০৫:১১ পি.এম
আসামিদের আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হয়।
বগুড়ায় আট বছর বয়সী শিশু রিফাত হোসেনকে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই ঘটনায় অপরাধ সংঘটনের সময় যারা নাবালক ছিল, তাদের মধ্যে আরও পাঁচজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস এলাকার আবুল কালাম আজাদ, সাগর, সেলিম ইসলাম, মেহেদী হাসান ও রাজু ইসলাম (পাঁচফুল) নামে পরিচিত। তাদের মধ্যে সাগর ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক রয়েছেন।
অপরদিকে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। এই পাঁচজনও খাদাস গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার বাসিন্দা।
নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার এনামুল হকের প্রিয় সন্তান। আসামিরা সবাই নিহতের পরিবারের প্রতিবেশী ও পরিচিত ছিলেন। ঘটনার দিন, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই রিফাতকে হত্যা করা হয় এবং তার মরদেহ গুম করা হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর ১৮ জুলাই শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন রিফাতের বাবা এনামুল হক।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক প্রবাস থেকে দেশে ফিরলে প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতে থাকেন। ঘটনার দিনও তিনি এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা ধার চান। তবে এনামুল সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর পর পরই ওই দিন বিকেল থেকে রিফাত নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে রিফাতের খোঁজখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে থানায় জিডি করেন। তিন দিন পর স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের স্বামীর মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের একটি সেতুর নিচে একটি শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে এনামুল হক তার ছেলে রিফাতের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে তিনি শাজাহানপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা
আদালত সূত্র আরও জানায়, এই মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তবে আসামি মাসুদ রানা মারা যাওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে অভিযুক্তরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি মো. আলী আসগর। তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৮ ধারার পাশাপাশি হত্যা এবং মরদেহ গুমের অভিযোগও বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের সময় যারা বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল, তাদের পাঁচজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যদিও বর্তমানে তাদের বয়স প্রায় ২৬ বছর হয়েছে। অপরদিকে, অপরাধের সময় যারা প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন