প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যে কোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে জানা গেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে পারে।
জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং যে কোনো সময় এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এই প্রস্তাবিত কাঠামোতে মূল বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো এবং পেনশন সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দও রাখা হয়েছে।
বর্তমানে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা রয়েছে। যদি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হয়, তবে বেতন ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় উন্নীত হবে। প্রস্তাবিত কাঠামোর মধ্যে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও মূল বেতনে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় আছে।
বেতন-ভাতায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য, প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার জন্য ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটে বেড়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
এছাড়া, নতুন বেতন কাঠামোতে সব পর্যায়ে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণ মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডে বাড়ি ভাড়া ও মূল বেতনের সঙ্গে সব ভাতা যোগ করে দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।
সুপারিশ অনুযায়ী, বেসিকের হাফ বেতনে ২০ গ্রেডে বর্তমানে ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে দাঁড়াবে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায়। ২য় গ্রেডের ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা বেড়ে ৯৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৫ টাকা হবে। ৩য় গ্রেডের ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ হাজার ৭৫০ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা হবে। ৪র্থ গ্রেডের বেতন ৫০ হাজার থেকে ৭১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বেড়ে হবে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ৫ম গ্রেডের বেতনের পরিমাণ ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৪ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৫ টাকায়। ৬ষ্ঠ গ্রেডের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫৩ হাজার ২৫০ থেকে ১ লাখ ৫১৫ টাকা। ৭ম গ্রেডের ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা বেড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ১১৫ টাকায় উন্নীত হবে। ৮ম গ্রেডের বেতন ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৮৩ হাজার ২০৫ টাকা। ৯ম গ্রেডের ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেড়ে ৩৩ হাজার থেকে ৭৯ হাজার ৫৯০ টাকা হবে। ১০ম গ্রেডের ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ২৪ হাজার থেকে ৫৭ হাজার ৯৬০ টাকায়। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মীদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ানোর খবরও পাওয়া গেছে।
নতুন পে-স্কেলের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার বৃদ্ধির সুপারিশও আলোচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হতে পারে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। সন্তানের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্যও সুখবর থাকতে পারে, ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, "সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে"। সে বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, বৃদ্ধির হার এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারি গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ এসেছে। মাসিক ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।
নবম জাতীয় পে স্কেলে নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উচ্চ স্তরের কর্মকর্তারা কিছুটা কম সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির সভা শেষে দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন