত ভিসা প্রক্রিয়াকরণে দীর্ঘসূত্রতা আরও প্রকট হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতারা জানান, পার্টনার ভিসা শুধুমাত্র একটি অভিবাসন প্রক্রিয়া নয়; এটি পরিবারের সদস্যদের এক ছাদের নিচে আনার স্বপ্ন এবং নতুন জীবন গড়ার প্রত্যাশা। তাদের দাবি, দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই স্বপ্ন আটকে থাকার ফলে হাজারো পরিবার অনিশ্চতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই ভিসাজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জামায়াতের মহিলা বিভাগের প্রতিবাদ: নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে নৌপথ খোলা রাখার আহ্বান, শান্তি চুক্তিকে স্বাগত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


হরমুজে নৌপথ খোলা রাখার আহ্বান, শান্তি চুক্তিকে স্বাগত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থার অবসানের জন্য ঘোষিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি একটি বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মোদি এক্স-এর পোস্টে জানান, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে ইরান ও আমেরিকা। আমি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এই যুদ্ধের কারণে গোটা বিশ্বে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে, মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।‘

তিনি আরও বলেন, ভারত আশা করে, এই চুক্তি শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনবে। সমুদ্রপথে চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা আসবে। মোদি আশা করেন যে, আগামী দিনে যাবতীয় সমস্যা মেটানো হবে।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ইরান যুদ্ধের ফলে অন্যান্য দেশের মতো ভারতও নানাভাবে বিপাকে পড়েছে।

হরমুজে ভারতমুখী জাহাজ চলাচলে সাময়িক অনুমতি মিললেও, দেশটিতে দেখা দিয়েছিল জ্বালানি সংকট। এই কারণে নির্বাচনের পর দফায় দফায় বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের দাম।

সম্প্রতি ভারতীয় নাবিকদের জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এই হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। ফলে যুদ্ধের প্রভাবে ভারতও যথেষ্ট ভুগেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে কোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে।

জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং যে কোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এই প্রস্তাবিত কাঠামোতে মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো এবং পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দও রাখা হয়েছে।

বর্তমানে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা রয়েছে। যদি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হয়, তবে বেতন ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় উন্নীত হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোর মধ্যে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও মূল বেতনে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

বেতন-ভাতায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য, প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার জন্য ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

এছাড়া, নতুন বেতন কাঠামোতে সব পর্যায়ে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডে বাড়ি ভাড়া ও মূল বেতনের সঙ্গে সব ভাতা যোগ করে দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।

সুপারিশ অনুযায়ী, বেসিকের হাফ বেতনে ২০ গ্রেডে বর্তমানে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। ২য় গ্রেডের ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা হবে। ৩য় গ্রেডের ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা হবে। ৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বেড়ে হবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ৫ম গ্রেডের বেতনের পরিমাণ ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ টাকায়। ৬ষ্ঠ গ্রেডের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫৩ হাজার ২৫০ থেকে ১ লাখ ৫১৫ টাকা। ৭ম গ্রেডের ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ১১৫ টাকায় উন্নীত হবে। ৮ম গ্রেডের বেতন ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৮৩ হাজার ২০৫ টাকা। ৯ম গ্রেডের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেড়ে ৩৩ হাজার থেকে ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা হবে। ১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকায়। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর খবরও পাওয়া গেছে।

নতুন পে-স্কেলের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার বৃদ্ধির সুপারিশও আলোচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হতে পারে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। সন্তানের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর থাকতে পারে, ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, "সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে"। সে বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, বৃদ্ধির হার এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারি গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে, ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে। মাসিক ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।

নবম জাতীয় পে স্কেলে নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চ স্তরের কর্মকর্তারা কিছুটা কম সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভা শেষে দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঐতিহ্যবাহী রীতি মেনে মোদিকে স্বাগত জানাল স্লোভাকিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ঐতিহ্যবাহী রীতি মেনে মোদিকে স্বাগত জানাল স্লোভাকিয়া

 

ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্লোভাকিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

একই সঙ্গে তিনি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনাও উপভোগ করেন। মোদি এসব রীতির সংস্কৃতি ও ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং একে অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে প্রশংসা করেন। তবে পুরো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রুটি ও লবণ দিয়ে মোদিকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি।

কালের কণ্ঠ জেনেছে, স্লাভিক সংস্কৃতিতে অতিথিকে রুটি ও লবণ দেওয়া একটি প্রাচীন ঐতিহ্য।

সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সম্মানিত অতিথি এবং নবদম্পতিকে স্বাগত জানাতে এই খাবার পরিবেশন করা হয়।

এই রীতি আতিথেয়তা, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। পাশাপাশি এটি আয়োজক ও অতিথির মধ্যে বিশ্বাস ও ভালো সম্পর্কের বন্ধন বোঝায়।

এই রীতিতে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় আয়োজকের পক্ষ থেকে।

ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা তরুণীরা একটি বড় গোল রুটি পরিবেশন করেন। রুটিটি রাখা থাকে ‘রুশনিক’ নামে ঐতিহ্যবাহী সূচিকর্মের নকশা করা একটি কাপড়ের ওপর। মূলত সুতি বা লিনেনের কাপড়ের ওপর এই নকশা করা হয়।

রুটির পাশে ছোট একটি পাত্রে লবণ রাখা হয়। আবার কখনো রুটির ওপরেই লবণের ছোট বাটিটি বসানো থাকে।

অতিথি রুটি থেকে একটি টুকরো ছিঁড়ে তাতে লবণ লাগিয়ে খান। এটি আয়োজকের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক।

বিয়ের পরও নবদম্পতিকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বর-কনে রুটি ছিঁড়ে লবণ দিয়ে একে অপরকে খাওয়ান। এটি তাদের ভালোবাসা ও নতুন সম্পর্কের প্রতীক। আবার নতুন বাড়িতে ওঠার সময় বা কোনো বিশেষ সম্মানিত অতিথিকে স্বাগত জানাতেও রুটি ও লবণ নিয়ে যাওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে দেশটিতে।

স্লাভিক ভাষায় ‘খ্লেবোসোলস্তভো’ (রুটি-লবণ) শব্দটি আজও ব্যবহৃত হয়। এটি অতিথিদের প্রতি আন্তরিক আতিথেয়তা, উদারতা ও সৌহার্দ্য প্রকাশ করতে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় শব্দ এটি।

স্লাভিক সংস্কৃতিতে রুটিকে পবিত্র খাবার ও জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রুটি পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি এবং কখনো খাবারের অভাব না হওয়ার শুভকামনার প্রতীক।

অন্যদিকে, অতীতে লবণ ছিল খুবই মূল্যবান ও দামি একটি পণ্য। তাই লবণ বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা এবং সম্পর্কের স্থায়িত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, লবণ অশুভ শক্তি, কুদৃষ্টি ও অকল্যাণ দূরে রাখতেও সাহায্য করে।

এদিকে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছানোর পর এক্সে এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘ব্রাতিস্লাভায় আমাকে রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে। এটি স্লোভাকিয়ার সংস্কৃতি এবং তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের সুন্দর পরিচয়।’

এক্সে দেওয়া আরেকটি পোস্টে মোদি স্লোভাকিয়ার মিয়াভা অঞ্চলের লোকনৃত্য দল ‘কোপানিচিয়ারিক’-এর পরিবেশনার কিছু অংশ শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের লোকজ ঐতিহ্য একটি দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।’

তিনি আরো বলেন, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়া সফরে এসে সেখানকার ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ। তার মতে, এ ধরনের আন্তরিকতা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে এবং ভারত-স্লোভাকিয়া বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার সন্ধ্যায় তিন দিনের সফরে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছান। রবার্ট ফিকোর আমন্ত্রণে তিনি এই সফর করছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার। ১৯৯৩ সালে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর থেকে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর।

সফরকালে মোদি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অটোমোবাইল শিল্প, রেলওয়ে উন্নয়নসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পাবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে এবং সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বস্তি এলাকায় আধুনিক বাসস্থান নির্মাণে ডিএনসিসির কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


বস্তি এলাকায় আধুনিক বাসস্থান নির্মাণে ডিএনসিসির কমিটি গঠন

রাজধানীর কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক বস্তির এলাকায় আধুনিক বাসস্থান নির্মাণের উদ্দেশ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৪টি পৃথক কমিটির গঠন করেছে।

সোমবার (১৫ জুন) ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সংস্থার সচিব মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান একটি অফিস আদেশ জারি করে এই চারটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান জানিয়েছেন, এই কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকল্প সমন্বয়, মনিটরিং ও পরামর্শক টিম, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ইউনিট, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে কারিগরি বিনির্দেশ ও প্রাক্কলন কমিটি এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি।

এছাড়া, এর আগে রাজধানীর তিনটি বড় বস্তি সাততলা, কড়াইল ও ভাষানটেকের বাসিন্দাদের জন্য বহুতল ভবন, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা ও হাসপাতাল নির্মাণের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছিল ডিএনসিসি। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে বস্তিবাসীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে, যাতে প্রকৃত ব্যক্তিরা সুবিধা পেতে পারেন।

এদিকে, কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি এলাকায় আধুনিক ‘স্যাটেলাইট টাইপের সিটি’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

জাপানের ‘স্লাম ডেভেলপমেন্ট’ (বস্তি উন্নয়ন) মডেল এবং বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা অনুসরণ করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%