০২:০৫ এম
২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি জিতেছেন। তবে পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে তুমুল। কারণ, পুরো টুর্নামেন্টে রদ্রি একটি গোলও করেননি এবং কোনো অ্যাসিস্টও নেই। অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানোর জন্য সহায়তা করেছিলেন। ফলে অনেক সাবেক ফুটবলার, বিশ্লেষক ও সমর্থক মনে করছেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে গোল্ডেন বলের সবচেয়ে বড় দাবিদার মেসিই।
পরিসংখ্যানও এই দাবিকে দৃঢ় করছে। গোল (৮) এবং অ্যাসিস্টে (৪) মেসি ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। গোল তৈরির ক্ষেত্রেও মেসি শীর্ষস্থানীয়দের একজন ছিলেন। আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার সরাসরি অবদান ছিল। সেমিফাইনাল পর্যন্ত মেসি নিয়মিত ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন এবং দলের ফাইনালে উত্তরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: টিভিতে আজকের খেলা: নিউজিল্যান্ড-ভারত টি–টোয়েন্টি সিরিজ শুরু
বিশ্বকাপের পরে বিভিন্ন টেলিভিশন বিশ্লেষণেও সাবেক কিছু তারকা মেসির পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, গোল্ডেন বলের মতো পুরস্কারে শুধুমাত্র দলগত সাফল্য নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টে একজন খেলোয়াড়ের আক্রমণাত্মক প্রভাব, ম্যাচ নির্ধারণকারী অবদান এবং ধারাবাহিকতাকেও বিচার করা উচিত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে মেসি রদ্রির তুলনায় এগিয়ে ছিলেন, এমনটাই মত প্রকাশ করেন তারা।
অন্যদিকে, রদ্রির পক্ষে শক্ত যুক্তিও রয়েছে। ফিফার কারিগরি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, স্পেনের খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণ থেকে আক্রমণের সংযোগ স্থাপন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া এবং বল বণ্টনে রদ্রির ভূমিকা অসাধারণ ছিল। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন শুধুমাত্র একটি গোল হজম করেছে এবং রক্ষণাত্মক আধিপত্যের কেন্দ্রে এই মিডফিল্ডার ছিলেন। তিনি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭৫৩টি পাস সফলভাবে সম্পন্ন করেন (৯৪ শতাংশ সফলতা) এবং ফাইনালে ১০৫ পাসে ১০১টি সফল করেন। ৮০ শতাংশ সময়ে তিনি প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেননি। গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকলেও তার ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের প্রভাব স্পষ্ট ছিল।
স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া পুরস্কার ঘোষণার পর রদ্রির পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘সবকিছু শুধু গোল বা অ্যাসিস্ট দিয়ে বিচার করা যায় না। রদ্রি আমাদের নেতা। মাঠে সে যা করেছে, সেটাই আমাদের বিশ্বকাপ জেতার ভিত্তি।’
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, গোল্ডেন বলের মানদণ্ড কি পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের মতে, মেসির আক্রমণভাগে প্রভাব ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় গল্প, তাই ব্যক্তিগত পুরস্কারও তার প্রাপ্য ছিল। আবার অন্য একটি অংশের মত, একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের অবদান প্রায়ই পরিসংখ্যানের মধ্যে ধরা পড়ে না, তাই রদ্রির পুরস্কার প্রাপ্য।
আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক
সবশেষে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হলেও গোল্ডেন বল নিয়ে বিতর্ক থামেনি। মেসির চোখ ধাঁধানো গোল-অ্যাসিস্টের পক্ষে এবং রদ্রির অদৃশ্য কিন্তু ম্যাচ নিয়ন্ত্রণকারী প্রভাবের বিরুদ্ধে। ফিফা শেষ পর্যন্ত স্পেনের মিডফিল্ডারকে নির্বাচিত করলেও ফুটবল বিশ্বে এই বিতর্ক অনেকদিন আলোচনায় থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন