ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাগাল্যান্ডে ৩,৫০০ বছরের ইতিহাসের বিস্ময়কর নিদর্শন গুহার অন্ধকারে লুকিয়ে


নাগাল্যান্ডে ৩,৫০০ বছরের ইতিহাসের বিস্ময়কর নিদর্শন গুহার অন্ধকারে লুকিয়ে

ভারতের নাগাল্যান্ডের নকলাক (Noklak) জেলার নাগা হিলস ওফিওলাইট বেল্ট অঞ্চলে পরিচালিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রায় ৩,৫০০ বছর আগের মানব বসতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। গুহা এবং পাথরের আশ্রয়স্থলে (রকশেল্টার) উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নিদর্শন উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাসের সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই সময়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চলতি বছরের মার্চ মাসে নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং নাগাল্যান্ড সরকারের শিল্প ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই অনুসন্ধানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তিয়াতোশি জামির। তাঁর সঙ্গে গবেষক ড. হেমে লামথাইউ, ড. লিমাসানেন লঙ্গকুমের, খুমেং টি, রবিনসন হুইদ্রোম এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভিক্টোরিয়া লেইরি ছিলেন।

গবেষক দল নকলাক জেলার চিফুর (Chiphur) গ্রামের চুনাপাথরের পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে পাঁচটি গুহা এবং চারটি রকশেল্টারের সন্ধান পান। পরে খননকার্যের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয় দড়ির ছাপযুক্ত প্রাচীন মাটির পাত্র, পাথরের তৈরি হাতিয়ার, আগুন জ্বালানোর চুল্লির অবশিষ্টাংশ এবং পোড়া শস্যের নমুনা।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন

উদ্ধার হওয়া শস্যের মধ্যে ফক্সটেল মিলেট (Foxtail Millet) এবং জবস টিয়ার্স (Job's Tears)-এর কার্বনাইজড নমুনাও অন্তর্ভুক্ত। গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন থেকে বোঝা যায়, সে সময়ের মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে সঙ্গে শিকারও করতেন।

নমুনাগুলোর বয়স নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অবস্থিত বেটা অ্যানালিটিক ল্যাবরেটরিতে অ্যাক্সিলারেটর মাস স্পেকট্রোমেট্রি (AMS) প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা যায়, লেইলো কা (Leilo Kaa) রকশেল্টারের বয়স প্রায় ৩,৫০০ বছর এবং কাথসো কা (Kathso Kaa) গুহার বয়স প্রায় ১,০০০ বছর।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি শুধুমাত্র নাগাল্যান্ড নয়, পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন মানব বসতি, কৃষি, মৃৎশিল্প, প্রাচীন প্রযুক্তি এবং তৎকালীন জীবনযাত্রার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য প্রদান করবে।

উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলো নাগাল্যান্ড স্টেট মিউজিয়াম এবং নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে চলতি বছরের অক্টোবরে একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই প্রদর্শনী ভারতের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করবে।

আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তানোরকে বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়া, বাল্য বিয়ে ও শিশুশ্রম মুক্ত হিসেবে ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ এম


তানোরকে বিদ্যালয় থেকে ঝড়ে পড়া, বাল্য বিয়ে ও শিশুশ্রম মুক্ত হিসেবে ঘোষণা

 

আমার উপজেলা আমার দায়িত্ব, শিশুর জীবন হোক বাল্য বিবাহ, শিশু শ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া মুক্ত' এই প্রতিপাদ্যকে মাথায় রেখে তানোর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু মুক্ত ও বাল্য বিবাহ এবং শিশু শ্রম মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টায় তানোর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তানোর এরিয়া প্রোগ্রাম অফিসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তানোর এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার এন্ড্রিকাসের সান্তালনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পড়ান তানোর উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার হাবিবা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশন চন্দন জেড গোমেজ, তানোর থানার তদন্ত ওসি ইন্সপেক্টর মোয়াজ্জেম হোসেন, তানোর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার শহিদুল ইসলাম, তানোর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলেয়া ফেরদৌসি, পাঁচন্দর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ডেপুটি ডিরেক্টর ফিল্ড অপারেশন রাজু উইলিয়াম রোজারিও।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান শফি কামাল মিন্টু, চান্দুড়িয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মেজর, তানোর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডিএম আক্কাস আলী, তানোর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমি সুপার ভাইজার সায়মা আঞ্জুমান, স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত কৃষিবিদ নুর মোহাম্মদ, তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তানোর এরিয়া অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, উপকার ভোগী সদস্য, শিক্ষার্থী, তানোর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সুধীজন ও স্থানীয় সাংবাদিকরা সকলেই উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তানোর এরিয়া প্রোগ্রাম অফিসের উদ্যোগে গত বছরের ১৮ই ডিসেম্বর থেকে তানোর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় বাল্য বিবাহ ও শিশু শ্রম মুক্ত এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু মুক্ত বিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। শিশু শ্রমে নিয়োজিত পরিবারগুলোকে আয় বৃদ্ধি বিষয়ক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু মুক্ত, বাল্য বিবাহ ও শিশু শ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আনুষ্ঠানিকভাবে তানোর উপজেলাকে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, বাল্য বিবাহ ও শিশু শ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘গোল্ডেন বল’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, আলোচনায় মেসি-রদ্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৫ এম


‘গোল্ডেন বল’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, আলোচনায় মেসি-রদ্রি

 

২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি জিতেছেন। তবে পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে তুমুল। কারণ, পুরো টুর্নামেন্টে রদ্রি একটি গোলও করেননি এবং কোনো অ্যাসিস্টও নেই। অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য সহায়তা করেছিলেন। ফলে অনেক সাবেক ফুটবলার, বিশ্লেষক ও সমর্থক মনে করছেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে গোল্ডেন বলের সবচেয়ে বড় দাবিদার মেসিই।

পরিসংখ্যানও এই দাবিকে দৃঢ় করছে। গোল (৮) এবং অ্যাসিস্টে (৪) মেসি ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। গোল তৈরির ক্ষেত্রেও মেসি শীর্ষস্থানীয়দের একজন ছিলেন। আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার সরাসরি অবদান ছিল। সেমিফাইনাল পর্যন্ত মেসি নিয়মিত ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন এবং দলের ফাইনালে উত্তরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন।

বিশ্বকাপের পরে বিভিন্ন টেলিভিশন বিশ্লেষণেও সাবেক কিছু তারকা মেসির পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, গোল্ডেন বলের মতো পুরস্কারে শুধুমাত্র দলগত সাফল্য নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টে একজন খেলোয়াড়ের আক্রমণাত্মক প্রভাব, ম্যাচ নির্ধারণকারী অবদান এবং ধারাবাহিকতাকেও বিচার করা উচিত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মেসি রদ্রির তুলনায় এগিয়ে ছিলেন, এমনটাই মত প্রকাশ করেন তারা।

অন্যদিকে, রদ্রির পক্ষে শক্ত যুক্তিও রয়েছে। ফিফার কারিগরি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, স্পেনের খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণ থেকে আক্রমণের সংযোগ স্থাপন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া এবং বল বণ্টনে রদ্রির ভূমিকা অসাধারণ ছিল। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন শুধুমাত্র একটি গোল হজম করেছে এবং রক্ষণাত্মক আধিপত্যের কেন্দ্রে এই মিডফিল্ডার ছিলেন। তিনি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭৫৩টি পাস সফলভাবে সম্পন্ন করেন (৯৪ শতাংশ সফলতা) এবং ফাইনালে ১০৫ পাসে ১০১টি সফল করেন। ৮০ শতাংশ সময়ে তিনি প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেননি। গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকলেও তার ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের প্রভাব স্পষ্ট ছিল।

স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া পুরস্কার ঘোষণার পর রদ্রির পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘সবকিছু শুধু গোল বা অ্যাসিস্ট দিয়ে বিচার করা যায় না। রদ্রি আমাদের নেতা। মাঠে সে যা করেছে, সেটাই আমাদের বিশ্বকাপ জেতার ভিত্তি।’

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, গোল্ডেন বলের মানদণ্ড কি পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের মতে, মেসির আক্রমণভাগে প্রভাব ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় গল্প, তাই ব্যক্তিগত পুরস্কারও তার প্রাপ্য ছিল। আবার অন্য একটি অংশের মত, একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের অবদান প্রায়ই পরিসংখ্যানের মধ্যে ধরা পড়ে না, তাই রদ্রির পুরস্কার প্রাপ্য।

সবশেষে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হলেও গোল্ডেন বল নিয়ে বিতর্ক থামেনি। মেসির চোখ ধাঁধানো গোল-অ্যাসিস্টের পক্ষে এবং রদ্রির অদৃশ্য কিন্তু ম্যাচ নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবের বিরুদ্ধে। ফিফা শেষ পর্যন্ত স্পেনের মিডফিল্ডারকে নির্বাচিত করলেও ফুটবল বিশ্বে এই বিতর্ক অনেকদিন আলোচনায় থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোলেস্টেরল কমাতে রসুনের ভূমিকা কতটুকু?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১০ এম


কোলেস্টেরল কমাতে রসুনের ভূমিকা কতটুকু?

রসুন বহু বছর ধরেই রান্নার একটি পরিচিত উপাদান এবং ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে অনেকে মনে করেন। বিশেষ করে, রসুন কোলেস্টেরল কমাতে পারে—এমন ধারণা বেশ প্রচলিত। তবে এই দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এর প্রভাব খুব বেশি নয়। তাই এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরলের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ অথবা প্রমাণভিত্তিক জীবনধারার বিকল্প নয়।

রসুনে থাকা অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। তাজা রসুন থেঁতো বা কুচি করলে অ্যালিসিন তৈরি হয়। এসব উপাদান রক্তনালিকে সুরক্ষা দিতে এবং শরীরে কোলেস্টেরল উৎপাদন ও বিপাকের প্রক্রিয়ায় কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব সমস্যা কমাতে সহায়ক খাবার হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খেলে মোট কোলেস্টেরল এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে এই পরিবর্তন সাধারণত সীমিত। তাই কেবল রসুনের ওপর নির্ভর করে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রসুনের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় যখন এটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার মতো অভ্যাসের সঙ্গে রসুন খাওয়া হলে তা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য বেশি সহায়ক হতে পারে।

কতটা রসুন খাওয়া যেতে পারে? কোলেস্টেরল কমানোর জন্য প্রতিদিন ঠিক কতটা রসুন খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা নেই। বিভিন্ন গবেষণায় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রসুন কিংবা রসুনের নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, টানা দুই মাস প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম রসুন গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রে কিছু উপকার মিলতে পারে।

তবে বেশি রসুন খেলেই যে বেশি উপকার হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রতিদিনের রান্নায় এক থেকে দুই কোয়া রসুন যোগ করাই যথেষ্ট। সর্বোপরি, রসুনকে একক সমাধান হিসেবে নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই শ্রেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুপুরের খাবারের পরে মাথাব্যথার কারণ জানুন এবং সমাধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৫ এম


দুপুরের খাবারের পরে মাথাব্যথার কারণ জানুন এবং সমাধান

দুপুরের খাবার শেষে অনেকের চোখে ঘুম নেমে আসে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, এ সময় শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা, যা তাদের দৈনন্দিন কাজের গতি বিঘ্নিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাঞ্চের পর রক্তে শর্করার স্তরের দ্রুত ওঠানামা, বদহজম, পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘ সময় খালি থাকার মতো কিছু কারণ মাথাব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে।

অতিরিক্ত পরিমাণে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার স্তর দ্রুত বাড়ে এবং পরে হ্রাস পায়, যা ক্লান্তি ও মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। এর পাশাপাশি পনির, চকোলেট, এমএসজি-যুক্ত খাবার, অতিরিক্ত চা-কফি বা অ্যালকোহল অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের উপসর্গগুলোকে উসকে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, দুপুর ১টার পরে খাবার খেলে, তার আগে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। বিকেলে হালকা স্ন্যাকস খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং যদি প্রয়োজন হয়, নুন-চিনি মিশ্রিত শরবত পান করাও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি কিছু সময় স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়া এবং তীব্র রোদ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাথাব্যথা কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পরিবর্তে নিয়মিত অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাও উপকারী।

তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া, কপালে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, হালকা গরম সেঁক দেওয়া অথবা আদা চা খাওয়াও কার্যকর হতে পারে। তবে যদি মাথাব্যথা বারবার হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয় অথবা বমি, ঝাপসা দেখা কিংবা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে লাঞ্চের পরবর্তী মাথাব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%