বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:০৪ এম
বিদেশের মাটিতে জয়ের স্বাদ পাকিস্তান ভুলতে বসেছিল। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে শেষবার ঘরের বাইরে ম্যাচ জিতেছিল দলটি, এরপর থেকে যখনই ঘরের বাইরে পা রেখেছে, তখনই তারা হারতে হয়েছে।
অবশেষে সেই সময়কে পিছনে ফেলে দিল বাবর আজমের দল। ত্রিনিদাদের কুইন্স পার্ক ওভালে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আট উইকেটে হারিয়েছে তারা। ফলে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো।
প্রথম টেস্টে পাকিস্তান নব্বই রানে হেরেছিল। যদি এ ম্যাচটি হারত তবে তাদের হোয়াইটওয়াশ হয়ে যাওয়া সহজ ছিল। কিন্তু এই সমীকরণের সামনে এবার তারা দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১১৭ রানে অলআউট হয়। এতে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র পঁচাত্তর রান।
মামুলি এই লক্ষ্যে নামার পর শুরুতে দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক এবং আজান আওয়াইসকে হারায় পাকিস্তান। তবে এরপর আবদুল্লাহ শফিক এবং অধিনায়ক বাবর আজম দলের পক্ষে জয় নিশ্চিত করেন। বাবর স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানকে টানা দুটি ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন।
এই জয় আবদুল্লাহ শফিকের জন্য বিশেষ কিছু। মূল দলে তিনি ছিলেন না। চোটের কারণে শান মাসুদের বদলে গত সপ্তাহে দলে যোগ দেন। প্রথম ইনিংসে তার অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংসে পাকিস্তান ৩৮৭ রান করে।
পাকিস্তানের এই জয়ের নায়ক অবশ্য অন্য একজন। সাজিদ খান দুই ইনিংসে মোট ৪টি করে উইকেট নিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আলী উসমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি উইন্ডিজের ব্যাটিংকে ধসিয়ে দেন। তাদের এই পারফরমেন্স পাকিস্তানের সিরিজ ড্র করার পথ তৈরি করে।
এই জয়ের ফলে পাকিস্তান দীর্ঘদিনের খরা কাটালো। ত্রিনিদাদের এই মাঠে পাকিস্তান তাদের শেষ ম্যাচটি জিতেছিল ১৯৭৭ সালে। এরপর গত ৫৯ বছরে এই মাঠে ২ ম্যাচ খেললেও তারা জয় পায়নি। তাই ২০২৬ সালে এসে বাবর আজমের দল ওই খরা কাটাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মায়োর্কার গেল মৌসুমটি মোটেও ভালো কাটেনি। লা লিগার তলানির তিন দলের একটি হয়ে নেমে গেছে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবলে। কিন্তু সেই মায়োর্কা আজ টানা দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজিকে উড়িয়ে দিয়েছে। বুধবার রাতে দলটি ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের।
যদিও এটি একটি প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচ, তবে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়া দলের তুলনা কি করা যায়? হয়তো না, কিন্তু বুধবার মায়োর্কা জানিয়ে দিল উল্টোটা।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পিএসজির আধিপত্য ছিল। তবে কাজের সময়ে এসে পিএসজি তাদের সেই আধিপত্য ধরে রাখতে পারেনি। বরং মায়োর্কা ফাঁকে ফাঁকে সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে একটির পর একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
নিজেদের মাঠ সন মইশ স্টেডিয়ামে মায়োর্কা প্রথম গোলটি করে ২১ মিনিটে। এই গোলটি করেন জিতো লুভুম্বো। এরপর ৪০ মিনিটে ইয়ান ভির্জিলি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বিরতির পর ৫১ মিনিটে অধিনায়ক আন্তোনিও রাইয়ো হেড দিয়ে তৃতীয় গোলটি করেন।
পিএসজির বল দখল ছিল অনেক বেশি। কিন্তু তারা কোনো বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে, মায়োর্কা মোট চারটি বড় সুযোগ তৈরি করে। তাদের মধ্যে ৩টি গোলে পরিণত হয়। এতে করে প্রাক মৌসুমে এমন বড় অঘটন ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফার ব্যর্থ বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার কারণে পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার লুইস ফিগো ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি করেছেন। এই কিংবদন্তি, যিনি রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো দুই জনপ্রিয় দলের হয়ে খেলার সাফল্য অর্জন করেছেন, এমন দাবিটি করেন যখন ওয়েলস ও ইংল্যান্ড ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে ফিগো ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ফিফার সভাপতির পদ থেকে ইনফান্তিনোর সরে দাঁড়ানো উচিত।
ফিগো বলেন, ‘আজ আমি ফুটবল জগতের অনেকের সঙ্গে একমত হয়ে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ফিফা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ দাবি করছি। যে পদটিকে মর্যাদার আসনে বসানোর জন্য তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটিই তিনি কলঙ্কিত করেছেন। তিনি মিথ্যা বলেছেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং ফুটবলের স্বার্থের বদলে নিজের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের, ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের এবং এই খেলার জন্য জীবন উৎসর্গ করা অধিকাংশ মানুষের সমর্থন হারিয়েছেন। এমনকি মনে হচ্ছে ফিফা পিস প্রাইজ বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও তার আর নেই।’
ফিফা ও ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ছিল একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা, যা ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলো, বিশেষ করে বিশ্বকাপ পরিচালনা করবে। পরে বাইরের বিনিয়োগকারীরা সেই প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্ব কিনতে পারবে। ইউরোপ, এএফসি, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিল। উয়েফা ও কনকাকাফ উভয়ই এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে বিবৃতি দেয়।
এরপর ফিফা এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসলেও উয়েফা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেয়। সংস্থাটি এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারার পর বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় একদল যুবকের হামলার ফলস্বরূপ একটি প্রবাসী ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার প্রচার হয় বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মান্দারী এলাকায়।
নিহত ব্যক্তির নাম হচ্ছে শাহজাহান পাটোয়ারী।
নিহতের পরিবারের সদস্য আমেনা বেগম জানিয়েছেন, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদের অনুসারী একদল যুবক মাদকবিরোধী অভিযানে যুক্ত হয়েছিল।
এই সময়, তাঁদের সঙ্গে সদ্য প্রবাস থেকে ফিরা শাহজাহান পাটোয়ারী (৫০)'র মধ্যে কথাকাটাকাটি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি যুবকদের কাছে হামলার শিকার হন।
হামলা সংঘটিত হলে তাঁর গুরুতর আঘাত লাগার কারণে তাঁকে দ্রুত চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহজাহান পাটোয়ারীকে মৃত ঘোষণা করেন।
আমেনা বেগমের দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতা স্বপন মাহমুদের লোকজন এই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। সেজন্য তিনি হত্যার বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, স্বপন মাহমুদ দাবি করেছেন যে, ওই সময় তিনি এলাকার বাইরে ছিলেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সড়ক থেকে জনগণকে সরিয়ে দেয়।
ঘটনা সম্পর্কে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ জানিয়ে দিয়েছেন, হামলা এবং মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানার পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কামিল মিশারা ১০৮ রান করার সাফল্য পেয়েছেন বটে। তবে তাওহীদ হৃদয়ের ৫৪ রানের ইনিংসটির গুরুত্ব এ ক্ষেত্রে কম নয়। তার ২১ বলের ওই ইনিংসে ভর করেই জাফনা কিংস ২ উইকেটে ২৪২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। লক্ষ্য তাড়াতে গল গ্যালান্টস ২৩০ রান করতে সক্ষম হয়েছিল। অবশেষে ১২ রানে জিতে জাফনা ফাইনালে উঠে যায়।
৮ আগস্টের ফাইনালে জাফনা গল ও কলম্বো ক্যাপসের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে যে দলের জয় হবে তাকেই দেখা যাবে। ক্যাপস দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ওঠে এলিমিনেটরে ক্যান্ডি রয়্যালসকে হারিয়ে।
প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের প্রথম কোয়ালিফায়ারে খাজা নাফে মাত্র ৩২ বলে ৫৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। হৃদয় যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন ১৬ ওভারে জাফনার রান ছিল ১৭৮। দুই বল পরেই সেঞ্চুরি তুলে নেন মিশারা। এরপর ঝড়টা তুলেন হৃদয়।
ছক্কার পসরা সাজিয়ে বসা হৃদয় দাসুন শানাকার করা ২০তম ওভারে ২২ রান তুলেন। ইনিংসে তিনি মোট ৫টি ছক্কা মারেন এবং ৩টি চারও মারেন। ৫৫ বলে মিশারা ৭টি ছক্কা মারেন এবং ১০টি চার হিট করেন। তার ওপেনিং সঙ্গী আভিস্কা ফার্নান্দো ১৯ রান করেন।
এরপর গলকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই আটকে রাখায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন মোহামেদ শিরাজ ও লিজাড উইলিয়ামস। ৩৪ রানে শিরাজ ৩ উইকেট আউট করেন এবং ৩৯ রানে উইলিয়ামস ২ উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পাওয়া সাকিব আল হাসান ৩ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে চামিকা করুনারত্নের উইকেটটি নেন। গলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন স্যাম হারপার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ